kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজধানীতে ৫০ শতাংশের বেশি লোকের সাড়া নেই

কাজী হাফিজ   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীতে ৫০ শতাংশের বেশি লোকের সাড়া নেই

জাতীয় পরিচয়ের (এনআইডি) স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের প্রথম ধাপে এখন পর্যন্ত রাজধানীর ৫০ শতাংশেরও বেশি লোকের সাড়া নেই। এ সময়ে কেউ কেউ বিতরণকেন্দ্রে গিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এ পরিস্থিতি সম্পর্কে এনআইডি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ২০০৭ সালে যাঁরা রাজধানীতে ভোটার হয়েছিলেন তাঁদের অনেকে অন্য জায়গায় রয়েছেন, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীরা। প্রচারের ঘাটতিও রয়েছে। আর যাঁরা বিতরণকেন্দ্রে গিয়ে কার্ড পায়নি তথ্যভাণ্ডারে তাঁদের বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য নেই। তথ্য সম্পূর্ণ করে তাঁরা কার্ড নিতে পারবেন।

গত ৩ অক্টোবর থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে। চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কার্ড বিতরণের কেন্দ্রগুলো হচ্ছে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, সেগুনবাগিচা হাই স্কুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে গত ৩ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত কার্ড দেওয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর থেকে সেগুনবাগিচা হাই স্কুল কেন্দ্রে কার্ড বিতরণ চলছে, চলবে আগামীকাল পর্যন্ত। উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিতরণ শুরু হবে ২২ অক্টোবর, চলবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত।

গত সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সেগুনবাগিচা হাই স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, মেশিন রিডেবল স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের জন্য পুরুষ ও মহিলা বুথে চার-পাঁচজন করে অপেক্ষা করছেন। ফুলবাড়িয়ার ৯/২ সেক্রেটারিয়েট রোডের বাসিন্দা রাহেলা, জাহানারা ও সোনিয়া আক্তার সেখান থেকে কার্ড সংগ্রহ করেন। তাঁরা জানান, বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ১০ মিনিটের মধ্যেই ১০ আঙুলের ছাপ দিয়ে ও চোখের মণির ছবি তুলে কার্ড পেয়ে গেছেন তাঁরা। তবে পরিবারের একজনের আগের কার্ড হারিয়ে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। থানায় জিডি করা হলেও নতুন কার্ডের জন্য টাকা জমা দেওয়া হয়নি। ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগে কিছুটা সময় লাগছে।

ওই কেন্দ্রের একজন কর্মী জানান, কার্ড সংগ্রহের জন্য অনেকেই আসছে না। গত ১৩ অক্টোবর তিন হাজার ৭২২টি কার্ডের মধ্যে এক হাজার ৪০৬টি এবং ১৪ অক্টোবর তিন হাজার ৩৯৮টি কার্ডের মধ্যে এক হাজার ৮৩০টি বিতরণ করা হয়। কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রচার কম। অনেকেই আসছে না।

সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রেও একই অবস্থা ছিল। গত ৩ অক্টোবর চার হাজার ১২৬টি কার্ডের মধ্যে এক হাজার ৫৪টি, ৪ অক্টোবর চার হাজার ২০৩টি কার্ডের মধ্যে এক হাজার ২০৫টি, ৫ অক্টোবর তিন হাজার ৯৭০টি কার্ডের মধ্যে এক হাজার ৭৪২টি, ৬ অক্টোবর চার হাজার ১৬৯টি কার্ডের মধ্যে এক হাজার ৮০১টি, ৭ অক্টোবর চার হাজার ১৮৪টি কার্ডের মধ্যে দুই হাজার ৮৪টি, ৮ অক্টোবর চার হাজার ৭৩৮টি কার্ডের মধ্যে দুই হাজার ৮৩টি, ৯ অক্টোবর পাঁচ হাজার ৫৫টি কার্ডের মধ্যে তিন হাজার ৪৬৭টি এবং ১০ অক্টোবর পাঁচ হাজার ৬৪টি কার্ডের মধ্যে দুই হাজার ৬৯টি বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওই দুই কেন্দ্র থেকে ৪২ হাজার ৬২৯টি কার্ডের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৮৪১টি। ২৩ হাজার ৮৮৮ জন কার্ডের খবর নেননি। ৪৩.৯৬ শতাংশ লোক কার্ড সংগ্রহ করেছে।

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখার মহাপরিচালক ও আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিস প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন বলেন, রাজধানীতে স্মার্ট কার্ড বিতরণের হার ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। প্রথম পর্যায়ে যে দুটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বাস বেশি। ২০০৭ সালে যাঁরা এসব এলাকা থেকে ভোটার হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকে অন্য জায়গায় চলে গেছেন।

যাঁরা কেন্দ্রে গিয়ে কার্ড পাচ্ছে না তাঁদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের তথ্যভাণ্ডারে একজন নাগরিকের ৪১টি তথ্য থাকে। সাধারণত ১১টি তথ্য দৃশ্যমান থাকে। কিন্তু কিছু নাগরিকের সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সে কারণে তাঁদের কার্ড ছাপা সম্ভব হয়নি। সব তথ্য দেওয়ার পর তাঁদের কার্ড ছাপা হবে। ’

মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার স্মার্ট কার্ড ছাপা হচ্ছে। সেখানে বিতরণ শুরুর সময় শিগগির জানানো হবে। আগামী সপ্তাহে ঢাকার অন্যান্য এলাকার কার্ড বিতরণের সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, প্রথম ধাপে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলা, দ্বিতীয় ধাপে খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন, তৃতীয় ধাপে ৬৪টি সদর উপজেলা ও চতুর্থ ধাপে বাকি সব উপজেলায় কার্ড বিতরণ করা হবে। গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে ও ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে বিতরণের সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে।


মন্তব্য