kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আ. লীগের জাতীয় সম্মেলন

নিখুঁত আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

তৈমুর ফারুক তুষার   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নিখুঁত আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন নিখুঁত করতে ব্যস্ত সময় পার করছে বিভিন্ন উপপরিষদ। এরই মধ্যে বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

অনুষ্ঠানস্থলের প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে, মঞ্চ তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে। প্রচার ও প্রকাশনার যাবতীয় কাজ প্রায় শেষ। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সেবা প্রদানে স্বেচ্ছাসেবকরাও প্রস্তুত। ৭৫ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৮-১০টি বাদে সব জেলা কাউন্সিলরের তালিকা কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা হয়েছে। খাবার সরবরাহের প্রস্তুতিও শেষ।

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। মঞ্চ ও সাজসজ্জার জন্য বিভিন্ন আকারের কাঠের ফ্রেম তৈরি হচ্ছে। পরে এগুলো জোড়া দিয়ে মঞ্চ ও সৌন্দর্যবর্ধক নানা কাজে লাগানো হবে। অর্ধশতাধিক মানুষ এসব কাজে ব্যস্ত।

অতিথিদের বসার জন্য বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে। এর কাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ। এখন ত্রিপলের ছাউনি লাগানো হচ্ছে। এ প্যান্ডেলের নিচেই অর্ধলক্ষাধিক মানুষের বসার বন্দোবস্ত হবে। সম্মেলনস্থল ঘিরে অনেক আইপি ক্যামেরা বসানো হয়েছে শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবক উপপরিষদের ব্যবস্থাপনায়। নির্মাণ করা হয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারও।

মঞ্চ ও সাজসজ্জার কাজ তত্ত্বাবধানের জন্য একটি অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ও সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন উপপরিষদের সদস্যরা ভিড় করেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আনাগোনায় সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপপরিষদের একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, নৌকার আদলে ২৫ ফুট উচ্চতার মঞ্চের নকশা অনুমোদন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দা থাকবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হবে বড় আকারের ডিজিটাল পর্দা। যেখানে আওয়ামী লীগের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সরকারের নানা অর্জন প্রদর্শিত হবে। বিমানবন্দর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত আলোকসজ্জা করা হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বালি দিয়ে নির্মাণ করা হবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিহতদের প্রতিকৃতি। সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করা হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবক উপপরিষদের সদস্য সচিব আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আমরা নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সেবা মূলত এ তিন ধরনের কাজ করব। এর জন্য আলাদা স্বেচ্ছাসেবক থাকবে। আলাদা কাজের জন্য আলাদা ধরনের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন তাই নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ তালিকা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে ভেরিফিকেশন করানোর জন্য পাঠানো হচ্ছে। ’

বাহাউদ্দিন নাছিম জানান, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা উপপরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঢাকার বাইরে থেকে আগত নেতাকর্মীদের স্বাগত জানাতে অভ্যর্থনা উপপরিষদের সঙ্গে কাজ করবে। মঞ্চের আশপাশে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবে।

নিরাপত্তার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘সম্মেলনস্থল ঘিরে আমরা আইপি ক্যামেরা লাগাচ্ছি। এগুলো ইন্টারনেট নেটওয়ার্কিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। সম্মেলনস্থলে একটা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও কক্ষ হচ্ছে। এ ছাড়া ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ভেতরেও একটি বিশেষ মনিটরিং কক্ষ থাকবে। স্বেচ্ছাসেবকরা পরস্পরের সঙ্গে যাতে যোগাযোগ করতে পারে সে জন্য তাদের হাতে ওয়াকিটকি থাকবে। ’

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে খাদ্য সরবরাহের কাজ করবে খাদ্য উপপরিষদের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে খাদ্য উপপরিষদের সদস্য সচিব ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা  দুই দিনে ৩৫-৪০ হাজার মানুষকে খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। ক্যাটারার্সদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূল মেন্যুতে একদিন মোরগ-পোলাও ও একদিন কাচ্চি বিরিয়ানি থাকছে। সম্মেলনের দিন ১০টি বুথ থেকে খাবার সরবরাহ করা হবে। আট বিভাগের জন্য আটটি, মহিলাদের জন্য একটি এবং ঢাকা বিভাগের জন্য অতিরিক্ত একটি বুথ থাকবে। ’

পোস্টার, দাওয়াত কার্ডসহ সম্মেলনের বিভিন্ন প্রকাশনার দায়িত্ব প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের যাবতীয় কাজ প্রায় শেষ। কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের কার্ড এবং অভ্যর্থনা উপপরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিমের স্বাগত ভাষণ ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। রবিবার থেকে দাওয়াত কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট ও শোক প্রস্তাব ছাপাখানায় দেওয়া হয়েছে। অতিথিদের দেওয়ার জন্য চটের ব্যাগ, ক্যাপ, পানি ও চকোলেট প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের হাতে এসেছে। সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত শেষ দফার পোস্টার গতকাল থেকে সারা দেশে বিতরণ শুরু হয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। যেটুকু বাকি আছে তা দুই-তিন দিনের মধ্যেই শেষ হবে। ’

কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের তালিকা তৈরি করছে দপ্তর উপপরিষদ। এ উপপরিষদের সদস্য সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ‘এবারের সম্মেলনে ছয় হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলর অংশ নেবেন। ৮-১০টি বাদে সব সাংগঠনিক জেলা কাউন্সিলরের তালিকা দপ্তরে জমা দিয়েছেন। যাঁরা এখনো দেননি, তাঁরা আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন। ’

সম্মেলনস্থল ও ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সাজানোর কাজ করছে মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপপরিষদ। এ উপপরিষদের সদস্য এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠানে যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ১৮-২০ অক্টোবরের মধ্যেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আলোকসজ্জা করা হবে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তোরণ নির্মাণের কাজ চলছে। জেলা পর্যায়েও একই নকশা ও রঙের তোরণ হচ্ছে। আমরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সোহরাওয়ার্দী পর্যন্ত আলোকসজ্জার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এ ছাড়া সাজসজ্জার কাজে দেশের বাইরে থেকে কিছু উপকরণ আসার কথা যা শিগগিরই এসে পৌঁছাবে। ’


মন্তব্য