kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিএনপিকে ইশারা দিয়ে গেছেন শি!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিএনপিকে ইশারা দিয়ে গেছেন শি!

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে গুরুত্ব না দিয়ে বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করাকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের একটি ইশারা বলে মনে করছেন বিএনপির কোনো কোনো নীতিনির্ধারক। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচিত নয় বলে সংসদের বিরোধী দলকে গুরুত্ব দেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং।

তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মাধ্যমে শি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা বার্তা বা ইশারা দিয়ে গেছেন। ’

গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় খন্দকার মোশাররফ এ কথা বলেন। ‘চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন বার্তা’ শীর্ষক ওই আলোচনার আয়োজন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।

ড. মোশাররফ বলেন, ‘চীন জনগণের বন্ধুত্বে বিশ্বাস করে। আপনারা দেখেছেন যে রাষ্ট্রপতিরা একটা দেশে আসলে সরকারি ও বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলেন। আর বিরোধী দলকে স্বীকৃতি দেয় সেই বিরোধী দল যারা পার্লামেন্টে আছে। এটা পরিষ্কারভাবে এ দেশের জনগণকে চীনের প্রেসিডেন্ট এই ম্যাসেজ (বার্তা) দিয়ে গেলেন যে এই পার্লামেন্ট (দশম) যেহেতু নির্বাচিত পার্লামেন্ট নয়, এই পার্লামেন্টে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি বা বিরোধী দল নেই। সে জন্য বিরোধী দলকে চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কোনো গুরুত্ব দিলেন না। দিলেন কাকে, দেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী খালেদা জিয়াকে। অতত্রব এটাও আমরা মনে করি যে, চীনের মহামান্য প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং একটি বার্তা বা ইশারা এই দেশের জনগণের জন্য দিয়ে গেছেন। ’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত শুক্রবার সফররত চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ‘লা মেরিডিয়ান’ হোটেলে বৈঠক করেন।

চীনা প্রেসিডেন্টের সফরকালে চীনের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে গতকাল বিএনপি নেতা মোশাররফ বলেন, ‘দুই দেশের জনগণের উন্নয়নের স্বার্থ, দুই দেশের জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা হবে এ রকম চুক্তি অবশ্যই চীন বাস্তবায়ন করবে—সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। ’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে একটি ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আমরা আশা করি যে এ দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য চীন বাংলাদেশকে ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাতে চীন বিশাল অবদান রাখতে পারবে। ’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এক চীন নীতির সমর্থক। হংকং আজকে চীনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোনো রকম ঝগড়া-বিবাদ কিছু ছাড়াই। যেহেতু চীন সহাবস্থানে বিশ্বাস করে, তার জন্য ম্যাকাও ও হংকং স্বেচ্ছায় চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাইওয়ান এখনো চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগ দেয়নি। আমরা আশা করি, তারাও এই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে চীনকে আরো শক্তিশালী করবে। ’

ড. মোশাররফ বলেন, ‘চীনের সঙ্গে কানেক্টিভি সম্প্রসারণ করতে হবে। খালেদা জিয়ার সরকার থাকা অবস্থায় চীনের সঙ্গে আকাশপথে ঢাকা-কুম্বিং ফ্লাইট শুরু হয়েছিল, যা এখন সম্প্রসারণ হয়েছে। আমাদের সরকারের সময় প্রস্তাব ছিল, এশিয়ান হাইওয়ে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হয়ে ৩৭ কিলোমিটার নতুন রাস্তা করে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীনের হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গোটা পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলব। চীন এতে সমর্থন করেছিল। আমরা এ ব্যাপারে কাজে অগ্রসর হয়েছিলাম। আমরা আশা করি, চীন এই ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে এবং চীনের সঙ্গে কানেক্টিভির জন্য এই সিল্ক রোড বাস্তবায়ন করবে। আমাদের সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এশিয়ান হাইওয়ের রাস্তাটি বাস্তবায়ন করবে। ’ সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চারদলীয় জোট সরকারের প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। চীনও সমর্থন করেছিল। এই বন্দর হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুফল হবে, চীনও সুফল পাবে। আশা করি, এই সমুদ্রবন্দর নির্মাণ চীন বাস্তবায়ন করে বন্ধুত্বকে আরো সুদৃঢ় করবে। ’

জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন জাগপার সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার আমিনুর রহমান, আসাদুর রহমান খান প্রমুখ।


মন্তব্য