kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লালনের গানে মন পরিবর্তন, খুনির আত্মসমর্পণ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লালনের গানে মন পরিবর্তন, খুনির আত্মসমর্পণ

বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহর গান শুনে মনে পরিবর্তন আসে। তৈরি হয় অনুশোচনাবোধ।

ফলে প্রায় সাত মাস পলাতক থাকার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন হত্যা মামলার এক আসামি। তাঁর নাম মো. রনি মুন্না (৩২)। তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরে বালু ব্যবসায়ী নুরুল আমিন হত্যা মামলার আসামি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দুর্গাপুর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন রনি মুন্না। তিনি একই জেলার পূর্বধলা উপজেলার নাটেরকোনা গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও আত্মসমর্পণকারী জানান, চলতি বছরের ১ এপ্রিল দুপুরে দুর্গাপুর পৌর শহরের উত্রাইল বাজারে বিচিত্রা গেস্টহাউস থেকে বালু ব্যবসায়ী নুর আলম ওরফে নুরুল আমিনের (৩০) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তিনি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাইজপাড়া গ্রামের আবু ছিদ্দিকের ছেলে। তিনি দুর্গাপুরে থেকে বালুর ব্যবসা করতেন।

এ ঘটনায় পুলিশ ওই দিন হোটেল সহকারী সুজন দাস ও হোটেলের সামনে পানের দোকানদার মন্তোষ দেবনাথ নামের দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। খুনের পরদিন নিহতের ভাই মো. সেলিম উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পরে হত্যায় জড়িত সন্দেহের অভিযোগে পুলিশ পূর্বধলা উপজেলার নাটেরকোনা গ্রামের রনি মুন্নাকে না পেয়ে তাঁর বাবা নজরুল ইসলামকে গাজীপুর থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল তাঁর ছেলে রনি এ হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেন।

অবশেষে ঘটনার প্রায় সাত মাস পর গতকাল সকাল ১০টার দিকে রনি মুন্না দুর্গাপুর থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি পুলিশকে বলেন, তিনি গাজীপুরের এমসিতে বাবার সঙ্গে বালুর ব্যবসা করতেন। ঘটনার ১৫ দিন আগে তিনি তাঁর স্ত্রী ও বাবার সঙ্গে ঝগড়া করে নাটেরকোনা ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং নুরুল আমিনের সঙ্গে বালুর ব্যবসায় যোগ দেন। রনি দাবি করেন, ঘটনার আগের দিন তিনি নুরুল আমিনের কাছে ৫০০ টাকা চান। নুরুল আমিন তাঁকে ৫০ টাকা দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। পরে একটি ছুরি দিয়ে তিনি নুরুল আমিনকে হত্যা করেন।

রনি জানান, তিনি খুনের আগে থেকেই বিভিন্ন মাজারে মাজারে ঘুরতেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে এলাকা ছেড়ে তিনি খুলনার মংলায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে তিনি কাজকর্ম করে খেতেন। কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতেন না। এর মধ্যে এক দিন তিনি কুষ্টিয়ায় ফকির লালন শাহর মাজারে যান। সেখানে লালনের গান শুনে এবং মাজার ঘুরে তাঁর মনে পরিবর্তন দেখা দেয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন আর পালিয়ে বেড়াবেন না। পুলিশকে সব খুলে বলবেন।  

দুর্গাপুর থানার ওসি খান মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘রনিকে খুঁজতে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন মাজারে ঘুরেছি। হঠাৎ তাঁর মনে পরিবর্তন দেখা দেওয়ায় তিনি আত্মসর্মপণ করেছেন। খুনের দায় স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ’

 


মন্তব্য