kalerkantho


তিস্তায় নারাজ মমতা

তিন অভিযোগ তুলে মোদিকে তা আগে মেটানোর দাবি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



তিন অভিযোগ তুলে মোদিকে তা আগে মেটানোর দাবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজি থাকলেও তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে এখনো নারাজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ক্ষেত্রে তিনটি কারণ উল্লেখ তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ।

ইতিমধ্যে তাঁর পক্ষ থেকে চিঠি লিখে কারণগুলো কেন্দ্রকে জানানোও হয়েছে। এমন খবর দিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের গোয়া সফরে যাচ্ছেন। সেখানে আগামীকাল রবিবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি উঠতে পারে। তার আগে তিস্তা চুক্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। মমতা তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিশেষত উত্তরবঙ্গের কথা ভেবেই তিনি এখনো তিস্তা চুক্তিতে সই করতে রাজি নন। আর মোদি সরকার তিস্তা চুক্তি রূপায়ণের আগে পশ্চিমবঙ্গের কথা ভেবে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে আপত্তির কারণ হিসেবে মমতা প্রধানত তিনটি কারণকে অভিযোগ আকারে সামনে এনেছেন।

মমতার নির্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে এসব অভিযোগ জানিয়ে ইতিমধ্যে চিঠিও লিখেছেন মুখ্যসচিব। অভিযোগে প্রথমত বলা হয়েছে, সিকিমে ছোট-বড় শতাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি আটটি বড় বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। এতে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির সংকট হচ্ছে। আবার বর্ষা মৌসুমে ওই সব বাঁধ বাঁচাতে সিকিম পানি ছেড়ে দিচ্ছে। ফলে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা ভেসে যাচ্ছে। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিঙের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন মমতা। নরেন্দ্র মোদি, সুষমা স্বরাজ এবং রাজনাথ সিংকেও তিনি বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে একসঙ্গে বসিয়ে তিস্তা নিয়ে কোনো বৈঠক করেননি মোদি। কেন্দ্র থেকে সিকিমকে বাঁধের ব্যাপারে কোনো ধরনের সতর্কও করা হয়নি।

দ্বিতীয়ত, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি সংকটের জন্য উত্তরবঙ্গে যাতে পানির সমস্যা না হয় সে জন্য ছোট ছোট জলাধার গড়ার কথা বলা হয়েছিল। প্রস্তাবটি দিয়েছিল মমতা নিযুক্ত নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র কমিটি। কিন্তু কেন্দ্র বিষয়টিন নিয়ে উদ্যোগী হয়নি। উত্তরবঙ্গে বিকল্প পানি প্রকল্পের জন্য কোনো বিশেষ আর্থিক বরাদ্দও মেলেনি।

তৃতীয়ত অভিযোগটি করা হয়েছে ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে। বলা হয়েছে, ফারাক্কায় বাঁধের ফলে ভাগীরথী নদীর পানির একটি বড় অংশ বাংলাদেশে চলে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত হয়। এখন তিস্তা নিয়েও নানা সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া তিস্তার জন্য কার্সিয়াং, কালিম্পংসহ নানা জায়গায় প্রায়ই ধস নামছে।

মমতার বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো আগে সমাধান করুক। তারপর অন্য কথা।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে সর্বশেষ বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে তিস্তা চুক্তির জট কাটার পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। নরেন্দ্র মোদি চাইলেও মমতার মত না মিললে এই চুক্তি সই হবে না। ইউপিএ সরকারের আমলে মনমোহন সিং ও তাঁর শীর্ষ আমলারা মমতাকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এবারও শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি তাঁকে আশ্বাস দিতে পারেন যে তিস্তা নিয়ে তিনি মমতার সঙ্গে কথা বলবেন। হয়তো দুজনে পরবর্তী সময়ে কথাও হবে। কিন্তু তাতেও মমতার রাজি হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।


মন্তব্য