kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিজিবি ডিজির অভিমত

গরু চোরাচালান বন্ধ হলে সীমান্তে হত্যা থামবে

২৩০ অপরাধীর তালিকা দেওয়া হয়েছে ভারতকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গরু চোরাচালান বন্ধ হলে সীমান্তে হত্যা থামবে

গরু চোরাচালান বন্ধ করা গেলে সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে বলে মনে করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিমত দেন।

তিনি জানান, নয়াদিল্লিতে সদ্যসমাপ্ত সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবি ও বিএসএফ দুপক্ষই একমত হয়েছে যে সীমান্তে ৯৫ শতাংশ হত্যাকাণ্ডই ঘটছে গরু চোরাকারবারকে কেন্দ্র করে। গরু চোরাচালানের সঙ্গে স্বর্ণ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গরু চোরাচালান বন্ধ করা গেলে সীমান্তে হত্যা বন্ধের পাশাপাশি অন্যান্য চোরাচালানও রোধ করা সম্ভব হবে।

বিজিবির ডিজি বলেন, সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে চাপ দেওয়া হয়েছে। তারা সীমান্তে হত্যা বন্ধের বিষয়ে আবারও আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া ভারতে থাকা বাংলাদেশের সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন ধরনের ২৩০ জন অপরাধীর তালিকা দেওয়া হয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে।

নয়াদিল্লিতে গত ১ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে গত বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে আসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। গতকাল সকালে বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক ওই সীমান্ত সম্মেলনের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবারের সম্মেলনে ২৩০ জন অপরাধীর তালিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবারই তালিকা দেওয়া হয়। তারাও দেয়।

মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘এবারের সীমান্ত সম্মেলনে মূল এজেন্ডা ছিল সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে। আমরা বলেছি, এ বিষয়ে বারবার প্রতিবাদ করা হলেও হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সীমান্তে ২৬ জন মারা গেছে। এর মধ্যে ২২ জন মারা গেছে বিএসএফের হাতে। গত মাসে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে সীমান্তে। সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে সম্মেলনে। আলোচনায় দুই দেশের মহাপরিচালকই একমত হই যে, ৯৫ শতাংশ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে গরু চোরাকারবার। এটা কিভাবে রোধ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গরু চোরাচালানের সঙ্গে স্বর্ণ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গরু চোরাচালান বন্ধ করা গেলে সীমান্ত হত্যা বন্ধের পাশাপাশি অন্যান্য চোরাচালানও রোধ করা সম্ভব হবে। যেহেতু গরু ভারত থেকে আসে সে কারণে গরু চোরাচালান বন্ধে বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছি। বিএসএফ মহাপরিচালক এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। ’

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, অপনারা নন লেথাল উইপন (প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র) ব্যবহার করেন; তাহলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কেন ঘটে? আমরা লেথাল অস্ত্র ব্যবহার করি। আমাদের হাতে তো কেউ মারা যায় না। আমাদের প্রয়োজন হলে হিপের নিচে গুলি করে আহত করি, হত্যা করি না। ’ তিনি জানান, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিএসএফ জিরো লাইন অতিক্রম করে ঢুকে যায়। এতে সীমান্ত এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এ বিষয়ে আলোচনা করলে তারা জানিয়েছে, জিরো লাইন বুঝতে না পেরে ভুল করে কেউ গিয়ে থাকতে পারে। ভবিষ্যতে বিএসএফ এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত থেকে অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরকজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বেড়ে যাওয়ায় বিজিবি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে সম্মেলনে। একটি স্থানে বাঁধ দিয়ে বেড়া দিতে চাইলে বিজিবি প্রতিবাদ করে। সম্মেলনে তারা জানিয়েছে, বাঁধ দেবে না।

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিজিবি মহাপরিচালক। বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের আগে সীমান্তে হত্যা বাড়ার কারণ জানতে চাইলে মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি কাকতালীয় হতে পারে। তারা তো ইচ্ছে করে হত্যা করার কথা নয়। কারণ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হয়। এটা তাদের জন্য পজিটিভ কিছু নয়। ’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘৫০০ থেকে ৭০০ গরু নিয়ে যখন চোরাকারবারিরা সীমান্তে যায় তখন বিএসএফ তা প্রতিরোধ করতে পারে না বলে আমাদের জানানো হয়েছে। গরু চোরাচালান বন্ধ না হলে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে না। ’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা ২৮২ কিলোমিটার সীমান্তে রাস্তা ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছি। টেকনাফ থেকে এ কাজ শুরু হবে। ’


মন্তব্য