kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বিটিভির ব্যাখ্যা ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘ধুঁকছে বিটিভি’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কর্তৃপক্ষ। গত ২ থেকে ৪ অক্টোবর তিন পর্বে ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

গত ৫ অক্টোবর বিটিভির অতিরিক্ত পরিচালক ও কো-অর্ডিনেশন অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম মিয়া স্বাক্ষরিত ওই ব্যাখ্যা পাঠানো হয়েছে।

২৭ বছর ধরে সরাসরি নিয়োগ বন্ধ থাকা এবং বিজ্ঞাপন কমে যাওয়ায় এটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য স্বীকার করে নিয়েছে বিটিভি। ব্যাখ্যায় বিটিভিতে পদোন্নতির যোগ্য কর্মকর্তা না থাকায় প্রেষণ ও চুক্তির মাধ্যমে পদায়ন ও সাময়িক নিয়োগ দিয়ে প্রয়োজন মেটানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এতে দাবি করা হয়েছে, সাত মাস ধরে বিটিভির বিশেষ দিবসের অনুষ্ঠানগুলো বেশ আকর্ষণীয় হচ্ছে এবং অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

‘আমলাদের দাপটে স্তব্ধ সৃজনশীলতা’ শিরোনামে প্রথম পর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম বিষয়ে বিটিভির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, শিরোনাম দেখে মনে হবে যে বিটিভির অধিকাংশ পদে প্রেষণে প্রচলিত ধারণায় আমলা অর্থাৎ ক্যাডার কর্মকর্তা এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন। প্রকৃত ঘটনা হলো মহাপরিচালক ছাড়া বিটিভির বিভিন্ন পদের মধ্যে উপমহাপরিচালকের দুটি, অনুষ্ঠান অধ্যক্ষের তিনটি ও নির্বাহী প্রযোজকের দুটি পদে কর্মকর্তা প্রেষণে নিয়োজিত আছেন।

তবে কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে অধিকাংশ পদে আমলা রয়েছেন, এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু বেশ কিছু পদে নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে ও তাঁদের বক্তব্য নিয়ে আমলাদের দাপটে সৃজনশীলতা যে স্তব্ধ রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিটিভির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, উপপরিচালক পদে নিয়োজিত দুজন বিসিএস তথ্য ক্যাডারের সদস্য গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট কাজে দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞ, অনুষ্ঠান অধ্যক্ষ পদে নিয়োজিত তিন কর্মকর্তা বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তা ছিলেন, নির্বাহী প্রযোজক পদে নিয়োজিত দুজন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর এবং পিআইবি থেকে এসেছেন।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে ভিজ্যুয়াল মাধ্যম টেলিভিশনের অনুষ্ঠান নির্মাণকাজে যে তাঁদের অভিজ্ঞতা নেই ও অন্যদের দিয়ে অনুষ্ঠান নির্মাণ করিয়ে নেন, তা বলা হয়েছে। বিটিভি ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় তাঁদের অভিজ্ঞতার বিবরণ দিতে পারেনি।

ব্যাখ্যায় আমলাদের নিয়োগের বিষয়ে যুক্তি দেখিয়ে বলা হয়েছে, বিটিভিতে পদোন্নতির যোগ্য কর্মকর্তা না থাকায় প্রেষণে এবং চুক্তির মাধ্যমে পদায়ন ও নিয়োগ দিয়ে সাময়িক প্রয়োজন মেটানো হচ্ছে।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বিচ্ছিন্নভাবে নিয়োগ দেওয়া হলেও ২৭ বছর ধরে বিটিভিতে সরাসরি নিয়োগ বন্ধ রয়েছে বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাখ্যায় বিটিভিতে ২৭ বছর নিয়মিতভাবে নিয়োগ হয়নি নব্বইয়ের দশক থেকে স্বীকার করে বলা হয়েছে, তিন বছর ধরে বিটিভিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ সময়ে প্রথম শ্রেণির ৬৭ জন নতুন কর্মকর্তা বিটিভিতে যোগদান করেছেন।

বিটিভির অনুষ্ঠানের মান, দর্শক কমে যাওয়া ও দর্শক গ্রাহ্যতার বিষয়ে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দুই দশক আগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন বিটিভির সঙ্গে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতার বিটিভির তুলনা করা ন্যায়সংগত নয়।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনেও একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তবে মানসম্মত অনুষ্ঠান তৈরি না হওয়া ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামতসহ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ধারাবাহিকের দ্বিতীয় প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘লোকসান বাড়ছে আয় কমছে’। বিটিভি কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যায় আয় কমার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছে, বিটিভি যখন একা সম্প্রচার করত তখন দর্শকরা যেমন শুধু বিটিভি দেখতে বাধ্য ছিল, তেমনি বিজ্ঞাপনদাতাদেরও বিটিভি ছাড়া অন্য কোথাও বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ ছিল না। কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বিটিভির লোকসান এবং আয়ের পরিসংখ্যানসহ অনুষ্ঠানের মান বাড়িয়ে বিজ্ঞাপন বাড়ানো সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রকাশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নের বিষয়ে বিটিভি ব্যাখ্যায় বলেছে, অনুষ্ঠানের মান উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রচলিত ধারায় টিআরপি বিবেচনায় নিয়ে বিনোদন ও অর্থ অয়ের গণ্ডিতে বিটিভিকে বৃত্তাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়।

কালের কণ্ঠ টিআরপির বিষয়টি কোনো প্রতিবেদনেই উল্লেখ করেনি। কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বিটিভি কী কী ভালো অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে তার উদাহরণ দিলেও বিটিভি কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যায় বলেছে, ডি এল রায়, অতুল প্রসাদ, রজনীকান্ত, বাংলাদেশের মরমি শিল্পীদের সৃষ্টি টিকে আছে মূলত বিটিভির কল্যাণে। বিটিভির বর্তমান মহাপরিচালক মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকে ৩৫ বছরের অভিজ্ঞ উল্লেখ করে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, গত সাত মাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বিশেষ দিবসের অনুষ্ঠানগুলো আকর্ষণীয় ও দর্শকগ্রাহ্য করতে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।

 


মন্তব্য