kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এক কোদাল মাটি না ফেলেও ৭ প্রকল্পের ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ

শিরিনা আফরোজ পিরোজপুর   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এক কোদাল মাটি না ফেলেও ৭ প্রকল্পের ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ত্রিগ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য একটি প্রকল্পে দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানে এক কোদাল মাটিও পড়েনি।

কিন্তু প্রকল্প সমাপ্ত দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। এভাবে কাজ না করে নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়নে টিআর, কাবিখা ও কাবিটার সাতটি প্রকল্পের প্রায় ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে। কাগজে-কলমে প্রকল্পগুলো থাকলেও বাস্তবে এগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়নে গ্রামীণ উন্নয়নে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও টেস্ট রিলিফের (টিআর) সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৯ টন খাদ্যশস্য ও চার লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দেউলবাড়ী ইউনিয়নের ত্রিগ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য কাবিটার দুই লাখ ৯০ হাজার টাকার বরাদ্দ প্রদান করা হয়। বাস্তবে সেখানে এক কোদাল মাটিও পড়েনি। ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য অমল চৌধুরী, পংকজ মালী ও আব্দুল মালেক জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দের কথা তাঁদের জানা নেই। তবে প্রকল্পের চেয়ারম্যান ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সভাপতি সোহেল মোল্লা কাজ করিয়েছেন। আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। ’

দেউলবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সোহেল মোল্লা নিজেই অন্য দুটি প্রকল্পের চেয়ারম্যান। এর মধ্যে গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে খালের পাইলিংয়ের জন্য টিআরের আওতায় এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু জাফর বাহাদুর বলেন, ‘ভাঙনের কবল থেকে প্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে পাইলিং করা হয়েছে। পাইলিংয়ের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ পাইনি। ’ অন্য প্রকল্পটি হচ্ছে তুরুকখালী আসাদের দোকান থেকে নুতন বাজার পর্যন্ত রাস্তা পুনঃসংস্কার। এ প্রকল্পে টিআরের আওতায় চার টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এখানেও কোনো কাজ হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা। এ ছাড়া গাওখালী বেপারীবাড়ি হতে কালাম শেখের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনঃসংস্কারের জন্য টিআরের আওতায় ১৪ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পেও কোনো কাজ হয়নি। প্রকল্পের চেয়ারম্যান ওই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য সীমা হালদার বলেন, ‘যুবলীগ নেতা সোহেল মোল্লা আমার সহপাঠী। একটি বরাদ্দ এনে দেওয়ার কথা বলে উপজেলা সদরে বসে আমার কাছে কয়েকটি স্বাক্ষর নেয়। বরাদ্দ হওয়া বা কাজ বাস্তবায়নের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমাকে কিছু জানানো হয়নি। ’ অন্য দুটি প্রকল্প হলো পদ্মডুবি মজিবর মিয়ার বাড়ি হতে হালদারবাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের জন্য টিআরের আওতায় এক টন খাদ্যশস্য এবং পদ্মডুবি আফজাল মিয়ার বাড়ি হতে চৌকিদারবাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনঃসংস্কারের জন্য ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প দুটির চেয়ারম্যান ওই যুবলীগ নেতার সহচর এ আর রহিম। এ প্রকল্প দুটিতেও কোনো কাজ হয়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা সোহেল মোল্লা বলেন, ‘ভাই একটু ছাড় দেন। এ বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। আমি আপনার সঙ্গে দেখা করব। ’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, প্রকল্পগুলোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য