kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাশ্মীরে বিক্ষোভ শিশু নিহত ফের কারফিউ

নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত পাকিস্তানের গোলাগুলি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কাশ্মীরে বিক্ষোভ শিশু নিহত ফের কারফিউ

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১২ বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। ঘটনার পর কাশ্মীরে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়ে উঠলে সেখানে ফের কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতবিরোধী বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছররা গুলিতে শিশুটি আহত হওয়ার পর মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে ভারতের পুঞ্জ জেলায় ভারতীয় ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে গতকাল শনিবার আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ভারতের অভিযোগ, বিনা উসকানিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ছোড়া মর্টার শেলে এক ভারতীয় সেনা আহত হয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ভারতের হামলার ভয়ে পাকিস্তান সীমান্তে আরো শক্তি বৃদ্ধি করছে। ভারতের বিমানবাহিনীর প্রধান অনুপ রাহা বলেছেন, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী কথা বলে না, তাদের কাজ ‘ডেলিভারি’ দেওয়া। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাশ্মীরে গত বৃহস্পতিবার নিহত জঙ্গিদের কাছে পাওয়া গ্রেনেড পাকিস্তানি অর্ডন্যান্স কারখানার ছাপ রয়েছে।

শ্রীনগরে কাশ্মীরি শিশু নিহত, বিক্ষোভ : শ্রীনগরের পুরনো শহর সাইদপোরা এলাকায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী ছররা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে ১২ বছর বয়সী জুনায়েদ আহমদ নামের এক শিশুর সারা শরীরে ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে শেরে কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মধ্যরাতে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির পরিবার বলছে, প্রতিবাদকারীদের লক্ষ্য করে ছোড়া গুলির ছররা বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু জুনায়েদ আহমদের শরীরে আঘাত করে। তবে পুলিশ বলছে, সে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল। জুনায়েদের বুকে ও মাথায় বহু ছররা বিদ্ধ হয়।

জুনায়েদের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসার পর বিক্ষুব্ধ শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারা জুনায়েদের মৃতদেহ নিয়ে কাশ্মীরে ভারতীয় শাসনের অবসানের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এ সময় পাকিস্তানি পতাকা দিয়ে জুনায়েদের মৃতদেহ মুড়িয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা ‘ভারত বিদায় হও’, ‘আমরা স্বাধীনতা চাই’ ইত্যাদি ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়। পরে লাশ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, জানাজা শুরুর সময় নিরাপত্তা বাহিনী তা বন্ধ করার চেষ্টা করে। এ সময় ক্ষুব্ধ লোকজন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও ছররা গুলি ছোড়া হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়।

গত জুলাইয়ে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা বুরহান ওয়ানি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে কাশ্মীরজুড়ে অস্থিরতা শুরু হয়। এর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষে প্রায় ৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি আহত হয়।

সীমান্তে ভারতীয় সেনা আহত : গতকাল ভোরে পাকিস্তান ও ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান বাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় ভারতীয় সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। জবাবে ভারতীয় বাহিনীও পাল্টা গোলা ছোড়ে। এ সময় ভারতের এক সেনা আহত হলে তাকে উদ্ধার করে একটি সেনাঘাঁটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জম্মু ও কাশ্মীরের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তানের মেন্দর সেক্টর থেকে বিনা উসকানিতে ভারতের দিকে মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী ভারতীয় সেনা ও বেসামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে মর্টার ছোড়ে। ভোর ৫টা থেকে ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মর্টার শেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় ভারতীয় বাহিনীও একই অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দেয়।

সীমান্তে পাকিস্তানের শক্তি বৃদ্ধি : ভারতের গোয়েন্দা বাহিনীর সর্বশেষ প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা ও পাঞ্জাব সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়িয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে পাকিস্তান ‘দখলকৃত’ কাশ্মীরের সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিচ্ছে পাকিস্তান। ভারতের হামলার ভয়ে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে পাকিস্তান এ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়।

জঙ্গিদের অস্ত্র পাকিস্তান সমরাস্ত্র কারখানার তৈরি : ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বারামুল্লাহ জেলায় সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলা চেষ্টায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হামলার চেষ্টার সময় নিহত চার জঙ্গির কাছে পাওয়া গ্রেনেডগুলোয় পাকিস্তান সমরাস্ত্র কারখানার (পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি) সিল রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র গতকাল জানান, গত বৃহস্পতিবার চার জঙ্গির কাছে হ্যান্ড গ্রেনেডগুলো পাওয়া যায়, যাতে পাকিস্তান সমরাস্ত্র কারখানার ছাপ রয়েছে। তিনি বলেন, জঙ্গিদের কাছে পাওয়া ওষুধপত্র ও খাদ্যসামগ্রীতেও পাকিস্তানি ছাপ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জঙ্গিদের কাছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকও পাওয়া গেছে।

ভারতের বিমানবাহিনীর প্রধানের হুঁশিয়ারি : ভারতের বিমানবাহিনীর প্রধান অনুপ রাহা বলেছেন, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী কথা বলে না, তাদের কাজ ‘ডেলিভারি’ দেওয়া। যেকোনো ধরনের ‘সাব-কনভেনশনাল’ হুমকি বা অন্য কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। গতকাল ভারতীয় বাহিনীর ৮৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। সূত্র : এবিসি (অস্ট্রেলিয়া), টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস।


মন্তব্য