kalerkantho


কিডনি প্রতিস্থাপন

বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর হাত ধরে আসছে কৃত্রিম কিডনি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর হাত ধরে আসছে কৃত্রিম কিডনি

কিডনিজনিত অসুস্থতা বিশ্বের অন্যতম যন্ত্রণাদায়ক স্বাস্থ্যগত সমস্যা। আর এই চিকিৎসা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী একজন মার্কিন জৈব-প্রকৌশলীর নেতৃত্বে কৃত্রিম কিডনি প্রতিস্থাপন গবেষণা বর্তমানে শেষ পর্যায়ে। সে সুবাদে আগামী ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বের লাখ লাখ রোগী সাশ্রয়ী মূল্যে কৃত্রিম কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।

ভারতের চেন্নাইয়ে আন্তর্জাতিক কিডনি সম্মেলনের সাইডলাইনে বার্তা সংস্থা বাসসের সঙ্গে কথা বলেন ৪৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বায়ো-ইঞ্জিনিয়ার ড. শুভ রায়। তিনি বলেন, বৃহদাকার প্রাণীর দেহে কৃত্রিম কিডনি প্রতিস্থাপনে খুবই ইতিবাচক ফল মিলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী তিন বছরে মানবদেহে কৃত্রিম কিডনির পরীক্ষামূলক প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হবে।

কিডনি অকার্যকর হওয়া বা কিডনিজনিত রোগের শেষ পরিণতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ১৫ বছর ধরে চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে তাঁর গবেষকদলের একনিষ্ঠ গবেষণা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

শুভ রায় বলেন, ‘কিডনিজনিত রোগে ডায়ালিসিস বা প্রতিস্থাপনের মানসম্মত বিকল্প হচ্ছে কৃত্রিম কিডনি। কফির কাপ আকারের যন্ত্রটি মানবদেহে স্থাপন করা হবে—যা সংশ্লিষ্ট রোগীর রক্ত সঞ্চালক অঙ্গ ও ক্ষতিগ্রস্ত কিডনির কাছেই সংযুক্ত থাকবে। এই কৃত্রিম কিডনি হরমোন তৈরি, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্ত পরিশোধনসহ অধিকাংশ জৈবিক কাজ সম্পন্ন করবে। আর এই জৈব-যান্ত্রিক ডিভাইসটির মূল্য কিডনি প্রতিস্থাপন বা ডায়ালিসিস খরচের চেয়ে যথেষ্টই কম হবে। ’

এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘কৃত্রিম কিডনি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই একটি জৈব-যন্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হবে এবং সে লক্ষ্যেই আমাদের প্রচেষ্টা এগিয়ে চলছে। চলমান পরীক্ষা ও গবেষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে, কোনো রকম নিষ্ক্রিয়তা ছাড়াই ডিভাইসটি বহু বছর চলা সম্ভব। এই কৃত্রিম ডিভাইস বা অঙ্গটি কোনো কারণে অকার্যকর হয়ে পড়লেও সামান্য অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এর ছাঁকনি বা কোষ প্রতিস্থাপন করা যাবে। ’

ড. শুভ রায় বলেন, ‘আমাদের যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয় তাহলে আশা করছি ২০১৭ সাল শেষ হওয়ার আগেই একটি ডিভাইস ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত হবে এবং ২০২০ সাল নাগাদ তা সম্পন্ন হবে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলো শেষ হওয়ার পর দ্রুতই ডিভাইসটি রোগীদের জন্য সহজলভ্য হবে। ’

যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ‘বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড থেরাপিউটিক সায়েন্সেস’ বিভাগের (ইউসিএসএফ) অধ্যাপক শুভ রায় বর্তমানে ‘মাল্টি-ইনস্টিটিউশনাল কোলাবরেটিভ কিডনি প্রজেক্ট’-এর টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে ভ্যান্ডারবিল্টের মেডিসিন বিভাগের ড. উইলিয়াম ফিসেল এই প্রকল্পের মেডিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের চিকিৎসক ডা. অশোক রায় ও রত্না দত্তের দুই ছেলে এবং এক মেয়ের মধ্যে শুভ রায় বড়। তাঁর জন্ম ১৯৬৯ সালে ঢাকায়। তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীর একটি বিদ্যালয়ে। পরে বাবার চাকরি সূত্রে উগান্ডায় চলে যান এবং সেখানে লেখাপড়া করেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নরদার্ন ওহিও স্টেটে চলে যান এবং সেখান থেকে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।


মন্তব্য