kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

চালের দাম বাড়ছে

স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্ত বলছেন খাদ্যমন্ত্রী

আশরাফুল হক রাজীব   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চালের দাম বাড়ছে

আশ্বিনেই চালের বাজারে কার্তিকের প্রভাব। খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত।

একই অবস্থা পাইকারি পর্যায়েও। বাজার পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আশ্বিনেই যখন এ অবস্থা, কার্তিকে দর আরো চড়বে। সব কিছু মিলে সংশ্লিষ্টরা আবারও ‘মরা কার্তিক’ ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন।

তবে চালের দাম এখনো অসহনীয় পর্যায়ে যায়নি বলে মনে করেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, এ সময় চালের দর একটু বাড়েই। এটা নতুন কিছু নয়। তবে এতে স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তও আছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ভারত থেকে চাল আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আছে। সংশ্লিষ্টরা চাচ্ছেন তা তুলে দেওয়া হোক।

‘শুল্ক তুলে নিলে ভারত থেকে দেদার চাল আমদানি করে একটি মহল নিজেদের আখের গোছালেও দেশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমরা শুল্ক প্রত্যাহার করব না। এতে কৃষক ন্যায্য দাম পাবে। আর খোলাবাজারে চাল বিক্রির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে’—বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের গত মঙ্গলবারের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতিপত্রে বলা হয়েছে, মোটা চালের পাইকারি ও খুচরা মূল্য কিছুটা বেড়েছে। আর আটার পাইকারি মূল্য কিছুটা বাড়লেও খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের  পর্যবেক্ষণেই চালের দাম বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের বাজারদর পরিস্থিতিপত্রে যা বলা হয়েছে, বাস্তবে দাম বেড়েছে এর চেয়ে বেশি। গত এক মাসে মোটা চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ছয় থেকে আট টাকা। চিকন বা সরু চালের দামও বেড়েছে চার থেকে পাঁচ টাকা। খাদ্যশস্য পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট জানিয়েছে, গত রবিবার খুচরা বাজারে মোটা চাল বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৯ টাকা। রবিবার পাইকারি বাজারে মোটা স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৩৭ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ৩৬ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে ২.৫৬ শতাংশ।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানান, এক মাসে চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আশ্বিন-কার্তিকের প্রভাবে এতটা বাড়ার কথা নয়। স্বর্ণা চাল ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকায় পৌঁছেছে। এখনই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে আর ১০ দিন পর যখন কার্তিক শুরু হবে তখন কী হবে? কারণ কার্তিকজুড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের হাত শূন্য থাকে। বিশেষ করে গ্রামে এ সময়

কোনো কাজ থাকে না। এ সময়টা ‘মরা কার্তিক’ নামেও পরিচিত। অগ্রহায়ণের অর্ধেক গেলে তবে নতুন ধান কাটা হবে। তত দিন যদি দাম বাড়তেই থাকে, তাহলে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাপন খুবই কষ্টকর হয়ে যাবে। তিনি আরো জানান, চালের দাম এমন এক সময় বাড়ছে, যখন কৃষকের হাতে কোনো ধান নেই। এখন সব ধান চালকল মালিকদের কাছে। যখন কৃষকের কাছে ধান বা চাল থাকে তখন কিন্তু দাম বাড়ে না। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। কারণ ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষক কৃষিকাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খাদ্য মজুদ পরিস্থিতিও খারাপ, বিশেষ করে গতবারের তুলনায়। গত বছর ৩ অক্টোবর সরকারের গুদামে চাল ও গম মিলে খাদ্য মজুদ ছিল ১৫ লাখ ৯৩ হাজার টন। এবার সেটা ১০ লাখ ৩১ হাজার টনে নেমে এসেছে। গত বছর এ সময় ১২ লাখ ৬০ হাজার টন চাল ছিল। এখন সেটা সাত লাখ ৩৪ হাজার টন। এ জন্য তাঁরা ধান সংগ্রহের নীতিকে দায়ী করেছেন।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালে বোরো সংগ্রহ মৌসুমে ছয় লাখ টন ধান এবং ছয় লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রতি কেজি বোরো ধানের সংগ্রহ মূল্য ২৩ এবং চালের দাম ৩২ টাকা ঠিক করা হয়। পরবর্তী সময়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় একই দরে আরো আড়াই লাখ টন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সাড়ে আট লাখ টন চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়। এ পর্যন্ত ছয় লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৭ টন ধান এবং চার লাখ ৬৫ হাজার ১৭৮ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।  

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার খোলাবাজারে চাল বিক্রি ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই মধ্যে ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানোর কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া ভিজিএফ-ভিজিডি তো রয়েছেই।


মন্তব্য