kalerkantho

25th march banner

প্রাণের মেলা আজ শুরু

নওশাদ জামিল   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রাণের মেলা আজ শুরু

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় গতকাল স্টল গোছানোর ব্যস্ততা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলা একাডেমি সেজেছে বর্ণিল রূপে, পাশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেগেছে সাজসজ্জার রোশনাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে দোয়েল চত্বর—সর্বত্র উৎসবের আবহ। এ উৎসব বাঙালির প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ ঘিরে। লেখক-প্রকাশক-পাঠকের অপেক্ষার পালা ঘুচিয়ে আজ বুধবার শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ভাষা শহীদদের স্মৃতি বিজরিত ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন আজ বিকেল ৩টায় গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলা একাডেমি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আয়োজন করে আসছে বাঙালির এ প্রাণের মেলা। এবারে প্রায় চার লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে বসছে গ্রন্থমেলা। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবার ‘সম্প্রীতির জন্য সাহিত্য’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন দেশের ছয়জন বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবীকে ‘আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন লেখক সম্মাননা ২০১৭’ প্রদান করা হবে। সম্মেলনে জার্মানি, চীন, রাশিয়া, ভারতসহ সাতটি দেশের মোট ২৭ জন বিশিষ্ট কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও বুদ্ধিজীবী অংশগ্রহণ করবেন।

আয়োজকরা জানান, উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চীনের প্রখ্যাত গবেষক ও রবীন্দ্র অনুবাদক ডং ইউ চেন,

অস্ট্রিয়ার মেনফ্রেড কোবো, পুয়ের্তোরিকোর লুস মারিয়া লোপেজ, ভারতের চিন্ময় গুহ প্রমুখ। প্রকাশক-প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেবেন লেখক-প্রকাশক মফিদুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতি সচিব বেগম আক্তারী মমতাজ। স্বাগত ভাষণ দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬ প্রদান করা হবে।

এবার মেলায় একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মোট ৪০৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৩টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা একাডেমিসহ ১৫টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মোট ছয় হাজার বর্গফুট আয়তনের ১৫টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১০০টি লিটল ম্যাগাজিনকে বর্ধমান হাউসের দক্ষিণ পাশে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যাঁরা বই প্রকাশ করেছেন তাঁদের বই বিক্রি/প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বই ৩০ শতাংশ কমিশনে এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বইমেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে এবারও থাকছে শিশু কর্নার। এই কর্নারকে শিশু-কিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারও ‘শিশুপ্রহর’ ঘোষণা করা হবে। শিশু কর্নারে এবার নতুন সংযোজন ‘মাতৃদুগ্ধ সেবাকেন্দ্র’। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। মেলায় আগত মানুষের বসার স্থানসহ নান্দনিক ফুলের বাগানও নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রন্থমেলায় টিএসসি, দোয়েল চত্বর দিয়ে দুটি মূল প্রবেশপথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বের হওয়ার আটটি পথ থাকবে। এবারই প্রথম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন নতুন সুপ্রশস্ত গেট নির্মাণ করা হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলা এলাকায় আড়াই শ ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রন্থমেলা সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

আয়োজকরা জানান, ৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে নাটক মঞ্চায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

বইমেলার নতুন বিন্যাসে অধিকাংশ স্টল পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে আনা হয়েছে। টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের মূল প্রবেশপথে এলইডি মনিটর স্থাপিত থাকবে। এখান থেকে মেলা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য/নির্দেশনা পাওয়া যাবে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘নতুন বইয়ের প্রদর্শশালা’ করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রকাশিত নতুন বই দিনভিত্তিক সাজানো থাকবে।


মন্তব্য