kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নেত্রকোনার পাঁচ কিশোর ১০ দিন ধরে নিখোঁজ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নেত্রকোনার পাঁচ কিশোর ১০ দিন ধরে নিখোঁজ

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ শিক্ষার্থী ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন উপজেলার শ্যামগঞ্জ জালশুকা কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এবং বাকি দুজন একই এলাকার তালি-ই-মাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

তারা সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

গত ১ অক্টোবর নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা বলে এই পাঁচ কিশোর তাড়াহুড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়। তাদের একজনের সঙ্গে মোবাইল ফোন ছিল। পুলিশ মোবাইল ফোনটি ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান ঢাকার কাকরাইলে জানতে পারে। কিন্তু পুলিশ নিজে না গিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বজনদের কাকরাইলে পাঠায়। স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাদের পায়নি।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলো পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ বাজারসংলগ্ন মহিষবেড় গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আরিফ মিয়া (১৪), আইনুদ্দিনের ছেলে মো. হৃদয় (১৩), হামেদ আলীর ছেলে রকিবুল ইসলাম (১৩), ফরিদ মিয়ার ছেলে বেলাল হোসেন (১৫) ও হেলাল উদ্দিনের ছেলে নয়ন মিয়া (১৪)। এদের মধ্যে আরিফের বাবা শফিকুল মাছ বিক্রেতা, হৃদয়ের বাবা আইনুদ্দিন কাঠ মিস্ত্রি, রকুিবলের বাবা হামেদ আলী পেঁয়াজ-মরিচ বিক্রেতা, বেলালের বাবা ফরিদ মিয়া দিনমজুর ও নয়নের বাবা হেলাল উদ্দিন দরিদ্র কৃষক।

আরিফ, হৃদয় ও রকিবুল শ্যামগঞ্জের জালশুকা-কুমুদগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে এবং বেলাল ও নয়ন শ্যামগঞ্জের শালদীঘা তালি-ই-মাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অষ্টম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বেলাল ও নয়ন পরস্পর চাচাতো ভাই এবং আরিফ তাদের ভাতিজা। অন্য দুজনের বাড়িও তাদের পাশাপাশি। স্বজনরা জানায়, নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থী বেলালের সঙ্গে একটি মুঠোফোন ছিল। নিখোঁজের দিন এবং এর পরদিন ওই নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেনি। পরবর্তী সময় থেকে তার ফোন নম্বরটির সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

বেলালের মা ফাতেমা খাতুন রবিবার সকালে কালের কণ্ঠকে জানান, ‘সকালে মাঠ থেকে এসে বেলাল মাদ্রাসার পরীক্ষার ২০০ টাকা ফিস চায়। টাকা নিয়েই সে  সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়। পরে জানলাম সে মাদ্রাসায় যায় নাই। ’ নয়নের মা জামেলা খাতুন বলেন, ‘তাঁর ছেলে সকালে ভাত খেয়ে তাড়াহুড়া করে মাদ্রাসার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। ’

এ ঘটনায় গত বুধবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা পূর্বধলা থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।   পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ হওয়ার দিন শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ময়মনসিংহগামী একটি ট্রেনে উঠেছে বলে স্থানীয়রা দেখতে পেয়েছে। শিক্ষার্থী বেলালের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের নম্বরটি ট্র্যাকিং করে ঢাকার কাকরাইল এলাকায় একটি মসজিদে অবস্থান করছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে তাদের স্বজনদের পাঠানো হলেও সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ কিশোররা সবাই দরিদ্র পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ আরিফের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘থানায় জিডি করার পর থানার ওসি ও দারোগা আমাদের ঢাকার কাকরাইল মসজিদে পাঠান। সেখানে গিয়ে দুই দিন থাকার পরও তাদের সন্ধান না পেয়ে চলে আসি। ’

পূর্বধলা থানার ওসি আ. রহমান জানান, এদের উদ্ধারের জন্য সর্বত্র চেষ্টা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে দুজন আগেও এক-দেড় মাস নিখোঁজ ছিল। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, এ ব্যাপারে পুলিশের একটি টিম নিখোঁজ ছাত্রদের উদ্ধারে কাজ করছে।


মন্তব্য