kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কর্ণফুলী টানেল

নির্মাণকাজ শুরু ডিসেম্বরে পরামর্শকদের সঙ্গে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নির্মাণকাজ শুরু ডিসেম্বরে পরামর্শকদের সঙ্গে চুক্তি

প্রস্তাবিত নকশা

চীনের অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলে দেশে প্রথম টানেলের পূর্তকাজ শুরু হচ্ছে আগামী ডিসেম্বরে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ তদারকি ও নকশা চূড়ান্ত করতে গতকাল বুধবার দুপুরে সেতু ভবনের মিলনায়তনে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার স্ম্যাক ও ডেনমার্কের কাউই নামের দুটি সংস্থা মূল পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। তাদের সঙ্গে কাজ করবে হংকংয়ের অরূপ, বাংলাদেশের এসিই, ডেবকন ও স্ট্র্যাটেজি নামের চারটি প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এই টানেল নির্মাণে চীনের রাজধানী পেইচিংয়ে গত বছরের ৩০ জুন একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। টানেলটি নির্মাণ করবে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কম্পানি (সিসিসিসি)। সেতু বিভাগ আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের এক প্রান্ত চট্টগ্রামের পতেঙ্গার ভূমি ও অপর প্রান্ত আনোয়ারায় সার্ভিস এরিয়া চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করবে। এর পরই পূর্তকাজ শুরু হবে।

প্রায় ২৯১ কোটি টাকা মূল্যের এ চুক্তিপত্রে গতকাল বাংলাদেশ সেতু বিভাগের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী কবির আহম্মেদ এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে গ্যাভিন হ্যারং স্ট্রিড চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টানেলের বিস্তারিত নকশা রিভিউ এবং নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্ব পালন করবে।

বাংলাদেশ সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, টানেলটি হবে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ। দুই প্রান্তের সংযোগ এবং একটি এক কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারসহ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ কিলোমিটার। শিল্ড ড্রাইভেন মেথডে নির্মিতব্য টানেলটি হবে দুটি টিউবে দুই লেন করে চার লেনের।

গতকাল চুক্তি স্বাক্ষরের পর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, কর্ণফুলী টানেল বাংলাদেশের প্রথম টানেল হওয়ায় সরকার অত্যন্ত সচেতনতার সঙ্গে নির্মাণ তদারকি এবং কারিগরি বিষয়গুলো দেখছে। এ টানেল নির্মিত হলে চট্টগ্রাম হবে সাংহাইয়ের মতো ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’। এশীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগসহ টানেলটি যুক্ত করবে প্রস্তাবিত মিরসরাই-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে।

মন্ত্রী আরো জানান, এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি নদীর ওপারে চীনের সহায়তায় নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন ইপিজেড-কে সংযুক্ত করবে। বাড়বে কর্মসংস্থান, সম্প্রসারিত হবে নগরায়ণ। বদলে যাবে বৃহত্তর চট্টগ্রামের জনজীবনের চালচিত্র। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মহাসড়কে উত্তরণে বাংলাদেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ইফতেখার কবিরসহ সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য