kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজিমপুরে অভিযানের এক মাস

জঙ্গি জাহিদের স্ত্রী এখনো অধরা তিন নারী জঙ্গি রিমান্ডে

নিজস্ব ও আদালত প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গি জাহিদের স্ত্রী এখনো অধরা তিন নারী জঙ্গি রিমান্ডে

রাজধানীর আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের এক মাস পরও দুর্ধর্ষ জঙ্গি মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নেছা শিলাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ওই আস্তানায় অভিযান চালানোর আগেই শিলা সেখান থেকে সটকে পড়ে জানিয়ে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে সেই আস্তানায় পুলিশি অভিযানে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন নারী জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

গতকাল রবিবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. নূর নবী পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে এই আদেশ দেন। ওই তিন নারী জঙ্গি হলো আজিমপুরের অভিযানে নিহত নব্য জেএমবির নেতা তানভীর কাদেরীর স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা, গুলশান হামলায় জড়িত নুরুল ইসলাম মারজানের স্ত্রী আফরিন ওরফে প্রিয়তি এবং আরেক জেএমবি নেতা বাসারুজ্জামান ওরফে চকলেটের স্ত্রী শারমিন ওরফে শায়লা আফরিন। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তানভীর কাদেরী এবং পলাতক মারজান ও বাসারুজ্জামানের ব্যাপারে তথ্য উদ্ধারের জন্য তিন নারীকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আস্তানায় যারা ছিল, তারা সবাই ধরা পড়েছে। তানভীর কাদেরীকে জীবিত পাওয়া যায়নি। ফলে বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পলাতক জেবুন্নেছা শিলাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’

গত ১০ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার আজিমপুরে বিজিবি ২ নম্বর গেটের সামনে একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশ ও জঙ্গিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় জঙ্গি তানভীর কাদের নিহত হয়। তবে পুলিশ জানায়, তানভীর নিজেই আত্মহত্যা করে। অভিযানের সময় নারী জঙ্গিদের ছুরিকাঘাতে ও মরিচের গুঁড়ায় সেদিন পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিন নারীকে আটক করে পুলিশ। চিকিৎসার জন্য তাদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক সুস্থতা সাপেক্ষে গত শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীদের সিটিটিসি ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করে।

সূত্র জানায়, অভিযানের কয়েক দিন আগে রূপনগরে নিহত জঙ্গি জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নেছা শিলা আজিমপুরের আস্তানা থেকে চলে যায়। তানভীরের আরেক ছেলে আফিফ কাদেরী ওরফে নাবিলও জঙ্গিদের গোপন আস্তানায় আছে। তানভীর কাদেরীর স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই নিজের ভুল পথে আসার কথা স্বীকার করেছে। সে দাবি করেছে, স্বামীর কারণেই সে এই ভুল পথে পা দেয়। তারা জঙ্গিবাদের ফলাফল আগে বুঝতে পারেনি বলে দাবি করে।

আদালত সূত্র জানায়, আজিমপুরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় লালবাগ থানায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গতকাল আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সহকারী কমিশনার আহসানুল হক। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা সবাই জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তাদের পরিবারের সদস্যরাও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এরই মধ্যে অভিযানে তাদের সঙ্গে আটক হওয়া কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে্। এই আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সংগঠনের উদ্দেশ্য, অন্যান্য সদস্য ও তাদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের সাত দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

প্রসঙ্গত, আজিমপুরে ওই ঘটনায় নিহত জঙ্গি তানভীর কাদেরীর ১৪ বছর বয়সী ছেলে তাহরীম কাদেরীকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে সে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে আছে।


মন্তব্য