kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ট্রাম্পের যৌন হয়রানির আরো অভিযোগ

‘আমি পরিস্থিতির শিকার’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ট্রাম্পের যৌন হয়রানির আরো অভিযোগ

রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন করে দু-চারটি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নোংরা রাজনৈতিক প্রচারের শিকার। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। ‘সমন্বিতভাবে’ তাঁর প্রচার কার্যক্রম ধ্বংস করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তবে ট্রাম্পের এ দাবির মধ্যেই আরো দুই মডেল একই ধরনের অভিযোগ করেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যেকোনো জনসভায় ট্রাম্প একটা বড় সময় খরচ করেন যৌন হেনস্তার অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে। এগুলোকে মিথ্যা তো বলছেনই, একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, অভিযোগকারী এত ‘সুন্দরী’ নন যে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন।

নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লোটে গত শুক্রবার এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময়ও দেখা গেল একই চিত্র। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সহকারীরা সব সময় বলেন, এটা (যৌন হেনস্তার অভিযোগ) নিয়ে কথা বলবেন না। চাকরি নিয়ে কথা বলুন, অর্থনীতি নিয়ে কথা বলুন। তবে আমি মনে করি, আমার বিষয়টি নিয়ে কথা বলা উচিত। কারণ কেউ কিছু বললে সেসব নিয়ে মানুষের মনে দ্বিধা তৈরি হয়। তারা (ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচার শিবির) মানুষের মনে বিষ ঢালছে। আমাকে এসব নিয়ে কথা বলতে হবে। ’ শুক্রবার দুটি জনসভায় যোগ দেন তিনি। দুই ক্ষেত্রেই ভোটারদের কাছে তাঁর বার্তা একই ছিল। নারীদের জোর করে চুমু খাওয়া বা অসম্মানজনকভাবে তাদের শরীরে হাত দেওয়া বা ২০০৫ সালের ভিডিও ক্লিপে যে অসম্মানজনক কথাবার্তা রয়েছে, প্রতিটি বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, ৫ শতাংশ বা ১০ শতাংশ ভোটারও যদি এই প্রচারে কান দেয়, তিনি হেরে যাবেন। তবে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলছেন কি না, সেটাই প্রশ্ন। কারণ অভিযোগকারীদের একজন জেসিকা লিডসকে ইতিমধ্যে তিনি কুিসত বলে মন্তব্য করেছেন। আরেক অভিযোগকারীকে বলেছেন নির্বোধ। পিপল নামের একটি সাময়িকীকে বয়কট করার জন্য তিনি তাঁর সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। ওই পত্রিকাটির প্রতিবেদকও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনেন। লেখিকা জানান, সাক্ষাত্কার নেওয়ার জন্য ট্রাম্পের কাছে গেলে তিনি (ট্রাম্প) তাঁকে বিনা অনুমতিতে জোর করে চুমু খান।

আরো অভিযোগ : সামার জারভোস ও ক্রিস্টিন অ্যান্ডারসন নামে দুই মডেল গত শুক্রবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ করেন। টেলিভিশনে দ্বিতীয় ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে’ ট্রাম্পকে ‘নির্দ্বিধায় মিথ্যা’ বলতে দেখে মুখ খুললেন তাঁরা। দুজনেই বলেছেন, ‘হাঙরের মতো গিলে খাওয়া স্বভাব ট্রাম্পের!’ রিপাবলিকান প্রার্থী অবশ্য সব অভিযোগই ‘একেবারে ভুয়া’, ‘আজগুবি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ট্রাম্প যা-ই বলুন, পুরনো কেলেঙ্কারিগুলো কিছুতেই পিছু ছাড়তে চাইছে না তাঁর। গত বৃহস্পতিবার দুই নারীর প্রকাশ্য অভিযোগের পর শুক্রবার ‘বোমা’ ফাটালেন এই দুই মডেল। অনেক দিন আগে মার্কিন টেলিভিশনে ‘দি অ্যাপ্রেনটিস’ নামে একটি রিয়ালিটি শো চালাতেন ট্রাম্প। কোটিপতি ট্রাম্পের সেই রিয়ালিটি শোতে আসতেন সব দামি দামি মডেল। ওই অনুষ্ঠানে কাজ করতেন সামার জারভোস। তিনি শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘হঠাৎ আমার কাজ চলে যায়। তার পরও ট্রাম্পের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। ২০০৭ সালে একদিন ট্রাম্পই আমাকে ডেকে নেন বেভারলি হিলসের একটি হোটেলে। কাজের আশায় গিয়েছিলাম। দুই-চার কথার পরেই ট্রাম্প আমাকে জোর করে চুমু খেতে শুরু করেন। কোমর জড়িয়ে ধরে আধশোয়া করে আমাকে হাঙরের মতো গিলতে চেষ্টা করেন। আমি তাঁকে জোর করে সরিয়ে দিই। ট্রাম্প প্রভাবশালী বলে আমি এত দিন ভয় পেয়ে কিছু বলিনি। এখন টেলিভিশনে এভাবে মিথ্যা বলতে দেখে আর থাকতে পারলাম না। ’ দ্বিতীয় ‘বোমা’টি শুক্রবারই ফাটিয়েছেন আরেক মডেল ক্রিস্টিন অ্যান্ডারসন। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ক্রিস্টিন দাবি করেন, ১৯৯০-৯১ সালে ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেন। শুক্রবারই মার্কিন দৈনিক ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওটি শুট করা হয়েছিল ট্রাম্পের তিন নম্বর বিয়ের কিছু আগে। ২০০৪ সালে। তাতে দেখা যায়, ট্রাম্প বেশ মজা করে একজনকে বলছেন, তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের ঠিক আগেকার কথা, “আমি আমার স্ত্রী (প্রথম স্ত্রী ইভানা ট্রাম্প) আর যাকে বিয়ে করব সেই মহিলাকে (ট্রাম্পের দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলস) নিয়ে গেলাম একটা পাহাড়ে। সেখানে একটি রেস্তোরাঁয় বসে মজা দেখছিলাম। আমাকে দেখিয়ে দুজনই ‘ওকে ভালোবাসি, ওকে ভালোবাসি, তুমি কি ডাইনি’ বলে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে শুরু করে দেয়! আমার খুব ভালো লাগছিল! এই ওদের স্বভাব!”

হিলারির সর্বোচ্চ তহবিল সংগ্রহ : এক রাতেই বিপুল অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করেছেন হিলারি ক্লিনটন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বেভারলি হিলসে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন শতাধিক ব্যক্তি। প্রত্যেকে হিলারির তহবিলে ৩৩ হাজার ৪০০ ডলার করে দান করেন। এই অনুষ্ঠানে হলিউড তারকারাও উপস্থিত ছিলেন। সংগীত পরিবেশন করেন এলটন জন। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, এএফপি, এনবিসি।


মন্তব্য