kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লক্ষ্মীপুরে তরুণীকে কুপিয়ে জখম শনাক্ত হয়নি হামলাকারী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরে তরুণীকে কুপিয়ে জখম শনাক্ত হয়নি হামলাকারী

ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লক্ষ্মীপুরে মারাত্মক জখম হয়েছেন ফারহানা আক্তার নামের এক তরুণী। তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের ডিগ্রি পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর শহরের শাঁখারীপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) খন্দকার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বজনরা জানায়, ফারহানার বাড়ি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার আদাবাড়িয়ায়। বাবার নাম আবদুর রহমান খান। ফারহানা সেভ দ্য চিলড্রেনের ‘মা-মনি’ প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্মীপুরে কর্মরত। লক্ষ্মীপুর মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রের প্যারামেডিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ বছর লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। থাকছেন শাঁখারীপাড়া ছোটপুর এলাকায় সবিতা রানী নামে এক ভিজিটরের বাসায়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারহানা জানান, শুক্রবার বিকেলে পরীক্ষার পর পাবনার বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বাস কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে রাতে ফিরছিলেন শাঁখারীপাড়ার বাসায়। পথিমধ্যে দুজন অস্ত্রধারী আকস্মিক হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম শেষে পালিয়ে যায়। পথচারীসহ স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

হামলা সম্পর্কে ফারহানার দাবি, লক্ষ্মীপুরে কর্মরত অবস্থায় আশফাকুর রহমান মামুন নামে এক চিকিৎসকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে তাঁর। গত বছর ২৭ ডিসেম্বর সিলেটের সুরমা ভ্যালি রেস্ট হাউসে ৩০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। কিন্তু তা গোপন রাখার কথা ছিল। বিভিন্ন স্থানে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া নিয়ে মামুনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। সে সূত্রেই এ হামলার ঘটনা বলে ফারহানা মনে করছেন। লক্ষ্মীপুর পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আশফাকুর রহমান মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ফারহানার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাকে ফাঁসানোর জন্য বিয়ের ঘটনা সাজানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় আমি সম্পৃক্ত নই। ’

প্রকাশ্যে তরুণীর ওপর হামলার ঘটনা জেনে রাতেই হাসপাতালে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানসহ পুলিশের কর্মকর্তারা। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন। গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসক হাসপাতালে গিয়ে ফারহানার চিকিৎসা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, ফারহানার পেটে ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। গুরুত্বসহকারে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

এ ঘটনায় গতরাত পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা ফারহানার মৌখিক অভিযোগ শুনে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। হামলাকারীদের পুলিশ শনাক্ত করতে পারেনি।


মন্তব্য