kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্লগার অনন্ত হত্যা

অভিযোগপত্রে ত্রুটি ফের তদন্তের নির্দেশ

সিলেট অফিস   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অভিযোগপত্রে ত্রুটি ফের তদন্তের নির্দেশ

বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যা মামলায় সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকায় সেটা গ্রহণ না করে আবার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সিলেটের তৃতীয় মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক হরিদাস কুমার এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঢাকার পরিদর্শক আরমান আলী গত ২৮ আগস্ট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে চাঞ্চল্যকর এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। এই অভিযোগপত্রে উগ্রপন্থী ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীসহ ১১ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) খোকন কুমার দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকায় গতকাল আদালত শুনানি শেষে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ’

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্রে যে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব পালজুড় গ্রামের হাফিজ মঈনউদ্দিনের ছেলে মান্নান ইয়াহইয়া ওরফে মান্নান রাহি ওরফে এবি মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে ইবনে মঈন, একই গ্রামের জমসেদ আলীর ছেলে আবুল হোসেন ওরফে আবুল হোসাইন, খালপাড় তালবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে ফয়সাল আহমদ, পালজুড় গ্রামের মৃত জোয়াদুর রহমানের ছেলে আবুল খায়ের রশিদ আহমদ ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বীরেন্দ্রনগর বাগলী গ্রামের মো. আমির উদ্দিনের ছেলে হারুনুর রশিদ। তাঁদের মধ্যে মান্নান ইয়াহইয়া ও আবুল খায়ের কারাগারে আছেন; বাকিরা পলাতক।

অভিযোগপত্রে ‘অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায়’ ১১ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তাঁদের বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি। এর মধ্যে উগ্রপন্থী ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীও রয়েছেন।

যাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল তাঁরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কালীশ্রী পাড়ার ফেরদৌস-উর-রহমানের ছেলে শফিউর রহমান ফারাবী, সিলেটের দৈনিক সবুজ সিলেটের আলোকচিত্রী মো. ইদ্রিছ আলী, কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব পালজুড় গ্রামের হাফিজ মঈনউদ্দিনের ছেলে মোহাইমিন নোমান, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার রমনপুর জমাদার বাড়ির মোহাম্মদ আলীর ছেলে সাদেক আলী মিঠু, যশোরের কোতোয়ালি থানার এস এম এ করিম রোডের এ এফ রশিদুর রহমানের ছেলে মো. তৌহিদুর রহমান গামা, ঢাকার মিরপুরের জব্বার মল্লিকের ছেলে আমিনুল মল্লিক, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ কাজলার মইনউদ্দিনের ছেলে জাকিরুল্লাহ হাসান, পল্লবীর বাউনিয়াবাঁধ কলোনি ব্লিডিংয়ের তাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরফান মুসফিক, বাগেরহাটের গোয়াখালী গ্রামের রেজাউল কবির বিশ্বাসের ছেলে জুলহাস বিশ্বাস, নওগাঁর মহাদেবপুরের ডা. আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে জাফরান হাসান ও বরগুনার হেউলিবুনিয়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে আবুল বাশার।

উল্লেখ্য, গত বছর ১২ মে সকালে সিলেট নগরের সুবিদবাজার বনকলাপাড়ার নূরানী দিঘির দক্ষিণপাড়ে কুপিয়ে খুন করা হয় মুক্তমনা ব্লগার অনন্ত বিজয় দাসকে। তিনি নূরানী ১৩/১২ নম্বর বাসার বাসিন্দা রবীন্দ্র কুমার দাসের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রত্নেশ্বর দাস বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় চার ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলাটির তদন্তভার সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগকে দেওয়া হয়।


মন্তব্য