kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খাদিজার ওপর হামলা

‘থুতু স্তম্ভে’ থুতু ফেলে বদরুলকে ঘৃণা সিলেটবাসীর

সিলেট অফিস   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘থুতু স্তম্ভে’ থুতু ফেলে বদরুলকে ঘৃণা সিলেটবাসীর

কলেজ ছাত্রী খাদিজার ওপর বর্বর হামলাকারী বদরুলের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে গতকাল সিলেটে ব্যতিক্রমী ‘থুথু দেওয়া কর্মসূচি’ পালন করে বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক কমিশন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসের ওপর বর্বর হামলার ঘটনায় হামলাকারী বদরুল আলমকে ঘৃণা জানিয়ে ‘থুতু স্তম্ভ’ বানিয়ে ‘থুতু নিক্ষেপ’ কর্মসূচি পালন করেছে সিলেটের মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক কমিশনের (বামাসাক) উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

খাদিজা রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত রাতে এ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মীর্জা নাজিম উদ্দীন কালের কণ্ঠকে জানান, খাদিজার অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে প্রতিদিনই অনুভূতির একটু একটু উন্নতি হচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য গত সোমবার তার গলায় যে প্যাসেকটমি করা হয়েছে সেটি সফলভাবেই কাজ করছে।

সিলেটে গতকাল থুতু নিক্ষেপ কর্মসূচির আগে আয়োজিত মানববন্ধনে খাদিজার বাবাসহ অন্যরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদরুলের বিচার দাবি করে। পরে ‘পালাব না ঘটনা দেখে, ফেলে যাব না কাউকে বিপদে রেখে’—এই স্লোগান সামনে রেখে হামলাকারী বদরুলের ছবিসংবলিত প্রতীকী দুটি ‘থুতু স্তম্ভ’ বা ডাস্টবিন বানিয়ে সেখানে থুতু নিক্ষেপ করে সর্বস্তরের মানুষ। এ সময় তারা বদরুলকে ধিক্কার জানায় এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে।

মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের ফলে বারবার সমাজে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে মন্তব্য করে বক্তারা এসব প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এ ধরনের ঘটনা দেখে হাত-পা গুটিয়ে বসে না থেকে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।  

খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া বলেন, ‘এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। বদরুলের শাস্তির দাবিতে ও তাকে ঘৃণা জানিয়ে করা এই থুতু স্তম্ভ আমার ভালো লেগেছে। ’ এ সময় তিনি খাদিজার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।  

বামাসাকের সভাপতি ফয়সল আহমদ বাবলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য আহমেদ সেলিমের পরিচালনায় এতে বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড সিকান্দার আলী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, বামাসাকের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম নাসির, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, খাদিজার ভাই শাহিন আহমদ ও সালেহ আহমদ প্রমুখ।

এদিকে হামলাকারী বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সিলেট জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি। দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) সভাপতি মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। সংস্থার সভাপতি রুবেল আহমদ নান্নুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, জেলা ক্লাব সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মিলাদ আহমদ, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের কোষাধ্যক্ষ সিরাজ আহমদ প্রমুখ। মানববন্ধনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে অংশ নেন জেলা রেফারি অ্যাসোসিয়েশন, ধারাভাষ্যকার অ্যাসোসিয়েশন, ফুটবল সমর্থক ফোরাম, ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের নেতাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

খাদিজার পরিবারের পাশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা : খাদিজা আক্তার নার্গিসের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গতকাল সকালে তাঁর বাড়িতে যান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম তারেক কালাম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম, খন্দকার মালিক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব উর রহমান, মোগলগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বশির উদ্দিন প্রমুখ।

তাঁরা খাদিজার মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি দোষী বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। খাদিজার বিচার বিলম্বিত হলে এ দেশের কোনো মা তা ক্ষমা করবে না মন্তব্য করে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ছাত্রলীগ নেতা বদরুল ও তার প্রশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে বদরুল নিজ দলের হলেও সে অপরাধী।

গত ৩ অক্টোবর বিকেলে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল।


মন্তব্য