kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিহত ৬ জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও গাজীপুর   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নিহত ৬ জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও র‌্যাব

গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে চারটি অভিযানে নিহত ১২ জঙ্গির মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত স্বজনদের দাবি ও তথ্য যাচাই করে এসব পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, গাজীপুরের পাতারটেকের আস্তানায় নিহত সিরাজগঞ্জের ফরিদুল ইসলাম আকাশ ছাড়াও দুইজনের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের একজন হলো ঢাকার বংশালের মোগলটুলী এলাকার বাসিন্দা মো. আজিম উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহীম খলিল এবং সুনামগঞ্জের ছাতকের সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবুল। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে অভিযানে নিহতদের মধ্যে গতকাল দুজনের পরিচয় জানা গেছে। এরা হলো নওগাঁর রানীনগর উপজেলার মো. আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. আহসান হাবিব এবং জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দেরপুর ইউনিয়নের গাফফার মণ্ডলের ছেলে আমিনুল ইহসান। গত শনিবার র‌্যাব জানায়, এসব জঙ্গির বাড়ি রাজশাহী ও নরসিংদীতে। পরে যাচাই করে দেখা গেছে, তারা ভুয়া ঠিকানা দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। আর আশুলিয়ায় আরেকটি অভিযানে প্রাণ হারায় নব্য জেএমবির এক অর্থদাতা। তার নাম আবদুর রহমান।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে আরো দুই জঙ্গির পরিচয় মিলেছে। নিহতরা হলো নওগাঁর রানীনগর উপজেলার মো. আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. আহসান হাবিব। সে টাঙ্গাইলে র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়। অন্যজন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দেরপুর ইউনিয়নের গাফফার মণ্ডলের ছেলে আমিনুল ইহসান। সে গাজীপুরে র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়। মুফতি মাহমুদ খান আরো বলেন, শনিবার আশুলিয়ায় অভিযানে নিহত আবদুর রহমানের পরিচয় ওই দিনই জেনেছেন তাঁরা। গাজীপুরের হাড়িনালের লেবুবাগানে অভিযানে নিহতরা তাদের ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। সেখানে তৌহিদুল ইসলাম ও রাশেদ নাম এবং বাড়ি নরসিংদী বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে টাঙ্গাইলে অভিযানে নিহতরাও ভুয়া পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয়। তাদের নাম ছিল রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া গ্রামের লতিফুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান এবং একই উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের জুনায়েদ হোসাইনের ছেলে সাগর হোসাইন। যাচাই করে গতকাল পর্যন্ত চারজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ জানান, পত্রিকায় জঙ্গিদের প্রকাশিত ছবি দেখে নিহতদের স্বজনরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে দুজনকে শনাক্ত করেছে। তাদের একজন সিলেট ছাতকের সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবুল এবং অন্যজন ঢাকার বংশাল থানার মোগলটুলী এলাকার আজিম উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহীম খলিল। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের আবু সাঈদের ছেলে ফরিদুল ইসলাম আকাশের পরিচয় মেলে।

জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান জানান, পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে মঙ্গলবার বিকেলে থানায় আসেন ঢাকার বংশালের মোগলটুলী এলাকার বাসিন্দা মো. আজিম উদ্দিন। তিনি পুলিশের প্রকাশিত তিন নম্বর ছবিটি তাঁর ছেলে ইব্রাহীমের বলে জানান। তিনি ছেলের লাশ গ্রহণের আবেদন করেছেন। যাচাই-বাছাই শেষে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান ওসি। তিনি আরো জানান, বাকি ছয় লাশের মধ্যে একটি সুনামগঞ্জের ছাতকের সাইফুল ইসলাম বাবুল ও একটি সিরাজগঞ্জের ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশের বলে জানা গেছে। তবে তাদের লাশ কেউ শনাক্ত করেনি।

ইব্রাহীমের বাবা আজিম উদ্দিন জানান, তিনি ঢাকার একটি ডেভেলপার কম্পানিতে চাকরি করেন। তিন মাসে আগে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা বলে ইব্রাহীম নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তিনি গত ৯ আগস্ট বংশাল থানায় জিডি করেন। আজিম আরো বলেন, ‘ইব্রাহীম যাত্রাবাড়ীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকে গত বছর আলিম পাস করে। চেয়েছিলাম ছেলে মস্ত বড় আলেম হবে। কিন্তু সে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তির জন্য বায়না ধরে। রাজি হইনি বলে সে রাগ করে বাসা থেকে চলে গেছে ভেবেছিলাম। কিন্তু মোবাইল ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সে যে জঙ্গিগোষ্ঠীতে জড়িয়েছে তা বুঝতে পারিনি। যারা আমার কোমলমতি সন্তানকে জঙ্গি বানিয়েছে, আমি তাদের শাস্তি চাই। ’

প্রসঙ্গত, গত শনিবার গাজীপুরের হাড়িনালের লেবুবাগান ও নোয়াগাঁওয়ের পাতারটেকের দুটি বাড়িতে অভিযান চালায়  র‌্যাব-পুলিশ। এ সময় পাতারটেকে একটি বাড়ি থেকে সাত এবং লেবুবাগানের একটি বাড়ি থেকে দুইজন মিলিয়ে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। তাদের লাশ এখন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পড়ে আছে। অন্যদিকে শনিবার সকালেই টাঙ্গাইলে র‌্যাবের আলাদা অভিযানে নিহত হয় দুই জঙ্গি। একই দিন বিকেলে আশুলিয়ায় আরেকটি অভিযানে প্রাণ হারায় নব্য জেএমবির অর্থদাতা আবদুর রহমান। এই তিনজনের লাশ টাঙ্গাইল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।


মন্তব্য