kalerkantho


কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শেখ হাসিনা

দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা আওয়ামী লীগের নীতির কারণে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা আওয়ামী লীগের নীতির কারণে

ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেখতে পাচ্ছি পুরো দেশে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে।

কারণ মানুষ জানে আওয়ামী লীগই পারবে দেশকে উন্নত করতে। দারিদ্র্য বিমোচন করতে। আজকে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন যে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে তা আওয়ামী লীগের গৃহীত নীতির কারণেই। ’

গতকাল বুধবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সম্মেলনে ছয় হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলরের তালিকা এবং গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পরিসর বাড়িয়ে ৮১ সদস্য করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভার শুরুতে সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের সবার মনে রাখতে হবে যে আমরা সংগঠন করি মানুষের কল্যাণে। দেশে হত্যা-ক্যুর রাজনীতি হয়েছে, মানুষ খুন হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন হয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় আছে বলেই উন্নয়ন হচ্ছে। ’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের উন্নয়ন করেনি। তবে আগুন সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মানুষ মারা, শিশু ধর্ষণ, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাই সৃষ্টি—এসব তারা করেছে। বাংলা ভাইকে পাহারা দিয়ে মিছিল করিয়েছে। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা কোনোভাবেই জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দেব না। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখনই কোনো পদক্ষেপ নেয়, যখনই কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কেউ মারা যায় তখন তারা হাহাকার করে ওঠে। আমি বুঝি না তাদের (জঙ্গি) জন্য এত হাহাকার কেন? সারা বিশ্বেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এমন অ্যাকশন নেওয়া হয়ে থাকে। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা টেররিজমের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছি। যারা তাদের মদদ দেয় তাদেরও রেহাই দেব না। ’

বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী করার প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধী, যুদ্ধাপরাধীদের যারা সমর্থন করবে, তাদের হাতে যারা রক্তে অর্জিত দেশের পতাকা তুলে দিয়েছে তাদেরও একদিন বিচার হবে। অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া আরেকটা অপরাধ। এটা তাদের মনে রাখতে হবে। ’

আওয়ামী লীগ সভাপতি তাঁর বক্তব্যে এর আগে আওয়ামী লীগের ঘোষণাপত্রে যেসব অঙ্গীকার ছিল তার বেশির ভাগই পূরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে ইতিমধ্যে রাশিয়া, কানাডা, ভিয়েনাসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশে এসেছেন। আরো কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি আসবেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতির বক্তব্য শেষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, রুদ্ধদ্বার বৈঠকের শুরুতেই আওয়ামী লীগের ৭৮ সাংগঠনিক জেলার কাউন্সিলর তালিকা উপস্থাপন করা হয় এবং সেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র পরিবর্তন নিয়ে নেতারা মতামত দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ওবায়দুল কাদের, কাজী জাফর উল্যাহ, নূহ-উল-আলম লেনিন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খায়রুজ্জামান লিটন প্রমুখ।

সম্মেলনের কাউন্সিলর তালিকা অনুমোদন : আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ছয় হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলরের তালিকা অনুমোদন দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। গতকাল সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় দলটির গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকের সূত্রগুলো কালের কণ্ঠকে এমন তথ্য জানিয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সভাটি মুলতবি করা হয়। ২২ ও ২৩ অক্টোবর কাউন্সিল অধিবেশন পর্যন্ত মুলতবি সভাটি যেকোনো সময় অনুষ্ঠিত হতে পারবে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের শুরুর দিকেই ৭৮ সাংগঠনিক জেলা থেকে কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো কাউন্সিলর তালিকা পর্যায়ক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্মেলনে সব মিলিয়ে ছয় হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলর থাকবেন। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারা সবাই পদাধিকারবলে কাউন্সিলর হবেন। এ জন্য যেসব কেন্দ্রীয় নেতার নাম জেলার কাউন্সিলর তালিকায়ও আছে সেগুলো বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের স্থলে জেলা থেকে প্রতিনিধি যুক্ত করতে বলেন। এ সময় শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ জেলার কাউন্সিলর তালিকায় থাকা নিজের নামটি নিজেই কেটে দেন।

কাউন্সিলর তালিকায় ঢাকা মহানগর উত্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, ফরিদপুর থেকে শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা হোসেন পুতুল ও তাঁর স্বামী খন্দকার মাসরুর হোসেনের নাম এলেও তা বাদ দিতে বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু ওরা তিনজনই চাকরিজীবী, তাই কাউন্সিলর তালিকায় ওদের রাখার দরকার নেই। ’

সূত্রগুলো জানায়, সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পরিসর বাড়িয়ে ৮১ সদস্য করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত গঠনতন্ত্র সংশোধন উপপরিষদ উত্থাপিত খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার অঙ্গীকারসংবলিত খসড়া ঘোষণাপত্রও অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। আসছে সম্মেলনে এগুলো পাস হবে।

বৈঠকে অভ্যর্থনা উপপরিষদের নেতারা জানান, সম্মেলনে এখন পর্যন্ত ১২ দেশের ৫২ জন অতিথি উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে অন্তত ১৫ জন অতিথি সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার দেশে এসেছেন রাশিয়া, কানাডা ও অস্ট্রিয়ার প্রতিনিধিরা।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বৈঠকে জানান যে কাউন্সিলের জন্য নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার (আজ) ঠিক করা হবে। এ সময় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ইউসুফ হোসেন হুমায়ূনসহ কয়েকজনের নাম নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আওয়ামী লীগ সভাপতি বৈঠক মুলতবি করে কেন্দ্রীয় কমিটির সব নেতাকে সব সময় তৈরি থাকার নির্দেশনা দেন।


মন্তব্য