kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চালকের কানে ফোন বাস খাদে, নিহত ৩

বগুড়ায় ৬ নারী, টাঙ্গাইলে ৪ জনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চালকের কানে ফোন বাস খাদে, নিহত ৩

মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বেপরোয়া গতিতে বাস চালাচ্ছিলেন চালক। বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানটিকে খেয়ালই করেননি তিনি।

সেই পিকআপের সঙ্গেই ধাক্কা লেগে বাসটি খাদে পড়ে যায়। এতে প্রাণ হারান দুই নারীসহ তিনজন। গতকাল বুধবার সুনামগঞ্জের ছাতকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

একই দিন আরো ছয় নারী প্রাণ হারিয়েছেন বগুড়ায় দুটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায়। টাঙ্গাইলে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত হয়েছেন চারজন।

সুনামগঞ্জে নিহত তিনজন হলেন জেলার শাল্লা উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের মৌসুমী রানী দাস (২২), দিরাই উপজেলার হাতিমপুর গ্রামের রাধা রানী দাস (৪৫) ও সিলেটের গোলাপগঞ্জের দত্তরাইল গ্রামের শামীম আহমদ (২২)।

বগুড়ায় নিহত ছয় নারীর মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ঢাকা মোহাম্মদপুরের ফজলুল করিমের স্ত্রী সৈয়দা মনোয়ারা, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কাগইল সুলতানপুর গ্রামের নইমদ্দিনের স্ত্রী জুলেখা, তাঁর মেয়ে ডলি, দিনাজপুর রামসাগর এলাকার লতিফুর রহমানের মেয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রী নীলা।

টাঙ্গাইলে নিহত চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন পাবনার বেড়া উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের সোহেল (৩৫), গাইবান্ধার সাঘাটা এলাকার সুজন (৩৮) ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার হাশিমপুর গ্রামের আবছার (৬০)।

সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির বিষয়টি সংসদেও আলোচিত হয়েছে। এমনকি মঙ্গলবারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকেও সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের জেলা শহরগুলোর যেসব স্থানে বিপজ্জনক মোড় রয়েছে সেগুলো যেন সংস্কার করে সোজা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত মাসে ঈদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৮ জনের প্রাণহানি হয়। সে সময় সড়কমন্ত্রী নিজেও বলেছেন দুর্ঘটনায় পাখির মতো মানুষ মরছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

সুনামগঞ্জ : দুপুর আড়াইটার দিকে ছাতকের জাতুয়া এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি ছাড়াও আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। তবে পিকআপ ভ্যানের কেউ হতাহত হয়নি। আহত যাত্রীদের বরাত দিয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, যাত্রীবাহী বাসটি সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ যাচ্ছিল। চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। জাতুয়া এলাকায় এসে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলতে শুরু করেন। কিন্তু গাড়ির গতি কমাননি। বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানটি সামনে পড়ে গেলে চালক আর বাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও এলাকাবাসী হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। বাসচালক পালিয়ে গেছেন। পুলিশ বাসটি হেফাজতে নিয়েছে।

জাউয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানান, বাসচালক গাড়ি চলন্ত অবস্থায় রেখেই মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। ঘটনাস্থলেই বাসের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাঁদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বগুড়া : দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলার কাশিপুর এলাকায় যাত্রীবাহী দুটি বাসের সামনাসামনি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ ছয় নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরো অন্তত ২০ জন। বাস দুটির একটি বগুড়া থেকে রংপুরে এবং অন্যটি রংপুর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আবুল বাসার জানান, নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহতদের মধ্যে সাত বছরের অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশু ও দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী উম্মে ছালমা টুনটুন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালটির পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহ আলম জানান, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। শিবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, বাস দুটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল : সকাল সোয়া ৬টার দিকে কালিহাতী উপজেলার জোগারচরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে একটি ট্রাকের চাকা ফেটে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ট্রাকটি পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হয়। আহত হয় আরো অন্তত ছয়জন। তাদের টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি আছাবুর রহমান জানান, ট্রাকটি সিমেন্ট নিয়ে ঢাকা থেকে বগুড়া যাচ্ছিল। তিনি আরো জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে চারজনের লাশ আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


মন্তব্য