kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজ অষ্টমী কুমারী পূজা

নরসিংদীতে দেবীর পুষ্পিত বরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও নরসিংদী   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আজ অষ্টমী কুমারী পূজা

ফাইল ছবি

২৯ হাজারের বেশি মণ্ডপে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে জাঁকজমকপূর্ণভাবে। গতকাল শনিবার ছিল সপ্তমী।

আজ অষ্টমী। বিভিন্ন স্থানে আজ কুমারী পূজা হবে।

গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও টিকাটুলীর রামকৃষ্ণ মিশনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। ঢাকেশ্বরীতে গিয়ে তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ধর্মের নামে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বরদাশত করা হবে না।

মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডি এন চ্যাটার্জি বলেন, প্রায় ৪৫ মিনিট ঢাকেশ্বরী মন্দিরে অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে আজ বিভিন্ন স্থানে কুমারী পূজা হবে।

গতকাল সপ্তমী পূজা উপলক্ষে সকাল থেকে মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপগুলো। দেবী দুর্গার আশীর্বাদ লাভের জন্য মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমায় বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা।

নরসিংদী থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সারা জেলায় শহর থেকে গ্রামে বিরাজ করছে পূজার আমেজ। তৈরি করা হয়েছে নানা ভাবনার মণ্ডপ, নানা ধাঁচের প্রতিমা। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ জানায়, এ বছর নরসিংদী জেলায় ৩১৬টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে, এ সংখ্যা গত বছরের চেয়ে চারটি বেশি। নরসিংদী সদরে ৯০টি, পলাশে ৪৩টি, শিবপুরে ৬৭টি, মনোহরদীতে ৪৪টি, বেলাবোতে ১৯টি ও রায়পুরায় ৫৬টি মণ্ডপ হয়েছে। বিকেল থেকে দর্শনার্থী-ভক্তরা মণ্ডপ দেখতে বের হয়। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীরা নরসিংদীতে যায় প্রতিমা দেখতে, পূজায় শামিল হতে।

বছর বছর নতুন থিমে পূজামণ্ডপ সাজিয়ে দর্শনার্থীদের চমকে দেয় যেসব কমিটি সেগুলোর একটি সদর উপজেলার মাধবদীর কাশীপুর লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম দুর্গোৎসব (রঞ্জিত সাহার বাড়ি) কমিটি। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তাদের এবারের থিম—বর্ণিল পুষ্পের সমাহারে দেবী দুর্গাকে বরণ। মণ্ডপের শিল্পী বিন্দু সরকার বলেন, মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহৃত হয়েছে কাতান শাড়ি ও কাগজের পদ্ম ফুল। একটা ফুলকেই বহু রঙে উপস্থাপন করা হয়েছে। পূজার অন্যতম উদ্যোক্তা তিথী গ্রুপের পরিচালক সনেট সাহা বলেন, ‘জেলার সবচেয়ে বড় আয়োজন এ মণ্ডপ। হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ভুলে পূজার দিনগুলোয় সবাইকে নির্মল আনন্দ দেওয়ার জন্যই আমাদের এ আয়োজন। ’

জেলার প্রধান মন্দির শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়ায়। মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর তারাপদ সাহা ভূষণ বলেন, ‘আমাদের পূজা নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ বেশি। ’ শহর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি উত্তম মোদক বলেন, ‘পূজায় দেশীয় সংস্কৃতির প্রাধান্য ফিরে আসায় আমরা আনন্দিত। ’

জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক সূর্য্যকান্ত দাস বলেন, ‘আশা করছি, অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন সম্পন্ন হবে।

গতকাল সন্ধ্যায় নরসিংদী শহর পূজা উদ্যাপন পরিষদের উদ্যোগে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবার উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধন করেন নরসিংদী পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল।


মন্তব্য