kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুর্দিনে ট্রাম্প দূরত্ব বাড়ছে দলের সঙ্গেও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দুর্দিনে ট্রাম্প দূরত্ব বাড়ছে দলের সঙ্গেও

রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্দিন কাটছে না। আয়কর সংকট ঘাড়ে চেপে বসেছে, এর মধ্যেই তাঁর দাতব্য ফাউন্ডেশন নিয়ে খড়্গহস্ত হয়ে উঠেছে নিউ ইয়র্ক রাজ্য কর্তৃপক্ষ।

এমনকি দলের কাছ থেকেও তিনি আশ্রয় পাচ্ছেন না। শীর্ষপর্যা য়ের কোনো রিপাবলিকান নেতাই ট্রাম্পের পাশে নেই। ট্রাম্পের এ বেসামাল পরিস্থিতির শতভাগ ফায়দা নিচ্ছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। যার অব্যাহত প্রভাব পড়ছে জনমত জরিপগুলোয়। দুই প্রার্থীর মধ্যকার ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। পাল্লা ভারি হচ্ছে হিলারির পক্ষে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর) প্রথমবারের মতো বিতর্কের মঞ্চে ওঠেন দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। ট্রাম্প ও হিলারির দুই রানিংমেটের মধ্যে এটিই হলো একমাত্র বিতর্ক। ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক পেন্স তাঁর ডুবন্ত প্রার্থীকে টেনে কতটা কূলে তুলতে পারেন এবং হিলারির সঙ্গী টিম কেইন তাঁর প্রার্থীর অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে পারেন কি না সেটাই হবে তাঁদের সামনে থাকা প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এমনিতেই নানা বিবাদ-বিতর্কে ট্রাম্প পিছিয়ে পড়ছিলেন। এসবের সঙ্গে নতুন সংযোজন হিসেবে জানা গেছে, নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল এক নির্দেশে তাঁর দাতব্য সংস্থা ট্রাম্প ফাউন্ডেশনকে যেকোনো ধরনের সমাজসেবামূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। ওই নির্দেশে বলা হয়, আইন অনুসারে এই সংস্থার তহবিল সংগ্রহের তৎপরতা বৈধ নয়। কারণ ফাউন্ডেশনটি রাজ্যে নিবন্ধিত নয়।  

আগে থেকেই আয়করের ফাঁড়া ট্রাম্পের ঘাড়ে ছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস গত শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ব্যবসায় লোকসানের কারণে ১৯৯৫ সালে একবার ১৮ বছরের জন্য কর রেয়াত পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এই তথ্য ট্রাম্পের জন্য বিস্ফোরক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তথ্য হাতে পেতেই তা নিয়ে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ে হিলারি শিবির। গত সোমবার ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্য ওহাইয়োর টলেডোতে এক নির্বাচনী জনসভায় হিলারি বলেন, ‘আমার আপনার মতো লাখ লাখ আমেরিকান পরিবার কঠোর পরিশ্রম করে বরাবর ন্যায্য আয়কর প্রদান করে চলেছি। তবে ট্রাম্প সম্ভবত কিছুই দেননি। ভাবুন একবার বিষয়টি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর (ট্রাম্পের) দাবি, তিনি জিনিয়াস। এক বছরে শত কোটি ডলার খোয়ান তিনি। তাহলে তাঁকে জিনিয়াস বলা যায় কী করে?

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প এ পর্যন্ত চারবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন। এবং প্রতিবারই দেশের আয়কর আইনের সুযোগ নিয়েছেন তিনি।

আয়করের বিষয়টি এতটাই আলোচিত যে এ নিয়ে বারবার ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হচ্ছেন ট্রাম্প। গত সোমবার তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী হিসেবে আমি আমার, আমার প্রতিষ্ঠানের, কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য বৈধভাবেই আয়কর আইন ব্যবহার করেছি। আমি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজটি করেছি। ’ নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বিষয়ে এটিই ছিল ট্রাম্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য। তাঁর কথা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, সম্ভবত ওই একবারই ১৮ বছরের জন্য নয় বরং আরো কয়েকবার আইনের এ ধরনের ফাঁকফোকরের সুযোগ নিয়েছেন তিনি। বিষয়টি বৈধ। তবে নিজেকে সফল ব্যবসায়ী দাবি করে যে প্রচার ট্রাম্প চালাচ্ছেন সেটি তাঁর এ ধরনের কথাবার্তায় দুর্বল হয়ে পড়ে।

এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও দল থেকে সাহায্য পাচ্ছেন না ট্রাম্প। প্রচারের শুরুর দিকে  রিপাবলিকানরা যেমন ট্রাম্প থেকে দূরত্ব তৈরি করছিল, আবারও তেমনটি দেখা যাচ্ছে। প্রচারে সাহায্যের জন্য ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া রিপাবলিকান নেতা ছাড়া শীর্ষপর্যা য়ের কেউ তাঁর সঙ্গে নেই। ঠিক বিপরীত অবস্থা বিরাজ করছে ডেমোক্রেটিক শিবিরে। একসময় হিলারির সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরোধ সংবাদ শিরোণাম হয়েছে। এখন তিনিও সেসব ভুলে হিলারির পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। গত সোমবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, ‘ট্রাম্প লোক খারাপ নন। তবে তাঁর জ্ঞান খুব সীমিত। একজন প্রেসিডেন্ট রাত সাড়ে ৩টায় উঠে একজন নারী সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য টুইট করবেন—ভাবাই যায় না। ’

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররাও ট্রাম্পের পরিস্থিকে খুব একটা ভালোভাবে দেখছেন না। যার স্পষ্ট প্রভাব পড়ছে জরিপে। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। তাঁদের দুজনের মধ্যে সর্বনিম্ন পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্যগুলোতেও বাড়ছে। নানা পত্রিকা ও সংস্থার আয়োজিত জরিপে দেখা যায়। শুধু ওহাইয়ো ছাড়া ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনায় এগিয়ে আছেন হিলারি।

এদিকে গতকাল প্রথমবারের মতো ভাইস প্রেসিডেন্টদের টিভি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই প্রার্থীর ওপরই প্রচারের আলো প্রায় পড়েনি বললেই চলে। জরিপে দেখা যায়, ভোটারদের কাছে এই প্রার্থীরা প্রায় অচেনা। প্রথা অনুসারে, প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্কের চেয়েও বেশি উত্তাপ থাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্কে। যদিও এটি ভোটারদের মনোযোগ বা দর্শক পায় না। এবার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক পেন্স ট্রাম্পের আয়কর বিতর্ক কী করে মোকাবিলা করেন সেটাই দ্রষ্টব্য। আর হিলারির অবস্থান ধরে রেখেই লড়ে যেতে হবে টিম কেইনকে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, সিএনএন, পলিটিকো, এনবিসি।


মন্তব্য