kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাইতিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০০, আঘাত ফ্লোরিডায়ও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



হাইতিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০০, আঘাত ফ্লোরিডায়ও

শক্তিশালী হারিকেন ম্যাথিউর আঘাতে হাইতিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, হাইতিতে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দূরবর্তী এলাকার ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রবল গতির ঘূর্ণিঝড়টি গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়ও আঘাত হানে। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাত হলেও এ অঙ্গরাজ্যে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।   

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানায়, দিনের শুরুতে ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আঘাত হানার আগেই ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর পরও স্মরণকালে ফ্লোরিডায় আঘাত হানা সবচেয়ে জোরালো ঝড় এটি। স্থানীয় টিভির খবরে দেখা যায়, ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। পথঘাট সব ফাঁকা।

ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট ঝড় শুরুর আগে বলেন, ‘দৈত্যাকৃতির দুর্যোগ এটি। আমি চাই, সবাই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণ করা যায়, মানুষের জীবন নয়। ’

জ্যাকসনভিল, ফ্লোরিডা, সাভানা, জর্জিয়াসহ বড় বড় শহর থেকে কমপক্ষে ৩০ লাখ বাসিন্দাকে সরে  যেতে বলা হয়েছে। এক লাখ ১৪ হাজার বাড়ি বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়েছে। ডেটোনা সাগরসৈকতে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও সাউথ ক্যারোলাইনায় জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হাইতি ও কিউবার ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড়টি। এতে তছনছ হয়ে গেছে হাইতির বেশির ভাগ ঘরবাড়ি। আটলান্টিকের ক্যারিবীয় উপকূলে প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ম্যাথিউর আঘাতে হাইতিতে সর্বশেষ ৮০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে হাইতির বেসামরিক সুরক্ষা (সিভিল ডিফেন্স) এজেন্সি। এর আগে মৃতের সংখ্যা ৪০০ জন বলে জানিয়েছিল সরকারি সংস্থাটি। মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা পেতে সময় লাগবে। কারণ ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা বেশি ছিল দূরবর্তী এলাকায়। সেখানে বন্যার কারণে এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছতে পারেনি।

তবে দেশটির সিনেটর হারভ ফরচান্দ বলেন, তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রোচে-এ-ব্যতিউ শহরেই অর্ধশত লোক প্রাণ হারিয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেরেমি শহরে ৮০ শতাংশ ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সুদ প্রদেশে অন্তত তিন হাজার বাড়ি ধসে গেছে।

হাইতিতে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার সময় ঝড়ের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার। ঝড়ের প্রভাবে সোমবার থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। তাৎক্ষণিকভাবে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ম্যাথিউর তাণ্ডবের কারণে হাইতির বহু প্রতীক্ষিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

মানবিক ত্রাণবিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তর জানায়, সাড়ে তিন লাখ লোকের সাহায্যের প্রয়োজন। রেডক্রস ইতিমধ্যেই ৬৯ লাখ ডলার সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের চিকিৎসা, আশ্রয়, খাবার পানি ও পয়োনিষ্কাশনের জন্য এই অর্থের প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ৯টি সামরিক হেলিকপ্টার ত্রাণকাজ পরিচালনার জন্য পাঠিয়েছে।

হারিকেন ম্যাথিউর প্রভাবে বাহামা দ্বীপপুঞ্জেও প্রবল বর্ষণ হয়েছে। গাছ উপড়ে রাস্তারঘাটের যোগাযোগ বন্ধ এবং বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স।

 


মন্তব্য