kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মার্কিন সেনা হত্যার চেষ্টায় বাংলাদেশি যুবক অভিযুক্ত

এফবিআইয়ের ফাঁদে ধরা

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রে এক বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনা সদস্যকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির হায়াটসবিলের বাসিন্দা নিলাশ মোহাম্মদ দাস (২৪) নামের এই যুবক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সমর্থক বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট গত সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিলাশ মোহাম্মদ আইএসের হয়ে এক মার্কিন সেনাকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন। হামলার আগেই শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিলাশের বিস্তারিত পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি। আদালত ৬ অক্টোবর তাঁর ডিটেনশন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

নিলাশের বিরুদ্ধে শনিবার দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, তিনি এক মার্কিন সেনা সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন। ম্যারিল্যান্ড জেলার অ্যাটর্নি রব রসেন স্টেইন বিবৃতিতে বলেছেন, ‘হামলার আগেই সন্দেহভাজন বিপজ্জনক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা আমাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের কাছ থেকে আমেরিকানরা এটাই প্রত্যাশা করে এবং আমরা সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। ’

জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের তথ্যানুসারে, নিলাশ মোহাম্মদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইএসকে সমর্থন জানিয়ে এফবিআইয়ের নজরদারিতে আসেন। ওই সময় তিনি ফ্রান্সের প্যারিসে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান বারনারডিনোতে আইএসের হামলার প্রশংসা করেন। সর্বশেষ একজন পুলিশ ইনফর্মারের সহযোগিতায় এক বাক্স অস্ত্র কেনার সময় নিলাশকে ভার্জিনিয়ার কাছ থেকে আটক করা হয়। সোমবার আদালতে প্রাথমিক শুনানি শেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিশুকালে ১৯৯৫ সালে নিলাশ মোহাম্মদ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈধভাবেই ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাস করে আসছেন। গত বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের নজরদারিতে আসেন নিলাশ মোহাম্মদ দাস। তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইএসের হামলার প্রশংসা করে পোস্ট দিয়েছিলেন তিনি। এরপর অক্টোবরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী এক ব্যক্তির ছবি টুইট করে মন্তব্য লেখেন—‘এই ব্যক্তি মুসলিমদের হত্যায় উৎসাহ দেয়। ’ সেই ব্যক্তির ওপর হামলা চালাতে উৎসাহ জোগানোর পাশাপাশি নিলাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেন। জানুয়ারি মাসে তিনি একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেলের ছবি পোস্ট করে তা অভিহিত করেন ‘জান্নাতে যাওয়ার টিকিট’ হিসেবে। এফবিআই নজরদারির মাধ্যমে গত এপ্রিলে জানতে পারে, নিলাশ হ্যান্ডগান পাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তিনি নিয়মিত শ্যুটিং অনুশীলন করছেন এবং অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে ফিঙ্গার প্রিন্ট জমা দিয়েছেন বলে জানা যায়। মে মাসে নিলাশ মোহাম্মদের পরিচয় ঘটে এফবিআইয়ের আন্ডারকভার এজেন্টের (সোর্স) সঙ্গে। বিদেশে আইএস সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এবং এক মার্কিন সেনাকে হত্যা করতে চান বলে নিলাশ তাঁকে জানান। এফবিআই সোর্স নিলাশকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং তিনিও আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন বলে জানান।

গত সেপ্টেম্বরে নিলাশ এফবিআই সোর্সসহ অস্ত্র কিনতে বের হন। ভার্জিনিয়ার একটি অস্ত্রের দোকানে তাঁরা যান এবং নাইন এমএম ও পয়েন্ট ফোরটি ক্যালিবারের গুলি কেনেন। এফবিআই এজেন্ট নিলাশকে মার্কিন সেনার ভুল ঠিকানা দেন এবং কৌশলে অস্ত্র অচল করে দেন। মূলত স্টিং অপারেশনের মাধ্যমে নিলাশকে আটক করে এফবিআই। এজেন্টসহ নিলাশ মোহাম্মদ মার্কিন সেনার ঠিকানায় পৌঁছে যখন গাড়ি থেকে নামেন ঠিক তখনই এফবিআই সদস্যরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। এরপর আটক করে তাঁকে তথ্য-প্রমাণসহ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

এর আগে ২০১২ সালের অক্টোবরে কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিজ নামের বাংলাদেশি এক যুবককে স্টিং অপারেশনের মাধ্যমে এফবিআই গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করেছিল। জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাসংশ্লিষ্টতায় নাফিস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন বলে সে সময় অভিযোগ করা হয়। তাঁকেও অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহে এফবিআই এজেন্ট সহযোগিতার পাশাপাশি নিজেকে একই মতাদর্শের বলে পরিচিত করেন। সমালোচিত হলেও স্টিং অপারেশনের এ কৌশল এফবিআই দীর্ঘদিন ধরেই অনুসরণ করে আসছে।


মন্তব্য