kalerkantho


বাসে অচেতন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মৃত্যু

সন্দেহে অজ্ঞান পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বাসে অচেতন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মৃত্যু

রাজধানীতে গতকাল রবিবার আনোয়ার পারভেজ (৩৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি উত্তরার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন।

গতকাল সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের বাসায় ফেরার পথে বাসের মধ্যেই আনোয়ার পারভেজ অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও স্বজনরা বলছে, আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনসেট ও মানিব্যাগ খোয়া যায়নি। তিনি অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে বা হৃদরোগে মারা গেছেন। তবে এর আগে তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তাই আনোয়ারের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্ত করতে চাইছে পুলিশ।

রমনা থানার উপপরিদর্শক নগেন্দ্র কুমার দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী একটি লোকাল বাসে ওঠেন আনোয়ার পারভেজ। মগবাজার এলাকায় পৌঁছলে বাসচালকের সহকারী দেখেন তিনি অচেতন হয়ে পড়েছেন। বাসের যাত্রীরা প্রথমে তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত পৌনে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা আনোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই নগেন্দ্র আরো বলেন, ‘ওনার কিছু খোয়া যায়নি। হাত নীল হয়ে আছে। এতে অজ্ঞান পার্টির আলামত নেই। এর পরও আমরা নিশ্চিত হতে পিএম (ময়নাতদন্ত) করছি। ’

আনোয়ারের সহকর্মী উত্তরার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মাহবুবুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, বিকেল ৫টার দিকে আজমপুর থেকে বাসে ওঠেন আনোয়ার পারভেজ। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসের যাত্রীরা তাঁর মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে তাঁর অচেতন হওয়ার খবর দেন। সহকর্মী ও ছাত্ররা খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর লাশ দেখেন।

মাহবুবুল হক আরো বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে তিনি অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েছেন। হয়তো সুযোগ পায়নি দেখে মোবাইল ফোনসেট ও মানিব্যাগ নিতে পারেনি। আনোয়ার পারভেজ অসুস্থ ছিলেন বলে কখনো শুনিনি। ’

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের ইমান আলীর ছেলে আনোয়ার পারভেজ চকবাজারের বকশীবাজার এলাকায় থাকতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে লেখাপড়া শেষ করে তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে যোগ দেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।


মন্তব্য