চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের সাত দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, নওগাঁয় ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং বরগুনায় পাঁচজন ও গোপালগঞ্জে এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং কয়েকটি ঘটনায় গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্ল্যা পলাশ’কে লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনায় এক সন্দেহভাজন শ্যুটারকে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করেছে পুলিশ। কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৫) হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে একটি ওষুধের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরীর বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে। তিনি মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে এবং বেতাগী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরীর ছোট ভাই। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা কয়েকজন অস্ত্রধারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সোনাইমুড়ীতে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে ফয়েজ (৩৭) নামের এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের উত্তর শাকতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার নিহতের বাবা জামাল বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ আজিজ উল্যা (৩৫) ও কিরণ (২৭) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত চলছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের সাত দিন পর মরদেহ উদ্ধার
চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের সাত দিন পর রাফিন (২২) নামের এক ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সদর উপজেলার কুতুবপুরের অর্জুন খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাফিন আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকি এলাকার সৌদিপ্রবাসী আকতার হোসেনের ছেলে।
পরিবারের দাবি, গত ৫ জুন নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। মুক্তিপণ না পাওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নওগাঁয় ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ২
নওগাঁয় পুরনো মোবাইল ফোনসেট ও ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন জয়নুল (৩৫) ও আশরাফুল (২৬)।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার বারমাসি বিল থেকে শফিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনসেট, একটি মোটরসাইকেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বরগুনায় ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ অস্বাভাবিক মৃত্যু
বরগুনায় গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি আত্মহত্যা, একটি গণধোলাই এবং একটি জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরগুনা সদর উপজেলায় দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাথরঘাটায় মিজানুর রহমান (৪৫) নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর মৃত্যু হতে পারে।
এ ছাড়া বামনা উপজেলার কলাগাছি এলাকা থেকে এসান (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা হতে পারে।
গোপালগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধার
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরমানিকদাহ এলাকা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর শাহিন শেখ (১৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল সকালে চরমানিকদাহ গ্রামের একটি পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাহিন শেখ ঘোষেরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের রবিউল শেখের ছেলে।
রাজধানীতে পলাশ হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আসামি শনাক্ত
এদিকে রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় গত শুক্রবার ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্ল্যা পলাশ’কে লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনায় এক সন্দেহভাজন শ্যুটারকে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পলাশ বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পলাশকে খুব কাছ থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কপাল দিয়ে ঢোকা গুলি মস্তিষ্কে আঘাত করে মাথার ভেতর আটকে যায়। অস্ত্রোপচারের সময় একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার পশ্চিম রামপুরার মক্কি মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুই যুবক। পরে সহযোগীরা তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
হাতিরঝিল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
দীর্ঘ কারাবাসের পর প্রায় এক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান পলাশ। ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরে উচ্চ আদালত সেই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
পুলিশের ভাষ্য, পলাশের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এলাকায় রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটতে পারে। এতে জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁরা সবাই স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত।
তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে থানার পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন (আরএস) ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, অস্ত্রোপচারের পর পলাশকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। নিউরোসার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট ট্রেইনি চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম জানান, মস্তিষ্কের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।