kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইডেনের সাবেক উপাধ্যক্ষ নিজ অফিসে খুন

পালিয়েছে দুই কর্মচারী পাঁচ লাখ টাকা লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ইডেনের সাবেক উপাধ্যক্ষ নিজ অফিসে খুন

রাজধানীর বনানীতে ওল্ড ডিওএইচএসে নির্মাণাধীন ভবনের অফিসকক্ষে খুন হয়েছেন ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ আলী হোসেন মালিক (৬৮)। গতকাল মঙ্গলবার তাঁর হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে ভবনের কর্মচারী সাইফুল ও তার এক ভাই পলাতক। ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক সেলিম মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা ও স্বজনরা জানান, আলী হোসেন মালিক সৈয়দ ডেভেলপার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) হিসেবে কাজ করছিলেন। কম্পানিটির মালিকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁর অনুপস্থিতিতে আলী হোসেনই ভবনের অফিসকক্ষে থেকে কাজের তদারক করতেন। গতকাল সেখানেই তাঁর লাশ পাওয়া যায়। পরে অফিসের আলমারি ভাঙা দেখা গেছে। সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ছিল, যা পাওয়া যায়নি।

তদন্তকারীরা বলছেন, টাকা লুটের জন্যই আলী হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর টাকা লুট করে দুই কর্মচারী পালিয়ে গেছে। দুষ্কৃতকারীরা প্রমাণ নষ্ট করতে অফিসকক্ষের কম্পিউটার থেকে ব্যক্তিগত তথ্যও মুছে ফেলেছে।

ভাষানটেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বনানী ওল্ড ডিওএইচএসে ২ নম্বর সড়কের ৫৩/এ নম্বরে নির্মাণাধীন বাড়ির চতুর্থ তলার অফিসকক্ষ থেকে আলী হোসেন মালিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর হাত, পা ও মুখ বাঁধা ছিল। বুকের ডান পাশ, ডান হাত, কোমরসহ শরীরে কয়েকটি স্থানে ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘অফিসরুমের লকার ভাঙা দেখা গেছে। সেখান থেকে টাকা লুট করার জন্যই হয়তো দুই কর্মচারী তাঁকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করেছে। তারা সকাল থেকে পলাতক। ’

নিহতের ছোট ভাই মবিন মালিক জানান, তাঁদের বাবার নাম হাবিবুর রহমান মালিক। বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদরের রেলপাড়া এলাকায়। তিন বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে আলী হোসেন ছিলেন মেজ। চাকরি জীবনে ইডেন মহিলা কলেজ ছাড়াও কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজে শিক্ষকতা করেছেন আলী হোসেন। অধ্যাপক হওয়ার পর তিনি ইডেন কলেজের উপাধ্যক্ষ হয়েছিলেন। শিক্ষকতায় অবসর গ্রহণ করে তিনি ঘনিষ্ঠ মো. বাবলুর মালিকানাধীন সৈয়দ ডেভেলপারে যোগ দেন। মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর বাড়িতে স্ত্রী জোছনা মালিক ও একমাত্র সন্তান খেয়াম মালিককে নিয়ে থাকতেন আলী হোসেন। খেয়াম সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য প্রকৌশল বিভাগে লেখাপড়া করছেন।

ঘটনার ব্যাপারে মবিন মালিক বলেন, ‘কম্পানি মালিকের ছেলে মালয়েশিয়ায় থাকায় আমার ভাই বিল্ডিংয়ের অফিসে প্রায়ই থেকে যেতেন। সোমবার রাতেও তিনি বাসায় ফেরেননি। ওই বিল্ডিংয়ে কাজ করত সাইফুল। নিচতলায় ওর এক ভাই কাজ করত। তারাই হয়তো আমার ভাইকে হত্যা করে পালিয়েছে। অফিসের কম্পিউটারে তাদের জীবন বৃত্তান্ত থাকার কথা। সেগুলোও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া লকারে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ছিল বলে শুনেছি। ’

পুলিশ সূত্র জানায়, ওই ভবনের চতুর্থ তলায় আলী হোসেন একাই থাকতেন। এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনটিতে একজন তত্ত্বাবধায়ক, গাড়িচালক ও কয়েকজন কর্মচারী থাকতেন। ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক সেলিম মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পলাতক সাইফুল ও তার ভাইয়ের ব্যাপারেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আলী হোসেনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।


মন্তব্য