kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আণবিক যন্ত্রের পথ দেখিয়ে পুরস্কৃত তিন বিজ্ঞানী

সাব্বির রহমান খান, সুইডেন থেকে   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আণবিক যন্ত্রের পথ দেখিয়ে পুরস্কৃত তিন বিজ্ঞানী

মলিকুলার বা আণবিক মেশিন তৈরির পথ দেখিয়ে ২০১৬ সালে রসায়নে নোবেল জিতে নিয়েছেন তিন রসায়নবিদ। দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সের স্থায়ী সেক্রেটারি গোরান কে হ্যানসন বিশ্বের ক্ষুদ্রতম বা ন্যানো মেশিন উদ্ভাবনের এই চমকপ্রদ কাজের জন্য ফ্রান্সের জ্যঁ পিয়েরে সভেজ, স্কটল্যান্ডের স্যার জে ফ্রেশার স্টডার্ট ও নেদারল্যান্ডসের বার্নার্ড এল ফেরিঙ্গার নাম ঘোষণা করেন।

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মেশিনের নকশা তৈরি এবং তা উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দেন এই ত্রয়ী। এই আণবিক যন্ত্র নিয়ন্ত্রণযোগ্য, যা রাসায়নিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তি ও গতিতে রূপ দিতে পারে। তিন বিজ্ঞানী তা হাতে-কলমে করেও দেখিয়েছেন।

গোরান কে হ্যানসন বলেন, বিজ্ঞানী ত্রয়ীর এ অভূতপূর্ব উদ্ভাবন প্রযুক্তিগতভাবে রসায়নবিদ্যার একেবারে  প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের শেষ পরিণতি কী হতে পারে, তা অনুমান করা গেলেও সুনির্দিষ্টভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে হয়তো সুইচ থেকে আণবিক মোটর পর্যন্ত তৈরি করা যাবে।

কম্পিউটার প্রযুক্তির বৈপ্লবিক ক্রমান্নোয়নে ক্ষুদ্র-সংস্করণগুলোর মতোই নোবেল বিজয়ীরা মেশিনের ন্যানো বা ক্ষুদ্র-সংস্করণ উদ্ভাবন করে রসায়ন দুনিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করলেন। এরই মধ্যে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে, এই আণবিক মেশিন মানবকল্যাণে কী কী কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সের ব্রিফিং অনুষ্ঠান থেকে সরাসরি বার্নার্ড এল ফেরিঙ্গাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘রাইট-ব্রাদার্স যখন আকাশে প্রথম উড়োজাহাজ উড়িয়েছিলেন, সম্ভবত তাঁদের মতোই আজ আমার মনের অনুভূতি। আমি জানি না, এই ক্ষুদ্র মেশিন উন্নয়নের কাজ ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে বা আদৌ থামবে কি না। তবে এ  মুহূর্তে আমরা দেহের ভেতরে চলতে সক্ষম অতি ক্ষুদ্র রোবটের কথা ভাবতে পারি, যা কি না শরীরের অণু-পরমাণুতে পৌঁছে ক্যান্সার সেলগুলোকে খুঁজে খুঁজে বের করে মেরে ফেলবে। সায়েন্স ফিকশনের সেই কল্পিত চরিত্র এবার হয়তো সত্যি সত্যি তৈরি হয়ে যাবে।  

জ্যঁ পিয়েরে সভেজ ১৯৪৪ সালে প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গ ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি ওই ইউনিভার্সিটিতেই ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন।

স্যার জে ফ্রেশার স্টডার্ট ১৯৪২ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় জন্ম নেন। এডিনবরা ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৬৬ সালে তিনি পিএইচডি করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ-ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে রসায়নের বোর্ড অব ট্রাস্টি অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

বার্নার্ড এল ফেরিঙ্গা ১৯৫১ সালে নেদারল্যান্ডসের বার্জের-কম্পাকুমে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে রিকজ-ইউনিভার্সিটি গ্রোনিংগেন থেকে পিএইচডি করে বর্তমানে একই ইউনিভার্সিটিতে জৈব রসায়নের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

আগামী ১০ ডিসেম্বর পুরস্কারের জনক বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই তিন রসায়নবিজ্ঞানীর হাতে ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন, মানপত্র এবং স্বর্ণপদক তুলে দেওয়া হবে। প্রাইজমানি তিন বিজ্ঞানী সমান ভাগে ভাগ করে নেবেন।


মন্তব্য