kalerkantho


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়

অবসরমুখী সচিবসহ কর্মকর্তাদের কোটি টাকার সফর ‘পণ্ড’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অবসরের আগ মুহূর্তে সচিবের নেতৃত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল কোটি টাকা ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিলাসী সফরে’র যে আয়োজন করেছিল, তা স্থগিত করে দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়নশীল দেশের ভেটেরিনারি শিক্ষার ওপর জ্ঞানার্জনের জন্য আগামী ১ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত এ শিক্ষা সফরের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন প্রকল্প থেকে এই সফরের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন দেশের ভেটেরিনারি শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করে অর্জিত জ্ঞান দেশের ভেটেরিনারি শিক্ষায় কাজে লাগানো এই শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্য। কিন্তু বিস্ময়কর কাণ্ড হচ্ছে—৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলে মাত্র একজন ভেটেরিয়ান রয়েছেন। বাকিরা সবাই সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা; যাঁদের অধিকাংশই চলতি ও আগামী বছরে অবসরে যাবেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতিনিধিদলের নেতা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান খান আগামী বছরের শুরুতেই চাকরি থেকে অবসরে যাবেন। প্রতিনিধিদলের সদস্য পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি-পানিসম্পদ ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের চিফ সরদার ইলিয়াস হোসেন আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি, আইএমইডির মহাপরিচালক মো. সেফাউল আলম আগামী ১৬ ডিসেম্বর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায় আগামী ২৫ নভেম্বর ও মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান আগামী বছরের জুন মাসে অবসরে যাবেন।

সূত্র জানায়, গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৭তম বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বিদেশ সফরের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। কোটি টাকার শিক্ষা সফর থেকে ফিরে অবসরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তারা কিভাবে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন—এই প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সদস্যরা। এ নিয়ে তাঁরা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ করেন। ভেটেরিয়ানদের বাদ দিয়ে কেন অন্য কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সফরের আয়োজন তাও জানতে চাওয়া হয় বৈঠকে। কিন্তু বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা ওই সব বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে সফর স্থগিত রেখে ঘটনাটি তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক ও প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ কালের কণ্ঠকে বলেন, সংসদীয় কমিটির বৈঠকের আলোচনায় শিক্ষা সফরের কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কারণ যাঁরা কয়েক দিন পর অবসরে যাবেন তাঁদের শিক্ষা সফরে পাঠিয়ে লাভ নেই। আর এ ক্ষেত্রে ভেটেরিয়ানদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু প্রতিনিধিদল নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেটা বিবেচনা করা হয়নি। তাই মন্ত্রণালয়ও মনে করে সংসদীয় তদন্তে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শওকত আলী বাদশা জানান, কর্মকর্তাদের কোটি টাকার বিদেশ সফরের বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজুকে আহ্বায়ক করে গঠিত সাব-কমিটিতে অ্যাডভোকেট মুহম্মদ আলতাফ আলী ও শামছুন নাহার বেগমকে সদস্য রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ওই সফর স্থগিত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে।

বৈঠকে মাঠপর্যায়ে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মসূচি সম্প্রসারণ ও মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের জন্য পর্যাপ্ত যানবাহন ক্রয় করার জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। আর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ও সৌখিনভাবে হরিণ চাষের জন্য হরিণের পৃথক মূল্য নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আইলা-দুর্গত অঞ্চলের জন্য দ্রুত নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও কমিটির আগামী বৈঠক রাঙামাটিতে করার জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।


মন্তব্য