kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সুন্দরবন এলাকায় শিল্প

ভেবেচিন্তে অনুমতির পক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগ

আরিফুজ্জামান তুহিন   

১২ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভেবেচিন্তে অনুমতির পক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগ

সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে গেলে ওই অঞ্চলে ব্যাপক শিল্পায়ন হবে। এতে সুন্দরবনের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়বে। এ কারণে ওই অঞ্চলে শিল্প-কারখানার অনুমোদন দেওয়ার আগে বিষয়গুলো পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে আমলে নেওয়ার অনুরোধ জানাবে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত রবিবার বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে তিনটি দেশকে প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছে। দেশ তিনটি হলো ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। এসব কয়লায় কম সালফার থাকবে। গত রবিবার এক বৈঠকের পর ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কম্পানির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে ভারতের জ্বালানিসচিব অনীল স্বরূপ বাংলাদেশে কয়লা বিক্রির বিষয়ে ভারতের প্রচেষ্টার কথা দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে দেশের পরিবেশবাদীরা বিষয়টির সমালোচনা করে আসছিলেন। কারণ ভারতের কয়লায় বেশি সালফার থাকে।

বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে সম্ভাব্য শিল্পায়নের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর ফলে সুন্দরবনের ওপর কী ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে তার বিস্তারিত সমীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এলে বাগেরহাট স্পেশাল ইকোনমিক জোন ঘিরে ব্যাপক শিল্পায়ন হবে। এ ছাড়া মোংলায়ও রয়েছে একটি ইপিজেড (এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন)। বিদ্যুতের অভাবে এটি পুরোদমে চালু হচ্ছে না। রামপাল চালু হলে মোংলা ইপিজেডও সক্রিয় হয়ে উঠবে। এসব কারখানা সুন্দরবনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। তাই সেখানে শিল্প-কারখানা নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার সময় এসব বিষয় ভেবে দেখার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ রামপাল প্রকল্প সামগ্রিকভাবে সুন্দরবনের ওপর দীর্ঘ মেয়াদে কী প্রভাব ফেলবে তা নির্ণয়ের জন্য দ্রুত সমীক্ষা শেষ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলায় সব বিষয় মাথায় রেখে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ভালোভাবে জানা থাকা প্রয়োজন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি লিমিটেডের (বিআইপিসিএল) পক্ষে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জলকান্তি ভট্টাচার্য। এতে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা আমদানি করা হবে। এত দিন কয়লা আমদানি কোন দেশ থেকে করা হবে তা সুনির্দিষ্ট ছিল না। এতে আরো বলা হয়, কয়লার গ্রস ক্যালরিফিক ভ্যালু (জিসিভি) হবে ৫২০০ থেকে ৬৩০০ কেসিএল। কয়লায় ৪ থেকে ১৮ শতাংশ অ্যাশ (ছাই), আর্দ্রতা ৭ থেকে ২৪ শতাংশ এবং সালফার দশমিক ৫ থেকে দশমিক ৯ শতাংশ হবে। জানানো হয় বড় জাহাজে আকরাম পয়েন্টে কয়লা আসবে। এরপর প্রতিদিন একটি বা দুটি ঢাকনাযুক্ত জাহাজে করে মোংলা বন্দরের হারবারিয়া পয়েন্ট দিয়ে কেন্দ্রে কয়লা আনা হবে।

২৫ একরের কয়লা পুকুর হচ্ছে : বিআইপিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ছাই বিক্রি করে দেওয়া হবে। এরই মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদি কোনো কারণে ছাই অবিক্রীত থেকে যায় তাহলে ২৫ একরের একটি অ্যাশ পণ্ড বা ছাইয়ের পুকুরে তা রাখা হবে। এ পুকুরে ছাই সুরক্ষিত থাকবে বলেও বৈঠকে দাবি করা হয়।


মন্তব্য