kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মানবতাবিরোধী অপরাধ

কথিত পীর বন্দে আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কথিত পীর বন্দে আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

মানিকগঞ্জের কথিত পীর বন্দে আলী মিয়ার বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার নির্দেশে গোয়েন্দা বিভাগ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।

তদন্তের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বন্দে আলী মিয়ার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রাথমিক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে।

নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করতে না পারলেও মনিরুল ইসলাম জানান, প্রায় দেড় মাস আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে তদন্তের বিষয়ে তাঁরা চিঠি পেয়েছেন। তবে কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, বন্দে আলীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে বন্দে আলী মিয়ার বিরুদ্ধে আলাদা দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একটির বাদী হয়েছেন শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের মো. হারুন নুর রশিদ। অন্যটির বাদী একই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মো. মহিউদ্দিন।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, মু্ক্তিযুদ্ধের সময় বন্দে আলী ছিলেন শিবালয় এলাকার আলবদর বাহিনীর আহ্বায়ক আবদুল রশিদ শেখের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’। শফিক আহমেদ সম্পাদিত ‘একাত্তরের দালালেরা’ প্রথম খণ্ডে ৫৭০ ক্রমিকে আবদুল রশিদের নাম রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ট্রাস্টি ও প্রকল্প পরিচালক মফিদুল হক প্রকাশিত ছাত্রছাত্রীদের সংগৃহীত মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য সংগ্রহ তালিকা ১৬তম সংখ্যার ৫২ পৃষ্ঠায় বন্দে আলী মিয়া সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে। এ ছাড়াও বন্দে আলী সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে জনকণ্ঠ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘সেই রাজাকার’ বইয়ে।

হারুন নুর রশিদ দিন তারিখ উল্লেখ করে বন্দে আলী মিয়ার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে তাঁদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া, তাঁর বোনকে তুলে নিয়ে আলবদর নেতা রশিদ শেখের হাতে তুলে দেওয়া, গ্রামের বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবারের ওপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বন্দে আলীর নেতৃত্বে হত্যা করা হয় অজয় চক্রবর্তী, সুবল সরকার, হিরু সাহা, কটু সাহা ও গোপাল সরকারকে। এই আলবদর নেতার অত্যাচারে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয় ২০টি হিন্দু পরিবার।

মুক্তিযোদ্ধা মো. মহিউদ্দিন অভিযোগ করেছেন, বন্দে আলীর নেতৃত্বে রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনারা মিরপুর গ্রামে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাঁদের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। সে সময় ক্যাম্পে অল্পসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান করছিলেন। প্রতিরোধ করলেও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মনছুর আলম খান আহত হওয়ায় তাঁরা পিছু হঠে আসেন। এরপর বন্দে আলীর নেতৃত্বে তাঁদের বাড়িসহ পুরো গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। চালানো হয় লুটপাট। বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় বৃদ্ধ কুকারাম মণ্ডলকে। এরপর রাজাকাররা পাশের পয়লা, ভাঙ্গাবাড়ী, মালুচী গ্রামেও হামলা ও লুটপাট চালায়। আগুন ধরিয়ে দেয় ঘরবাড়িতে।

অভিযোগ অস্বীকার করে বন্দে আলী মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে এ পর্যন্ত কোনো কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে সেই হারুন নুর রশিদই অপরাধী। এ ব্যাপারে তাঁর ভাই সোরহাব উদ্দিন মামলা করেছেন বলে বন্দে আলী দাবি করেন।


মন্তব্য