kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রানিংমেটদের বিতর্ক

‘ট্রাম্পকে তাঁর রানিংমেটের কাছে শিখতে হবে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘ট্রাম্পকে তাঁর রানিংমেটের কাছে শিখতে হবে’

বিতর্কে প্রস্তুতির মূল্য কী হতে পারে তাই স্পষ্ট হয়ে গেল রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক পেন্সের পারফরম্যান্সে। ইন্ডিয়ানার গভর্নর পেন্সের কাছ থেকে এ বিষয়টি শিখতে পারেন ট্রাম্প।

গত মঙ্গলবারের বিতর্কে স্পষ্ট বিজয়ী হয়েছেন রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। তবে তার অর্থ এই নয় যে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের রানিংমেট ভার্জিনিয়ার সিনেটর টিম কেইনের বিতর্কে উপস্থিতি দুর্বল ছিল।

মজার বিষয় হলো, অতীতে বরাবরই দেখা যায়, মূল প্রার্থীরা তাঁদের দুর্বল রানিংমেট বাছাই নিয়ে সাফাই গাইছেন। তবে এবারই প্রথম একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী তাঁর দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মনোনীত প্রায় ডুবন্ত এক ব্যক্তিকে টেনে তোলার চেষ্টা করলেন।

গত মঙ্গলবার ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের লংউড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিতর্কে পেন্স ও কেইন গর্ভপাত থেকে শুরু করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রসঙ্গে বিতর্কে মেতে উঠলেও তাঁদের পরস্পরের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ট্রাম্প ও হিলারি।

৯০ মিনিটের এ বিতর্কে শুরু থেকেই শান্ত হিসেবে পরিচিত কেইন আক্রমণাত্মক ছিলেন। তবে দুজনের বিতর্ক যখন প্রায় কথাকাটাকাটির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তখন পেন্সকে অনেকটা স্থির মনে হয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে তাঁর অধীনে পরমাণু অস্ত্র নিয়ে বিপদ ঘটতে পারে, বিতর্কে এমন প্রসঙ্গ চলার সময় কেইন সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, রিগ্যান একবার সতর্ক করে বলেছিলেন, পরমাণু অস্ত্রের বিস্তারে ‘কিছু বোকা কিংবা উন্মাদকে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি’ সৃষ্টিতে ইন্ধন জোগাতে পারে। কেইনের দাবি, রিগ্যান ট্রাম্পের মতো কারো কথা বিবেচনা করেই ওই মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প প্রচার চলাকালে মন্তব্য করেন, বিশ্বে যত বেশি দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকবে এই অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি ততই কমবে। যদিও পরে তিনি এ বক্তব্য থেকে সরে যান। সাবেক বিশ্বসুন্দরীর সঙ্গে টুইটারে বাদানুবাদে জড়িয়ে ট্রাম্প নিজের ক্ষতি ডেকে এনেছেন বলে মন্তব্য করেন কেইন। এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রশংসা করে ট্রাম্পের করা মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, পুতিনই বিশ্বের সেরা নেতা। তবে পরে এ বক্তব্যও অস্বীকার করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ নীতি নয় বরং ট্রাম্পকে সুরক্ষা দেওয়াই বিতর্কে পেন্সের মূল কাজ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, ট্রাম্প আপনার বা হিলারির মতো বোদ্ধা রাজনীতিক নন। তিনি বলেন, হিলারি ‘অপমানের প্রচার’ চালাচ্ছেন। নারীদের সম্পর্কে ট্রাম্পের বিরূপ মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলা হলে পেন্স বলেন, ট্রাম্পের সমর্থকদের প্রসঙ্গে এর চেয়েও বাজে কথা বলেছেন হিলারি। হিলারি একবার বলেন, ট্রাম্পের অর্ধেক সমর্থক ময়লার ঝুড়ি। তিনি হিলারিকে দুর্বল ও নিস্তেজ বলেও মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের আয়কর ফাঁকির প্রসঙ্গ এলে পেন্স বলেন, ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী। দেশের আইনে বৈধ সুযোগগুলোই গ্রহণ করেছেন তিনি। এরপরই তিনি হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল বিতর্ক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দুর্বলতা তুলে ধরেন।

বিতর্ক শেষ হওয়ার পর সিএনএন-ওআরসির তাৎক্ষণিক জরিপে ৪৮ শতাংশ ভোটার বিতর্কে পেন্স জয়ী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে কেইনকে বিজয়ী বলেছেন ৪২ শতাংশ ভোটার, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্ক ভোটারদের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। এতে দর্শক সংখ্যাও কম থাকে। ফলে পেন্সের পারফরম্যান্স যতই ভালো হোক না কেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তা তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না।

আল গোর প্রচারে : হিলারির পক্ষে প্রচারে নামতে যাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর। দল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

‘ট্রাম্প কর আইন বোঝেন না’ : যে কারো চাইতে ট্রাম্প কর আইন অনেক ভালো বোঝেন এমন দাবি তিনি দীর্ঘদিন থেকেই করে আসছেন। তবে নব্বুইয়ের দশকে ট্রাম্পের আয়কর দেখাশোনাকারী আইনজীবী জ্যাক মিটনিক বলেছেন, কর আইন নিয়ে ওই সময় ট্রাম্পের খুব একটা আগ্রহ ছিল না। তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প বিষয়টি এখন খুব ভালো বোঝেন এমনটিও মনে করেন না তিনি। এটা বোঝার মতো সময় বা আগ্রহ তাঁর থাকার কথা নয়। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, এনবিসি, পলিটিকো।


মন্তব্য