খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে জালিয়াতির অভিযোগে ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২২ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। অন্য ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে নিউমার্কেট থানার পুলিশ।
নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পরীক্ষা চলাকালে অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোনসহ হলে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ৫০ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে গতকাল সকাল ১১টার দিকে ঢাকা কলেজে খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এক পর্যায়ে পরীক্ষা পরিদর্শনে আসা ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল্লাহর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ৫০ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ২৮ জনকে এবং ঢাকা কলেজের মূল ফটকের বাইরে থেকে ২২ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৪৫ ও ২৫৮ ধারায় অন্তত ১৬ জনকে এক থেকে সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, পরীক্ষার সময় সন্দেহজনক মনে হওয়া ব্যক্তিদের তল্লাশি করে তাঁদের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে মেসেজ চালাচালির তথ্যও পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরীক্ষার প্রশ্ন স্ক্যান করে বাইরে পাঠানো হয়েছিল এবং সেখান থেকে উত্তর সরবরাহ করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একদলকে কলেজের মূল ফটকের বাইরে এবং আরেক দলকে পরীক্ষার হল থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের পৃথক কক্ষে রেখে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা ম্যাজিস্ট্রেট গ্রহণ করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

