kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৃজনশীলে ৭ প্রশ্নই থাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সৃজনশীলে ৭ প্রশ্নই থাকছে

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সৃজনশীল পদ্ধতিতে ছয়টির বদলে সাতটি প্রশ্নেরই উত্তর দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। নতুন নিয়ম বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলেও সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

গতকাল রবিবার শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী বলেন, এটা পরিবর্তনের কোনো যুক্তি নেই, প্রয়োজনও নেই। শিক্ষার্থীরা সময় (সাতটি প্রশ্নের উত্তর দিতে) কম পাচ্ছে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক ওই মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞরা শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব দেন। সভা শেষে মন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগে তাঁরা যে পরামর্শ দিয়েছিলেন তার ভিত্তিতেই সৃজনশীল প্রশ্ন বাড়ানো হয়েছে। বলতে পারেন, এটা বড় সংস্কারের ছোট পদক্ষেপ।

২০১৭ সালের এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে সৃজনশীলে ৬০ নম্বরের জায়গায় ৭০ নম্বর করা হয়েছে। এমসিকিউ প্রশ্নের নম্বর ৪০ থেকে কমিয়ে ৩০ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে সৃজনশীল পদ্ধতিতে ছয়টির বদলে সাতটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। গত বছর এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হলেও তা গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে নেমেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদদের মতামত নিতে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে তিনি বলেন, নতুন নম্বর বিভাজনের এ সিদ্ধান্ত ২০১৫ সালেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তারা (শিক্ষার্থীরা) পেয়েছে। আগামী বছর থেকে এমসিকিউ ও রচনামূলক অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। এতে সৃজনশীলে ছয়টির পরিবর্তে সাতটি প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য বাড়তি সময় শিক্ষার্থীরা পাবে। সকাল ১০টায় যে পরীক্ষা শুরু হবে সেই পরীক্ষার এমসিকিউ ও রচনামূলকের উত্তরপত্র পৌনে ১০টায় দেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরুর আগে ওই ১৫ মিনিট সময় শিক্ষার্থীরা পাবে দুটি উত্তরপত্রে শিক্ষার্থী-তথ্য পূরণের জন্য। ফলে ওই কাজে তাদের পরীক্ষার সময় ব্যয় হবে না। আগে ছয়টি সৃজনশীল প্রশ্নের নিয়মে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে শিক্ষার্থীরা গড়ে ২১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড সময় পেত। এখন সাতটির উত্তর করতে হলেও প্রতিটি প্রশ্নের ক্ষেত্রে গড়ে ২১ মিনিট ২৬ সেকেন্ড সময় পাবে তারা। আগে সৃজনশীলে শিক্ষার্থীদের ছয়টির উত্তর লিখতে হতো ৯টি প্রশ্নের মধ্য থেকে। এখন ১১টি প্রশ্নের মধ্য থেকে সাতটি বেছে নিতে হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সুবিধা কমছে না, বরং বাড়ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মনোভাবকে আমরা সম্মান দিয়েছি। তাই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসেছি। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। ’

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, মাধ্যমিকের পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আনার কথা অনেক দিন থেকে বলা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পাঠ্যক্রম আধুনিক ও সুন্দর করা হবে। পরীক্ষায় মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে। পাঠ্যপুস্তক সহজ করা হবে। যাঁরা প্রশ্ন করতে পারেন না তাঁদের সাহায্য করার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই হিসেবে পরীক্ষায় নম্বর পুনর্বিন্যাস একটি খুব ছোট পরিবর্তন, আরো বড় পরিবর্তন আসবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কার ও মান উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছি। এমসিকিউ বিশ্বস্বীকৃত একটি ব্যবস্থা হলেও তা চালু রাখতে আনুষঙ্গিক যে ব্যবস্থা নিতে হবে তা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রত্যাশা করছি। প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি করার কথা বলেছি। শিক্ষকরাই সৃজনশীল প্রশ্ন করতে হিমশিম খান, গাইড বইয়ের আশ্রয় নেন; এটা সহজীকরণের আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি, একটি বড় ধরনের সংস্কার একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। ’

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মঞ্জুর আহমদ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সংস্কারের কথা বলি। কিন্তু সেটা শুরু হলে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠি, উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। সেসব হবে, তারপর সংস্কারের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তবে তা সুবিবেচনাপ্রসূত হতে হবে। পরীক্ষাব্যবস্থা একটি অংশ মাত্র, দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিবর্তন আমাদের দরকার—সেটাই প্রত্যাশা করি। ’


মন্তব্য