kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কিশোর তাহরীমের জবানবন্দি

আংকেলরা বলত একটি বড় অপারেশন করবে

এস এম আজাদ   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আংকেলরা বলত একটি বড় অপারেশন করবে

মো. তাহরীম কাদরী ওরফে আবির ওরফে রাসেল ওরফে অনিক ওরফে মুয়াজ ওরফে ইসমাইল। ১৪ বছরের এই কিশোরের প্রথম নামটি আসল হলেও বাকি ছয়টি নামই ছদ্মনাম।

তার বাবার নাম তানভীর কাদরী ওরফে জমশেদ ওরফে আবদুল করিম ওরফে সিপার ওরফে তৌফিক ওরফে তৌসিফ আহমেদ। তাঁর পাঁচটি নামের চারটিই ছদ্ম বা সাংগঠনিক নাম। তাহরীমের মায়ের নাম আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে আশা ওরফে খাদিজা। আর জমজ ভাইয়ের নাম আফিফপ কাদরী ওরফে আদর ওরফে নাবিল।

তাহরীমদের বাসা ছিল রাজধানীর বারিধারা এলাকায়। ওই বাসায় ছয়জন অতিথি থাকত, যাদের আংকেল বলত সে। তাদের একজন তামিম। বাকি পাঁচজন হচ্ছে সাদ, মামুন, উমর, আলিফ ও শুভ। রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর তাহরীম জানতে পারে, সাদের নাম নিবরাস ইসলাম, মামুনের নাম রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, উমর হচ্ছে খায়রুল ইসলাম পায়েল, আলিফের প্রকৃত নাম শফিউল ইসলাম উজ্জ্বল এবং শুভর আসল নাম মীর সালেহ মোবাশ্বের। এ ছাড়া তাহরীমদের বাসায় যাতায়াত ছিল রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, জাহাঙ্গীর, হৃদয়, মাইনুল ওরফে মুসা ও চকলেট নামের আরো দুইজনের। নব্য জেএমবি জঙ্গি তানভীর কাদরীর ছেলে তাহরীম ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এসব তথ্য মিলেছে। জবানবন্দিতে তাহরীম জানিয়েছে, গুলশান হামলার আগে তাদের বাসায় এক কক্ষেই ছিল তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ পাঁচজন। ওই বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েই হলি আর্টিজানে হামলা চালায় পাঁচ  জঙ্গি। যাওয়ার আগে তাহরীমকে ওই আংকেলরা বলেছিল, তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে। একটি বড় অপারেশনে যাচ্ছে তারা। জাহাঙ্গীর নামে এক জঙ্গি তাহরীমকে জানায়, সে দুটি ডাকাতি করেছে। গুলশান হামলার আগে খায়রুল ইসলাম পায়েল ওরফে বাঁধন এবং শফিউল ইসলাম উজ্জ্বল কুষ্টিয়ায় এক হত্যাকাণ্ডের গল্প করেছিল। তারা এক খ্রিস্টান বা হিন্দু ব্যক্তিকে হত্যা করে রক্তমাখা প্যান্ট খুলে পালিয়ে আসে। তাহরীম আরো জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে তামিমসহ তিনজন নিহত হওয়ার পর মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ব্যাগসহ তাদের আজিমপুরের বাসায় যান। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, নারায়ণগঞ্জের ওই আস্তানা থেকে পালিয়ে যাওয়া একজন পুলিশকে তথ্য দিয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালায় নারী জঙ্গিরা। তখন তাহরীমও হামলায় অংশ নেয়। সেখান থেকে তাহরীমসহ তিন শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযানের সময় আত্মহত্যা করেন তাহরীমের বাবা তানভীর। আহত অবস্থায় আটক করা হয় তার মা আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজাসহ তিন নারীকে। পরে তদন্তে শিশু বয়সেই তাহরীমের জঙ্গি ভাবধারায় বেড়ে ওঠার তথ্য মেলে। এই দাবি করে আদালতে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রবেশন অফিসারের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি শেষে তাহরীমকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধানাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিটের উপকমিশনার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘কিশোর তাহরীম জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিকে কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি। পরে বোঝানোর পর সে আমাদের কাছে অনেক তথ্য দিয়েছে। আদালতেও জবানবন্দি দিয়েছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। ’

সিটিটিসি ইউনিটের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘তাহরীমের বক্তব্যে ছদ্মনামে জঙ্গিদের বারিধারার একটি বাসায় থাকার তথ্য মিলেছে। নারায়ণগঞ্জে তামিম, কল্যাণপুরে অন্য নিহতরা এবং রূপনগরে জাহিদও ছদ্মনামে ব্যবহার করে সেখানে অবস্থান করে। এ কারণে আরো যেসব জঙ্গিদের নাম জানা গেছে সেগুলোও ছদ্মনাম বলেই ধারণা করছি আমরা। পরবর্তী তদন্তে প্রত্যেকের আসল পরিচয় বের হয়ে আসবে। ’

সূত্র জানায়, তাহরীম তার জবানবন্দিতে বাসায় তার চোখের সামনে ঘটা নানা কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনার কথা বর্ণনা করেছে। তাহরীম কাদরী বলে, সে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার জমজ ভাই আফিফপ কাদরীও একই শ্রেণিতে পড়ে। পুরো পরিবারটি কথিত জিহাদের আদর্শে বিশ্বাসী। জঙ্গিদের সাংগঠনিক বা ছদ্মনাম তারা ব্যবহার করে। মা-বাবার সঙ্গে অনুপ্রাণিত হয়ে তার ভাই আফিফপও জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত হয়েছে। তাদের স্থায়ী ঠিকানা উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৬২ নম্বর বাসা। এক মাস ধরে তারা আজিমপুরের ২০৯/৫ লালবাগ রোডের বাসায় বসবাস করছিল। তার বাবা তানভীর কাদরী ডাচ্-বাংল মোবাইল ব্যাংকিং, রবি ও কল্লোল গ্রুপে এবং মা মুসলিম এইড, সেভ দ্য চিলড্রেনে চাকরি করেন বিভিন্ন সময়। তাঁরা দুজন ২০১৪ সালে হজ পালন করেন। উত্তরায় থাকা অবস্থায়ই জাহিদ ও মুসার সঙ্গে তানভীর কাদরীর পরিচয় হয়। তাঁরা একসঙ্গে ১৩ নম্বর সেক্টরের লাইফ স্কুলের মসজিদে নামাজ পড়তেন। তাহরীম জানায়, ‘উত্তরার বাসায় জাহিদ আংকেলের সঙ্গে রাশেদ ওরফে র‌্যাশ আসত। মেজর জাহিদ আংকেল আব্বুকে জিহাদ করার ব্যাপারে প্রথম দাওয়াত দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে আমরা হিজরত করি। আম্মু প্রথমে হিজরত করতে রাজি ছিলেন না। পরে একদিন রাজি হওয়ায় আমরা মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে হিজরতে বের হই। হিজরতের পর আমরা পল্লবীতে আফিফাদের বাসার চতুর্থ তলায় থাকতাম। ’ তাহরীম বলে, ‘পল্লবীর বাসায় থাকা অবস্থায় চকলেট, মুসা আর র‌্যাশ আসত। র‌্যাশ ওই বাসায় চকলেট ও কল্যাণপুরে নিহত আকিফুজ্জামানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ’

জঙ্গি মাইনুল ওরফে মুসার বর্ণনা দিতে গিয়ে তাহরীম বলে, ‘মুসা আংকেলের বয়স ৩৮ বছরের মতো। মুখে দাড়ি। স্বাস্থ্য মাঝারি। দেখতে শ্যামলা। সে শার্ট-প্যান্ট পরে। মুসা আংকেল কখনো একা আসত আবার কখনো চকলেট ও র‌্যাশ সঙ্গে থাকত। জিহাদ ইমান নিয়ে কথা বলত। সিরিয়ায় যুদ্ধের ভিডিও দিত। আমরা তা দেখতাম। দাবিক ম্যাগাজিন পড়তে দিত। এই ম্যাগাজিন কয়েকটা বাংলায় ছিল। ’ গুলশান হামলার আগের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তাহরীম জানায়, চটলেট ও র‌্যাশের কথামতো গত রমজান মাসে তার বাবা বারিধারায় একটি বাসা নেন। ওই বাসায় ওঠার পর চকলেট প্রথমে দুইজন এবং পরে তিনজনকে ওই বাসায় নিয়ে যায়। ওই পাঁচজনের সাংগঠনিক নাম সাদ, মামুন, উমর, আলিফ ও শুভ। কয়েক দিন পর ওই বাসায় তামিম ও মারজান যায়। একই দিন জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী ও ছেলে শুভকে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে হৃদয় নামে আরেকজনকে নিয়ে যায় চকলেট। তাহরীম বলে, তামিম, মারজান ও চকলেট তাদের বাসায় ব্যাগে ভরে অস্ত্র নিয়ে আসে। তামিম, সাদ, মামুন, উমর, আলিফ ও শুভ একই সঙ্গে তাহরীমদের বাসায় থাকত। ঘরের দরজা বন্ধ করে তারা কথা বলত। আলিফ ও উমর (উজ্জ্বল ও পায়েল) অনেক ‘অপারেশন’ করেছে বলে গল্প করত। কুষ্টিয়ায় একজন খ্রিস্টান বা হিন্দুকে মেরে রক্তমাখা প্যান্ট খুলে পালিয়ে আসে বলেও গল্প করে। তারা জিহাদ ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা বলে। তাহরীম আদালতে বলে, ‘আংকেলরা বলত যে তারা একটি বড় অপারেশন করবে। তবে কী ঘটবে তা গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার আগে জানতাম না। ’ ঘটনার দিনের বর্ণনা করে তাহরীম জানায়, বিকেল ৫টার দিকে সাদ, মামুন, উমর, আসিফ ও শুভ কাঁধে একটি ব্যাগ নিয়ে বের হওয়ার সময় সবার সঙ্গে কোলাকুলি করে। এর দুই-এক দিন আগে জাহাঙ্গীর, তার পরিবার ও হৃদয় বাসা থেকে চলে যায়। পাঁচজন বের হওয়ার পর তামিম আর চকলেটও বের হয়। এ সময় চকলেট তাহরীমের আব্বুকে বলে, তোমরা যত তাড়াতাড়ি পার বাসা ছেড়ে চলে যাও। কথামতো ইফতারের পর ব্যাগ নিয়ে ট্যাক্সিক্যাবে করে পল্লবীর বাসায় যায় সবাই। এরপর তারা অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনে গুলশানে হলি আর্টিজানে গোলাগুলির খবর পায়। গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশিত হলে তাহরীম তাদের বাসায় অবস্থানকারীদের প্রকৃত নাম জানতে পারে।

তাহরীম জানায়, গুলশান হামলার কয়েক দিন পর র‌্যাশ তাদের জানায়, চকলেটকে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন সে বাসা পরিবর্তন করতে বলে। তখন রূপনগরে বাসা ভাড়া নেয় তাহরীমের বাবা। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১ আগস্ট তাহরীমরা আজিমপুরের বাসায় যায়। মারজানের স্ত্রী ও চকলেটের স্ত্রীও সেখানে চলে যায়। নারায়ণগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে তামিমসহ তিনজন নিহত হওয়ার পর মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ব্যাগসহ তাদের আজিমপুরের বাসায় যান। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে একজন পালিয়েছে। সেই পুলিশকে তথ্য দিয়েছিল। ওই দিন থেকে জাহিদ ও তার মেয়ে পিংকী আজিমপুরের ওই বাসায় থাকত। একদিন সন্ধ্যার আগে জাহিদ রূপনগরের বাসায় যায়। সেদিনই পুলিশের অভিযানে সে মারা যায়।

অভিযানে আটক হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করে তাহরীম বলে, ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কেউ তাদের বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। এ সময় তাহরীম ডোরভিউ দিয়ে দেখে অনেক লোক। তখন সে তার বাবা-মাকে জানালে তাঁরাও দেখেন। তানভীর কাদরী তাঁর স্ত্রীকে একটি পিস্তল ও বঁটি দেন। তিনি দরজার ও-প্রান্তের লোকজনের পরিচয় জানতে চাইলে অপর প্রান্ত থেকে পুলিশ বলে জানানো হয়। এ সময় তানভীর কাদরী পুলিশের পরিচয়পত্র দেখতে চান। পুলিশ দরজার ওপর প্রান্ত থেকেই পরিচয়পত্র দেখায়। তখন তানভীর দরজা খুলে দেন। এ সময় পুলিশ তাঁকে প্রশ্ন করে, ‘দরজা খুলতে দেরি হলো কেন? আপনাদের পরিবারের সবাইকে দেখতে চাই ডাকেন। ’ পুলিশ নাম জানতে চাইলে তাহরীম বলে তার নাম রাসেল। তানভীর বলে তার নাম জমশেদ। এ সময় তানভীর ডান পাশের কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁকে ধরে ফেলে। তাহরীম পুলিশকে ধাক্কা দিলে তিন পুলিশ তাকে ধরে পাশের কক্ষে নিয়ে যায়। তখন তানভীর পাশের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পুলিশ বলে, ‘এদের কাছে অস্ত্র আছে। ’ ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তাহরীম বলেন, ‘পুলিশ দরজা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আব্বু বঁটি দিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরাতে থাকেন। তখন পুলিশ আমাকে সামনে ধরে। আমি বলি, আব্বু আমার শরীরে লাগবে। তখন আব্বু বলে, লাগলে হয় শহীদ হবা না হলে আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিবে। তারপর একজন পুলিশ আমাকে বারান্দায় নিয়ে যায়। এর মধ্যে আন্টিরা মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন। পুলিশ তোষক দিয়ে আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করে। ’ তাহরীম বলে, ‘এরপর আরো পুলিশ এসে আমাকে এবং আমার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। এর আগে প্রিয়তী আন্টি চাকু দিয়ে একজন পুলিশ সদস্যকে আঘাত করেন এবং আমি চাকু দিয়ে একজনকে আঘাত করি। অনেক গোলাগুলি হয়। পুলিশ সদস্যরা আমাদের ও আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় দেখি আব্বুর গলা কাটা এবং প্রিয়তী আন্টির গায়ে রক্ত। আম্মুকে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় নড়াচড়া করছেন। আব্বু সম্ভবত সুইসাইড করেছেন। আব্বু আমাকে বলতেন, যদি কখনো ধরা পড়ি তখন সুইসাইড করব। পুলিশ আমাদের বাসা থেকে চারটি পিস্তল, গুলিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র উদ্ধার করে। ’ ভাইয়ের ব্যাপারে তাহরীম বলে, ‘আমার ভাই আদরকে আব্বু রূপনগরের বাসা থেকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন। তবে কোথায় পাঠিয়েছেন জানি না। ’


মন্তব্য