kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চীনে ৫ দিনে একজন নতুন বিলিয়নেয়ার

আবুল কাশেম   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চীনে ৫ দিনে একজন নতুন বিলিয়নেয়ার

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন নতুন বিলিয়নেয়ারের (শত কোটি ডলারের মালিক) সংখ্যায় এবার ছাড়িয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রকে। গত বছর চীনে ৮০ জন নতুন করে বিলিয়নেয়ারের তালিকায় ঢুকেছেন।

সে হিসাবে দেশটিতে প্রতি পাঁচ দিনে একজন করে বিলিয়নেয়ার হচ্ছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিলিয়নেয়ার হয়েছেন ৪১ জন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খারাপ খবর হলো, দেশটিতে আগে যাঁরা বিলিয়নেয়ার ছিলেন, তাঁদের মধ্য থেকে ৩৬ জন গত বছর বাদ পড়েছেন। অর্থাৎ তাঁদের সম্পদ আগের চেয়ে কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় গত বছর ইউরোপে নতুন বিলিয়নেয়ার হয়েছেন বেশি, ৫৬ জন। ২০১৫ সালে এশিয়ায় চীনের বাইরে বেশি বিলিয়নেয়ার হয়েছেন হংকং ও ভারতের ব্যবসায়ীরা। হংকং ও ভারত থেকে ১১ জন করে মোট ২২ জন ব্যবসায়ী নতুন করে শত কোটি ডলারের মালিকদের গ্রুপে জায়গা পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইউবিএস ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট ও সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারসের (পিডাব্লিউসি) ‘বিলিয়নেয়ারস ইনসাইটস, ২০১৬’ শিরোনামে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। যাঁদের ১০০ কোটি ডলারের (সাত হাজার ৮০০ কোটি টাকা) সম্পদ রয়েছে, তাঁদেরই বিলিয়নেয়ার বলা হয়।

২০১৫ সালে বিশ্বজুড়ে ২১০ জন নতুন করে বিলিয়নেয়ারের তালিকায় ঢুকেছেন। এ সময়ে বাদ পড়েছেন ১৬০ জন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ জন, ইউরোপের ৪৪ জন ও ভারতের ১৬ জন বিলিয়নেয়ারের সম্পদ কমে যাওয়ায় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তাঁরা। আর ২০১৫ সালে চীনে সম্পদের দরপতনের ফলে দেশটির ৪০ জন বিলিয়নেয়ার শত কোটি ডলারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অর্থাৎ সামগ্রিক হিসাবে বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে ৫০ জন। এর আগে বিশ্বে মোট বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৩৯৭ জন, যা এখন এক হাজার ৪৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। আগের বছর তাঁদের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ৫০ জন বাড়লেও তাঁদের সম্পদমূল্য কমেছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার। বিশ্ব পুঁজিবাজার পরিস্থিতির অধঃপতন ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনের কারণে তাঁদের সম্পদ কমেছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ আগামী দুই দশকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হবে বেশি। আগামী ২০ বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়নেয়ার নিজেদের সন্তানদের মধ্যে ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন সম্পদ বণ্টন করবেন। এশিয়ার বেশির ভাগ বিলিয়নেয়ার প্রথম প্রজন্মের। ফলে তাঁদের সম্পদ প্রথমবারের মতো ভাগবাটোয়ারা হবে।

শুধু চীন নয়, নতুন বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা এশিয়ায় দ্রুত হারে বাড়ছে। ২০১৫ সালে এশিয়ার ১১৩ জন উদ্যোক্তা বিলিয়নেয়ারের তালিকায় নতুন করে জায়গা পেয়েছেন। অর্থাৎ এশিয়ায় প্রায় প্রতি তিন দিনে একজন করে বিলিয়নেয়ার গ্রুপের সদস্য হচ্ছেন। তাঁদের বেশির ভাগই তরুণ উদ্যোক্তা। এশিয়ার বিলিয়নেয়ারদের গড় বয়স ৫৩।

এশিয়ার মোট বিলিয়নেয়ারের মধ্যে চীনের হিস্যা ৭১ শতাংশ। ২০০৯ সালে এশিয়ার বিলিয়নেয়ারের মধ্যে চীনের অংশ ছিল ৩৫ শতাংশ। ২০১৪ সালেও চীনে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে এশিয়ার মোট সংখ্যার ৬৯ শতাংশ। ২০১৪ সালে চীনে নতুন করে ৯২ জন উদ্যোক্তা ১০০ কোটি ডলারের মালিক হন। অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে চীনের উদ্যোক্তারা দ্রুত হারে বিলিয়নেয়ারে পরিণত হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চীনের শত কোটি ডলার মালিকদের মধ্যে ১৫ শতাংশ বিলিয়নেয়ার কনজ্যুমার (ভোগ্য পণ্য) ও রিটেইল ব্যবসায়ী, ১৯ শতাংশ প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ী। আর ১৫ শতাংশ বিলিয়নেয়ার উঠে এসেছেন আবাসন খাত থেকে। তবে অন্য খাতে ব্যবসা করে শত কোটি ডলারের মালিক হওয়া অনেক চীনা ব্যবসায়ী এখন আবাসন খাতেও বিনিয়োগ শুরু করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০১৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কমেছে। ২০১৪ সালে এশিয়ার বিলিয়নেয়ারদের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালে তা নেমেছে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারে। মূলত ডলারের তুলনায় এশিয়ার বিভিন্ন মুদ্রার মানের অবনতির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নেয়ারদের মধ্যে বেশির ভাগই তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক খাত এবং কনজ্যুমার ও রিটেইল খাতের উদ্যোক্তা। দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা অনেক বাড়লেও এখনো শত কোটি ডলারের মালিকের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রেই বেশি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ছিল ৫৩৮। এ বছর আরো পাঁচজন যুক্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪৩ জন বিলিয়নেয়ারের মোট সম্পদের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় গত বছর ৬ শতাংশ কমেছে। ২০১৪ সালে তাঁদের সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার, যা এখন আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিশ্বে বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নেয়ারদের সম্পদের পরিমাণ ৪৭ শতাংশ। ভোগ্য পণ্যের দরপতন ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পদ ভাগাভাগির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ কমছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বিলিয়নেয়ারদের বেশির ভাগই উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে ইউবিএস ও পিডাব্লিউসি। ২০১৫ সালে ইউরোপে নতুন করে ৫৬ জন বিলিয়নেয়ারের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। সম্পদ কমে যাওয়ায় ইউরোপে বিলিয়নেয়ারের খেতাব হারিয়েছেন ৪৪ জন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপে ২০১৫ সালে বিলিয়নেয়ার বেড়েছে। ইউরোপে এখন শত কোটি ডলারের মালিক রয়েছেন ৩৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ উত্তরাধিকার সূত্রে শত কোটি ডলার বা এর বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন। ইউরোপের বিলিয়নেয়ারদের সম্পদের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় কমেছে, তবে এই কমার হার এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ কমার হারের তুলনায় বেশ কম। তাঁদের সম্পদের হার এক বছরে ৩ শতাংশ কমেছে। ইউরোপের বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পদের মূল্য এক দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।


মন্তব্য