kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


দুদক চেয়ারম্যান বললেন

ঘুষখোরদের জন্য ২০১৭ হবে আতঙ্কের বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঘুষখোরদের জন্য ২০১৭ হবে আতঙ্কের বছর

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ফাঁদ পেতে ঘুষখোরদের ধরতে দুদকের কার্যক্রম আরো শক্তিশালী হচ্ছে। সরকারি সেবাদানকারী যেসব প্রতিষ্ঠানে ঘুষ লেনদেনের জনশ্রুতি রয়েছে সেগুলোতে দুদকের ফাঁদ প্রতিনিয়ত পরিচালিত হবে। দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোরদের জন্য ২০১৭ সাল হবে আতঙ্কের বছর।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে গতকাল বুধবার এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান। দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ ও সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি চাকুরেদের উদ্দেশ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘নিয়মনীতি মেনে কাজ করবেন। দুর্নীতির বেড়াজালে আবদ্ধ হবেন না। ঘুষ গ্রহণ করবেন না। ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহণকারী একই অপরাধে অপরাধী। ’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সারা দেশে বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতিবাজদের ধরার পাশাপাশি নিজের ঘর ঠিক রাখার কাজও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। কিছু অভিযোগ আমলে নেওয়ার চেষ্টা করছি এবং দুদকের অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে গত বছর কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। কাউকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, কিছু বিভাগীয় মামলা চালু হয়েছে এবং কিছুসংখ্যককে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। ’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘চলতি বছর হবে দুর্নীতিবাজদের জন্য আতঙ্কের বছর। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এ বছর দুদকের গণশুনানি বাড়ানো হয়েছে। প্রতি মাসে তিনটি করে জেলা ও উপজেলায় দুদকের গণশুনানি হবে। শুধু তাই নয়, গণশুনানির তিন দিনের মধ্যে ফলোআপ শুনানি করা হবে, যেখানে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই দুর্নীতির সব ঘাট বন্ধ করতে। ’ এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির কারণে এসডিজি অর্জনে সরকারকে পিছিয়ে পড়তে হয়। কেননা দুর্নীতির কারণে ২২.৩ শতাংশ জিডিপি চলে যায়। ’

দুদকের কার্যক্রম আরো মানসম্মত ও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারি প্রতিষ্ঠান এবং দেশের সঙ্গে কাজ করবে দুদক। এমন তথ্যের উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদকের জন্য ইতিমধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক পাঁচ লাখ ডলার অনুদান অনুমোদন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই দুদকের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে গত মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছে। এ ছাড়া ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, হংকং, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, মঙ্গোলিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয় বিবেচনাধীন। ’

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মামলা প্রসঙ্গে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের দুই হাজার ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৫৬টি মামলার চার্জশিট দিতে সময় লাগছে সঠিক তদন্তের জন্য। নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যেন যুক্ত না হয়, কিংবা কোনো অপরাধী পার না পায় সেদিকে নজর রেখে তদন্ত করতে হচ্ছে কমিশনকে। এ ছাড়া বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মামলা একটি বড় বিষয়। গত বছরের মার্চে মামলা হওয়ার পর থেকে বেসিক ব্যাংকে নগদ জমা পড়েছে ৩৫৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে তিন হাজার ৪২ কোটি টাকা। ’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রশাসন ক্যাডার বা অন্য কোনো বিশেষ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রতি দুদকের কোনো দুর্বলতা নেই। ফৌজদারি অপরাধী যেই হোক তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে। দুর্নীতি মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও কেউ দায়মুক্তি পেয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে অভিযোগের প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেবে দুদক। ’

দুদকের কার্যক্রমের গত দুই বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ২০১৫ সালে মামলা করা হয়েছে ৫২৭টি। এর মধ্যে ফাঁদ মামলা চারটি ও আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে ৬১৪টির। মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১৮৮টি। এর মধ্যে সাজা হয়েছে ৬৯টিতে এবং আসামি খালাস পেয়েছে ১১৯টি মামলায়। ২০১৬ সালে মামলা করা হয়েছে ৩৩৯টি। এর মধ্যে ফাঁদ মামলা ১৩, আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে ৫২৮টির এবং আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ২১৪টি। এগুলোর মধ্যে সাজা হয়েছে ১১৬টিতে এবং আসামি খালাস পেয়েছে ৯৮টি মামলায়। আগের বছরের তুলনায় গত বছর সাজার পরিমাণ বেশি।


মন্তব্য