kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজউকে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিলেন ইকবাল পারভেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজউকে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিলেন ইকবাল পারভেজ

ইকবাল পারভেজ

মো. ইকবাল পারভেজ। রাজউকে সহকারী পরিচালক হিসেবে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কর্মরত ছিলেন।

এর আগে তিনি সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের মুহুরি হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর দাপটে বয়স জালিয়াতি করে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। রাজউকে যোগ দিয়েই ইকবাল পারভেজ সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি, বিশেষ করে গুলশান, বনানী ও মতিঝিলে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে মূল্যবান সম্পত্তি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আর এ কাজ করতে তিনি ভুয়া মালিক সাজিয়ে রাজউকের ফাইল গায়েব করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। এরপর তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এক কথায় ইকবাল পারভেজের উত্থান রীতিমতো আলাদিনের চেরাগকেও হার মানিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তাঁর ক্ষমতার দাপটে রাজউকের পরিচালকসহ খোদ চেয়ারম্যান, এমনকি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও সদা তটস্থ থাকতেন।

রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ফাইলপত্রআটকে রেখে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। নিজের কাছে ফাইল আটকে রেখে প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা বাধিয়ে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজির এসব টাকা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ভাগবণ্টন করে নিতেন ইকবাল পারভেজ। রাজউকের দায়িত্বশীল পদে চাকরি করলেও ইকবাল পারভেজ নিজের নামে ঠিকাদারি কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। তিনি ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে গত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দুই বছরে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তরের অন্তত ২৫টি ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। নিজের নামে এবং অন্য নামে মেসার্স ইকবাল পারভেজ, মেসার্স উষা ট্রেডার্স, মেসার্স তাহমিনা ট্রেডার্সের নামে তিনি ঠিকাদারি কাজ চালিয়ে গেছেন। ইকবাল পারভেজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো টেন্ডারে অংশ নিলে সে কাজ অন্য কারো পাওয়া অসাধ্য ছিল। প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি সহযোগিতায় ইকবাল পারভেজ শুধু ঠিকাদারি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ভুক্ত পাঁচটি বিভাগ থেকে চার শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টেন্ডারে পাওয়া ঠিকাদারি কাজগুলো না করেও তিনি কয়েক শ কোটি টাকা বিল তুলে নিয়েছেন। মাত্র তিন-চার বছরের ব্যবধানেই চক্রের তিন সদস্য একাধিক বাড়ি, গাড়ি, প্লটের মালিক হয়েছেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ে ইকবাল পারভেজের কোনো পদ না থাকলেও তিনি সহকারী পরিচালক (আইনি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরপর ইকবাল পারভেজকে তাঁর মূল নিয়োগস্থল রাজউকের সহকারী পরিচালক পদে ফেরত পাঠানো হয়। সরকারের শেষ মুহূর্তে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ঘিরে যে আখেরি লুটপাট চলে এর মূল ঘটকের ভূমিকায়ও ছিলেন ইকবাল পারভেজই। পূর্বাচল প্রকল্পে যে ১৬৮টি আদিবাস-ক্ষতিগ্রস্ত প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় তাতে অন্তত ২০ কোটি টাকার বাণিজ্য করে তা পকেটস্থ করেন তিনি। প্রতিটি প্লটের বিপরীতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। শুধু প্লট বরাদ্দ বা টেন্ডার বাণিজ্যই নয়, শেষ মুহূর্তে আবাসন প্রকল্প অবৈধভাবে অনুমোদন নিয়েও বড় ধরনের বাণিজ্য চলছে মন্ত্রণালয় ও রাজউকে। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় আর কে মিশন রোডে ২৪ তলা বাড়িসহ সরকারের কয়েক শ কোটি টাকা মূল্যের জমি হাতছাড়া হওয়ার পেছনেও ইকবাল পারভেজের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিতর্কিত ওই কর্মকর্তার মোটা অঙ্কের ঘুষ পকেটস্থ করার কারণেই সরকারকে এত বড় মাসুল দিতে হচ্ছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (আইন) পদ ব্যবহার করেই তিনি এমন অপকর্ম সাধন করতে পেরেছেন। লুটপাটের কয়েক কোটি টাকা খরচ করে রাজধানীর কদমতলীতে ইকবাল পারভেজ আলিশান বাড়িও নির্মাণ করেছেন। কদমতলীর রায়েরবাগ মহল্লার সি ব্লকে সাততলার বিশাল অট্টালিকা গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিপুল টাকার বিনিময়ে যুবলীগের পদও কিনেছেন তিনি। এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে নিজের নাম লেখাতে প্রভাবশালী নেতাদের টাকা দিয়ে কেনার চেষ্টা করছেন বলেও চাউর আছে।


মন্তব্য