kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আইসিসিবি যেন ডিজিটাল বাংলাদেশ

জামাল হোসেইন   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আইসিসিবি যেন ডিজিটাল বাংলাদেশ

হাতে লেখা চিঠি এখন প্রায় ইতিহাস। তার জায়গা নিয়েছে মুঠোফোনের খুদে বার্তা ও ই-মেইল।

উঠে যাচ্ছে কাগুজে দরপত্রও। চলতি বছর থেকে অনলাইনে চলছে সরকারি সব দরপত্র। ফলে ঘরে বসেই টেন্ডারের কাজ করতে পারছেন ঠিকাদাররা। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চুক্তি ব্যবস্থাপনা, ই-পেমেন্টসহ অনেক কাজই স্বল্প সময়ে ও সহজে করা সম্ভব হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘এর ফলে দিন ফুরিয়ে যাবে টেন্ডারবাজদের। কমবে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অনিয়ম। ’

দেশের সব সরকারি সংস্থার ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা ও অনলাইনে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণে বড় ভূমিকা  রাখছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ও আইএমইডির সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)। এতে ই-জিপির (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) সক্ষমতা বাড়ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইইডির মতো সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। এমনই ৪০টি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৫০টি স্টল নিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) চারটি হলে গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এবারের মেলার স্লোগান হচ্ছে ‘নন-স্টপ বাংলাদেশ’। দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম এই তথ্য-প্রযুক্তি মেলার ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে আছে সফটওয়্যার শোকেসিং, মোবাইল ইনোভেশন, ই-কমার্স, ই-গভর্ন্যান্স এক্সপোজিশন, স্টার্টআপ জোন। এ ছাড়া সবচেয়ে বড় পরিসরে রয়েছে মন্ত্রণালয়গুলোর বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রম। সব মিলিয়ে আইসিসিবি যেন ডিজিটাল বাংলাদেশের এক খণ্ডচিত্র।

দেশের তথ্য-প্রযুক্তি জগতের সব মুখই এখন এখানে প্রচারণায় ব্যস্ত। থেমে নেই প্রযুক্তি সেবাদাতা কম্পানিগুলোও। তরুণ-তরুণীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন অফার ঘোষণা করছে তারা। ফলে মেলায় তরুণ-তরুণী ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ধানমণ্ডি আইডিয়াল কলেজ থেকে মেলায় এসেছে একাদশ শ্রেণির ছাত্র সৈকত আলম সজীব। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির নতুন কোনো কিছু চোখে পড়ে কি না, তা দেখতে এসেছি। এসে আমি তো খুবই অবাক। প্রথমত, বাংলাদেশে এত বড় ডিজিটাল মেলা এর আগে কখনো দেখিনি। দ্বিতীয়ত, সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে যে সত্যিই প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে, তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। সত্যি আমরা প্রযুক্তিগতভাবে অনেক এগিয়ে গেছি। ’

মেলার সামনে দুই দিকে দুটি মেগা ডিজিটাল স্ক্রিন। মাঝখানে ডিজিটাল ব্যানার। বাইরের পুরো এলাকা সেজেছে দারুণ সাজে। ভেতরে চারটি হলের সব কটিতে রয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে। ৩৫০টির মতো স্টল রয়েছে মেলায়, যার মধ্যে ১০০টি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উইংয়ের। পাশাপাশি বিশ্বের নামকরা আইসিটি কম্পানির মধ্যে মাইক্রোসফট, ফেসবুক, বিশ্বব্যাংক, জেডটিই, হুয়াই এতে অংশ নিয়েছে।

তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি ডিভিশন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রকল্পের এ আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও এটুআই। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত এ মেলা চলবে। প্রবেশে কোনো ফি নেই। আজ সন্ধ্যায় এ আয়োজন শেষ হবে।

সরকারের ৪০টি মন্ত্রণালয়ের প্রায় প্রতিটি বিভাগই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে। তবে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট স্টলে ভিড় সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে আইএমইডির সিপিটিইউয়ের ৩১ নম্বর স্টলে ই-জিপির স্পট নিবন্ধনে প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। এ ছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য ‘জয় মোবাইল অ্যাপস’, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বেশ কয়েকটি সেবা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ডিজিটাল স্বাক্ষর ও সনদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট ইন্টার-অ্যাকটিভ প্রযুক্তি দেখতে দর্শকের ঢল নেমেছে।

জানতে চাইলে আইএমইডির সিপিটিইউয়ের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত ই-জিপিতে ৬৫ হাজার ব্যক্তি নিবন্ধন করেছেন। এখানেও প্রতিদিন ই-জিপি পদ্ধতিতে নিবন্ধন চলছে। কারণ এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে ঠিকাদাররা দরপত্রে অংশ নিতে পারবেন। পাশাপাশি ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ঠিকাদার রেজিস্ট্রেশন, টেন্ডার আহ্বান, দাখিল, টেন্ডার খোলা, মূল্যায়ন, অনুমোদন ও কার্যাদেশ দেওয়াসহ টেন্ডার-সংক্রান্ত সব রকম কাজ অনলাইনে হচ্ছে। টেন্ডারের ফলাফল যে কেউ অনলাইনে দেখতে পারবেন। ’


মন্তব্য