kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পর্তুগালের গুতেরেস জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হচ্ছেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পর্তুগালের গুতেরেস জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হচ্ছেন

বান কি মুনের পর জাতিসংঘের মহাসচিব হচ্ছেন পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার সাবেক প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস। বাংলাদেশ সময় গত বুধবার গভীর রাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩ সদস্য রাষ্ট্র গুতেরেসের নাম অনুমোদন করেছে।

নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি ও জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন সাংবাদিকদের বলেন, পরিষদের অধিকাংশ সদস্য গুতেরেসের প্রার্থিতার বিষয়ে সমর্থন দিয়েছে। চুরকিন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, মিস্টার গুতেরেস আগামী পাঁচ বছরের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব নেবেন। ’ অন্যদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সামান্থা পাওয়ার বলেন, শেষ পর্যন্ত এমন একজনকে (গুতেরেস) বেছে নেওয়া হয়েছে, যাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও বিশাল এলাকাজুড়ে কাজ করার সক্ষমতা প্রমাণিত।

পরবর্তী মহাসচিব প্রশ্নে ছয় ধাপে গোপন বা অনানুষ্ঠানিক ভোট হয়। প্রতিবারই গুতেরেস ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট পেয়ে শীর্ষে ছিলেন। শেষ মুহৃর্তে প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়া ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বুলগেরিয়ার ক্রিস্তালিনা জর্জিয়েভাসহ যে ১৩ জন প্রার্থী সাধারণ পরিষদের সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন, তাঁদের মধ্যে গুতেরেসের বক্তব্য সবাইকে মুগ্ধ করেছে।

৬৭ বছর বয়সী গুতেরেসকে পরবর্তী মহাসচিব করার বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্যের কণ্ঠ ভোটেও নিশ্চিত হয়েছে। এরপর নিরাপত্তা পরিষদ তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম তুলবে ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদে; সেখানেই আসবে চূড়ান্ত অনুমোদন। আসছে ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান মহাসচিব বান কি মুনের মেয়াদ পূর্ণ হলে নতুন বছরে জাতিসংঘের হাল ধরবেন নতুন মহাসচিব।

পেশায় প্রকৌশলী গুতেরেস রাজনীতিতে আসেন ১৯৭৬ সালে। পাঁচ দশকের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানো ‘কার্নেশন বিপ্লবের’ পর ওই বছরই দেশটিতে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সালে তিনি দেশটির সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। এর তিন বছর পর ১৯৯৫ সালে নির্বাচিত হন প্রধানমন্ত্রী, সে দায়িত্ব পালন করেন ২০০২ সাল পর্যন্ত। ২০০৫ সালে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক কমিশনের দায়িত্ব নেন। এরপর এক দশক তিনি ব্যস্ত ছিলেন সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো দেশগুলোর শরণার্থী সংকট মোকাবিলায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থীদের আরো বেশি সহায়তা দিতে পশ্চিমা সমাজকে বারবার অনুরোধ করেছেন তিনি। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, এএফপি, রয়টার্স।

 


মন্তব্য