kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইসি পুনর্গঠনকে ইস্যু করে মাঠে নামছে বিএনপি

শফিক সাফি   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইসি পুনর্গঠনকে ইস্যু করে মাঠে নামছে বিএনপি

বিভিন্ন ইস্যু থাকলেও মাঠে নেই বিএনপি। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে দলটি আর রাজপথে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচিতে যায়নি।

দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলটি এবার মাঠে নামার সুযোগ খুঁজছে। এ ক্ষেত্রে তারা নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনকে উপলক্ষ করতে চাচ্ছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবারের যৌথ সভা থেকে আন্দোলন কর্মসূচির ব্যাপারে দিকনির্দেশনা আসছে বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা।

বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। মাঝখানে সময় মাত্র পাঁচ মাস। সামনেই ইসি পুনর্গঠনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসবে। বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করেন, দেশব্যাপী তাঁদের যে জনপ্রিয়তা তাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হলেও তাঁরা ক্ষমতায় আসবেন। আর নির্বাচন সুষ্ঠু করার অন্যতম শর্ত ইসির নিরপেক্ষতা। তাই ইসি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দলটি সক্রিয় অংশ নিতে চায়। এতে বাধা এলে রাজপথের আন্দোলনে যাবে তারা। আন্দোলনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ৭ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করতে চাইছেন দলটির হাইকমান্ড। একাধিক নেতা জানান, আন্দোলনের মৌসুম শীতের সময়টাকে তাঁরা কাজে লাগাতে চান।

বিএনপির একাধিক নেতার মত হচ্ছে, চুপচাপ বসে থাকলে কী হয় তা দল বুঝতে পারছে। দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা এখনো বসে থাকলে সরকার আবারও ৫ জানুয়ারির মতো একটি নির্বাচন করে ফেলতে পারে। তাঁদের যুক্তি, মাঠ গরম রাখতে পারলে সরকার একতরফা সিদ্ধান্ত  নেওয়ার ক্ষেত্রে নানা হিসাব কষতে বাধ্য হবে।

পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আন্দোলনের মধ্যেই আছি। তবে চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে আমরা দল পুনর্গঠন করছি। শিগগিরই কর্মসূচি আসছে। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) দলের যৌথ সভা হবে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ওই সভা থেকে কর্মসূচির বিষয়ে একটা নির্দেশনা আসবে। ’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের একজন সহসাংগঠনিক সম্পাদক জানান, আগামী ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। ওই সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সমাবেশের অনুমতি চাইতে সামনের সপ্তাহে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর আবেদন করা হবে। এসব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার (আজ) দলের যৌথ সভা হবে। ওই সভায় কর্মসূচি অনুমোদন করা হবে।

দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের যৌথ সভার পরই বলতে পারব দল কী কর্মসূচি ঘোষণা করবে। তবে আমরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ’

জানা গেছে, ৭ নভেম্বর দিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু হলেও ঢাকাসহ দেশের প্রায় ১৯টি জেলায় সমাবেশ করার চিন্তা রয়েছে বিএনপি হাইকমান্ডের। এর মধ্য দিয়ে আবারও মাঠে ফিরে আসবে বিএনপি। আর এ সময়ের মধ্যেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূতি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো চলে আসবে।

মোহাম্মদ শাহজাহান আরো বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আর শক্ত সাংগঠনিক কাঠামো না হলে আন্দোলনের মাঠে টিকে থাকা যাবে না। তাই এ দুটি বিষয়কে সামনে রেখে আমরা এগোতে চাই। আগামী নভেম্বরের মধ্যেই সারা দেশে জেলা কমিটির কাজ প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা করা হবে। ফলে দল পুনর্গঠনের যে কাজ চলছে তা প্রায় ৮০ শতাংশই শেষ হবে। ’

সরকার বিএনপির কথা আমলে না নিলে করণীয় সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘জনগণ নিয়ে রাজপথে নামব। ধরে নেওয়া হবে সরকার কৌশলে আমাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে। আর সরকার যাতে পালানোর সুযোগ না পায় সে জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা আন্দোলনের মাঠে নামতে চাই। ’


মন্তব্য