kalerkantho


সড়ক বন্ধ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ

‘অচল’ রাজধানীতে দিনভর দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘অচল’ রাজধানীতে দিনভর দুর্ভোগ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে যোগ দিতে মিছিল করে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দখলে রাস্তার এক পাশ। আরেক পাশে তীব্র যানজট। গতকাল ফার্মগেট এলাকার চিত্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুপুর ১২টা বেজে ২০ মিনিট। কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত সড়ক থমকে আছে। জটের ভয়াবহতা দেখে বাসগুলোর জানালা দিয়ে মুখ বের করে যাত্রীরা ‘পরিস্থিতি’ বুঝতে চেষ্টা করছিল। মিরপুর ১২ নম্বরে যাওয়ার জন্য যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে উঠেছিলেন ইকবাল হোসেন। বাস সামনে যাচ্ছে না দেখে নেমে ফুটপাতে উঠলেন। ফুটপাতেও মানুষের জট। কেন এ অবস্থা জানতে চাইলে অন্য একজনের কাছ থেকে শুনলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের জন্য কোনো কোনো রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই এই অবস্থা। তাঁর মতো আরো অনেকে হাঁটছিলেন। কখন গন্তব্যে পৌঁছবেন কেউই তা বলতে পারছিলেন না। গতকাল মঙ্গলবারের ঢাকার সড়কের চিত্র ছিল এমনই।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিল গতকাল। সমাবেশ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ দুটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ১০টি সড়কে করা হয় ডাইভারশন। ফলে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে দুপুর থেকেই ঢাকা অচল হয়ে পড়ে। সমাবেশে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করে। স্বাভাবিকের চেয়ে সড়কে অতিরিক্ত গাড়ি ও যাত্রীদের চাপ—এসব কারণে সড়কে জট তীব্র রূপ নেয়। সকাল থেকেই যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মালিবাগ, মগবাজার, বিজয় সরণি, মিরপুর-১২, মিরপুর-১০, গাবতলী, বিমানবন্দর সড়ক, বনানী, শ্যামলী, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে উপচে পড়ে যানবাহন। সময় যত যেতে থাকে যানবাহনের চাপ তীব্র হতে থাকে। একপর্যায়ে রাজধানীর মহাখালী, মেয়র হানিফ উড়াল সড়ক, মগবাজার-মৌচাক উড়াল সড়কের মগবাজার-রমনা, জিল্লুর রহমান উড়াল সড়কও গাড়ির দখলে চলে যায়। মহাখালীতে যান চলাচল একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে বাস থেকে নেমে কাকলী পর্যন্ত হেঁটে আসতে হয় ওসমান আলী খানকে। শীতের বিকেলে ঘামতে ঘামতে অপেক্ষায় ঘাম শুকিয়ে যায়, এর পরও বাস পাননি। পরে হেঁটে ও রিকশায় গুলশান-২ নম্বরে পৌঁছেন।

দুপুর ১টায় পুলিশ ফার্মগেটমুখী গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় বিজয় সরণি মোড়ে। এ সময় তারা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এরপর দুপুর প্রায় ২টার দিকে জিপিও মোড়, জিরো পয়েন্টে, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে পল্টন মোড়, কাকরাইল মসজিদ মোড় থেকে মৎস্য ভবন, সোনারগাঁও থেকে শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল মোড় থেকে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর থেকে শাহবাগ, হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সদরঘাট থেকে গুলিস্তান, মতিঝিল থেকে পল্টন, আসাদ গেট থেকে এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেট-খামারবাড়ী থেকে বিজয় সরণি, মগবাজার থেকে কাকরাইল সড়কে যান ও জনজটে অচলাবস্থা তৈরি হয়।

রাজধানীতে ওয়াসা, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নকাজের জন্য গড়ে সড়কের এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এর ওপর কোনো কর্মসূচি হলেই সড়কে যানবাহনের বাড়তি চাপ কিংবা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলেই অচল হয়ে পড়ছে পুরো রাজধানী। গতকাল যানজটের পাশপাশি তীব্র সংকট ছিল গণপরিবহনের। সমাবেশের জন্য বাস ও মিনিবাসের প্রায় অর্ধেকই ব্যবহার করতে পারেনি সাধারণ যাত্রীরা। বাসের অভাবে রাস্তায় অটোরিকশায় চলতে হয়েছে বাড়তি ভাড়ায়। গাবতলী বাস টার্মিনালে নেমে বিকেলে বাস না পেয়ে অটোরিকশায় উঠে রিয়াজ মিয়াকে বাড়তি ২০০ টাকা দিতে হয়েছে পল্লবী যেতে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্দেশনা অনুসারে, বিজয় সরণি থেকে সমাবেশে যাওয়ার গাড়িগুলো তেজগাঁও উড়াল সড়ক হয়ে সাতরাস্তা দিয়ে মগবাজার উড়াল সড়ক হয়ে কাকরাইল চার্চ মোড়, রাজমনি হয়ে নাইটিঙ্গেল থেকে ডানে মোড় নিয়ে বিজয়নগর দিয়ে জিরো পয়েন্ট হয়ে চলাচল করে। মিরপুর রোড হয়ে আসা গাড়িগুলো রাসেল স্কয়ার হয়ে সায়েন্স ল্যাব দিয়ে নিউ মার্কেট ক্রসিংয়ে বাঁয়ে মোড় নিয়ে নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে সভাস্থলে যায়। মতিঝিল, সায়েদাবাদ, সদরঘাট থেকে সমাবেশে আসা গাড়িগুলো হাইকোর্ট ক্রসিং দিয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে সভাস্থলে যায়। সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ ক্রসিং থেকে মৎস্য ভবন ক্রসিং এবং মৎস্য ভবন ক্রসিং থেকে শাহবাগ ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর ক্রসিং এবং দোয়েল চত্বর ক্রসিং থেকে টিএসসি পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকে।

দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য গাড়ির রুট নির্ধারণ করা হয়েছিল—বিজয় সরণির উত্তর বা পশ্চিমের সব যাত্রীবাহী বাস লাভ রোড হয়ে মগবাজার উড়াল সড়ক দিয়ে কাকরাইল চার্চ হয়ে রাজমনি ক্রসিং দিয়ে ফকিরাপুল বা ইউবিএল পর্যন্ত। গুলিস্তান বা মতিঝিল থেকে আসা বিজয় সরণি অভিমুখী গাড়ি নাইটিঙ্গেল দিয়ে রাজমনি ক্রসিং হয়ে কাকরাইল চার্চ দিয়ে মগবাজার উড়াল সড়ক হয়ে লাভ রোড দিয়ে বিজয় সরণির দিকে চলাচল করে। গাবতলী থেকে আসা গাড়ি মিরপুর রোড দিয়ে সায়েন্স ল্যাব হয়ে নিউ মার্কেট দিয়ে আজিমপুর হয়ে বকশীবাজার দিয়ে চানখাঁরপুল হয়ে বঙ্গবাজার দিয়ে গুলিস্তান, মতিঝিল, সদরঘাট চলে যায়।

গুলিস্তান, মতিঝিল, সদরঘাট থেকে গাবতলী অভিমুখী গাড়ি বঙ্গবাজার দিয়ে চানখাঁরপুল হয়ে বকশীবাজার দিয়ে আজিমপুর হয়ে নিউ মার্কেট দিয়ে সায়েন্স ল্যাব হয়ে মিরপুর রোড হয়ে গাবতলী চলাচলের নির্দেশনা ছিল।

 


মন্তব্য