kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংসদে আইনমন্ত্রী

জঙ্গিদের দ্রুত বিচারে সাত বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনাল হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিদের দ্রুত বিচারে সাত বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনাল হবে

জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার ত্বরান্বিত করতে সাত বিভাগীয় শহরে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এই ট্রাইব্যুনাল জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বিচারে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আশা করা যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় সদস্য বেগম আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। আওয়ামী লীগের সদস্য এম আবদুল লতিফের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, সরকারি কৌঁসুলিদের জঙ্গিসংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর সাক্ষী হাজির করে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব মামলা বিচারাধীন থাকা আদালতগুলোতে যাতে বিচারক শূন্যতার কারণে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগ সজাগ দৃষ্টি রাখছে।

একই প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক সংসদকে জানান, ঢাকা মহানগরে ৯, ঢাকা জেলায় আট, ময়মনসিংহে ছয়, নেত্রকোনায় এক, মানিকগঞ্জে এক, নরসিংদীতে চার, জামালপুরে চার, শেরপুরে এক, কিশোরগঞ্জে তিন, নারায়ণগঞ্জে ১১, টাঙ্গাইলে পাঁচ, গাজীপুরে দুই, ফরিদপুরে এক, রাজবাড়ীতে এক, গোপালগঞ্জে এক, মাদারীপুরে এক ও শরীয়তপুরে একটি জঙ্গিসংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে। আইনমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগে

৩৬, রাজশাহী বিভাগে ২৭, খুলনা বিভাগে ১২, বরিশাল বিভাগে সাত, সিলেট বিভাগে আট এবং রংপুর বিভাগে ১৯টি জঙ্গিসংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সদস্য বেগম জেবুন্নেছা আফরোজের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, অধস্তন আদালতের কাজে গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ই-জুডিশিয়ারি নামক একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের আদালতগুলো ডিজিটালাইজড হবে এবং আধুনিক কম্পিউটারাইজড প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া আরো সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।

সরকারি দলের এ কে এম শাহজাহান কামালের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, অপরাধের সঙ্গে জড়িত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

সরকারি পর্যায়ে লোক নিয়োগ : সরকারদলীয় সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংসদকে জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সরকারি দপ্তরগুলোয় নিয়োগবিধি অনুযায়ী নিয়মিতভাবে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকমিশন কর্তৃক দশম ও নবম গ্রেডে নিয়মিতভাবে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মকমিশন ৩৫তম পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ দুই হাজার ১৫৬ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। প্রাক-চাকরি বৃত্তান্ত যাচাই, স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুপারিশকৃত প্রার্থীদের চলতি অর্থবছরে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সরকারদলীয় সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সংসদকে জানান, সরকারি কর্মকমিশন ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০ হাজার ৭০৯ জন প্রার্থীকে ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে। তাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৮৯৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৮১১ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ বিভিন্ন তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। পরিপূর্ণ তথ্যপ্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদের চূড়ান্ত নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


মন্তব্য