kalerkantho


মিয়ানমারে আরো সংঘর্ষ ও হতাহতের খবর

আটকে পড়া ২০ জন বাংলাদেশি ফিরেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আটকে পড়া ২০ জন বাংলাদেশি ফিরেছে

বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শনিবার রাতে সে দেশের সীমান্তরক্ষী পুলিশের তিনটি ছাউনিতে হামলার পর সেখানকার পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত। নাফ নদের ওপারে মিয়ানমারের ওই রাজ্যের মংডুর কয়েকটি এলাকায় গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যাপক গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।

বেশ কয়েকজনের হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে। হতাহতের বেশির ভাগই সেখানকার রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।

গতকাল সারা দিনই নাফ নদের পূর্ব পাশে মংডু শহর থেকে উত্তরে তুমবুরু পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের আকাশে সে দেশের সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। বাংলাদেশের সীমান্তেও বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এই হামলার ঘটনায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও মংডুর সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে নাফের দুই পারেই আটকা পড়েছে দুই দেশের দুই শতাধিক লোক। সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় দুই দেশের লোকজন এপার-ওপার যাতায়াত করে থাকে। তারা সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ পর্যন্ত অবস্থান করতে পারে। মিয়ানমারের মংডু শহরে এ রকম আটকে পড়া দুই শিশুসহ ২০ জন বিশেষ ব্যবস্থায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টেকনাফের ট্রানজিট ঘাটে এসে পৌঁছেছে।

মংডু থেকে টেকনাফে ফিরে আসা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবুল বাশার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সীমান্তে বাণিজ্যের আওতায় আমি মংডু গিয়ে আটকা পড়েছিলাম। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থায় একটি নৌকা দিয়ে আমাদের আসার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ’

ফিরে আসা টেকনাফের বাসিন্দা আবুল হাশেম বলেন, ‘মিয়ানমারের মংডু শহরের সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সেখানে কোনো লোকজনের চলাচলও নেই। ’

ব্যবসার কাজে মিয়ানমার থেকে টেকনাফে আসা সে দেশের প্রায় ২০০ নাগরিক আটকা পড়েছে। তাদের বেশির ভাগই এখন অবস্থান করছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

টেকনাফের একটি হোটেলে অবস্থান করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিয়ানমারের এক নাগরিক জানান, মংডুতে আটকে পড়া বাংলাদেশির সংখ্যা কম। আর এখানে আটকে পড়া মিয়ানমারের নাগরিকের সংখ্যা অনেক বেশি।

ট্রানজিট সুবিধায় নৌকা করে টেকনাফ-মংডু আসা-যাওয়া হয়ে থাকে দৈনিক ভিত্তিতে। অর্থাত্ সকালে গিয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসতে হয়। এমন ট্রানজিট নিয়ে যাওয়া টেকনাফের ব্যবসায়ী দেলোয়ার আটকা পড়েছেন মংডুতে। তিনি মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, গতকাল রাতের দিকে বিশেষ ব্যবস্থায় টেকনাফে থেকে তাঁর ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে মংডুর কাইন্দাপাড়া, ছাম্পাইন্যা, মণ্ডিপাড়া এবং দুপুরে নাককুরা বুড়া সিকদারপাড়ায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা হতাহত হয়েছে।

টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের কয়েকজন কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, শনিবার রাতে হামলার ঘটনার পর থেকে সেখানকার লোকজন ঘর থেকে বাইরে বের হতে পারছে না। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি করা রয়েছে। এমনকি দিনেরবেলায়ও চলছে অঘোষিত কারফিউ। এ রকম পরিস্থিতিতে ব্যাপক ধরপাকড়ও অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে মিয়ানমারের নৌবাহিনী নাফ নদের আন্তর্জাতিক রেখা বরাবর টহল জোরদার করেছে। সে কারণে গতকাল ভোর থেকে বাংলাদেশের কোনো জেলেও নাফ নদে মাছ ধরতে নামেনি। মিয়ানমারের আকাশে হেলিকপ্টার ও নাফ নদে নৌবাহিনীর স্পিডবোট টহলের দৃশ্য টেকনাফের লোকজন স্পষ্টতই দেখতে পায়।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনবসতি অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। সে দেশের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) তিনটি ছাউনিতে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের ১৮-২০ জন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হামলাকারীরা ৬৩টি অস্ত্র লুট করেছে বলে জানা গেছে। তবে বিবিসি, রয়টার্সসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে ১৪-১৬ জন মারা গেছে, তাদের বেশির ভাগই বিজিপি সদস্য। গতকাল রয়টার্স জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে সেনা পাঠিয়েছে।

তবে বিজিপি ছাউনিতে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত সেটা এখনো নিশ্চিত করেনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। দেশটির সরকারের তরফ থেকে প্রাথমিকভাবে বিদ্রোহী গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনকে (আরএসও) সন্দেহের কথা জানায়। তবে পরে জানায়, অন্য দুটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও আরাকান লিবারেশন ফ্রন্টকে সন্দেহ করছে তারা।

সংশোধনী

গতকাল এ-সংক্রান্ত খবরে ভুলবশত লেখা হয়েছিল ‘টেকনাফের সঙ্গে মংডুর স্থলপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে’। প্রকৃতপক্ষে টেকনাফের সঙ্গে মংডুর স্থলসীমান্ত নেই।


মন্তব্য