kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফল খারাপ ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের চিন্তা

আজিজুল পারভেজ   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফল খারাপ ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের চিন্তা

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় শূন্য পাস, পাঁচজনের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি; মানহীনতার কারণে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে—এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শাস্তি হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমপিও (বেতনের সরকারি অংশ) বাতিল করা হতে পারে।

গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মাত্র পাঁচজন (১০ জনও হতে পারে) শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলে অভিমত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। যেসব কলেজ কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী সংখ্যার অর্ধেক বা মোট আসনের এক-চতুর্থাংশও শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানেরও এমপিও বন্ধের ব্যাপারে মত দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী।

জানা যায়, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। গত বছর এ রকম প্রতিষ্ঠান ছিল ৪৭টি। এইচএসসি পরীক্ষায় এ বছর ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করতে পারেনি, গত বছর এ রকম প্রতিষ্ঠান ছিল ৩৫টি। এর আগে কখনোই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সারা দেশে মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের অভাব প্রকট। কলেজ পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পড়ালেখার মান না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোতে একাদশে ভর্তির জন্য ২১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫টি আসন রয়েছে। আর এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৬০৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১৩ লাখ এক হাজার ৯৯ জন কলেজ-মাদ্রাসায় ভর্তির আবেদন করে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্যানুসারে, এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ৪৮টি কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে একটি আবেদনও জমা পড়েনি। ১০টির কম আবেদন জমা পড়েছে ২৯৫টি কলেজে। ২০টির কম আবেদন জমা পড়েছে ৬৯৪টি প্রতিষ্ঠানে, এর মধ্যে কারিগরি কলেজ সর্বাধিক, ৩৮৯টি। আর মাদ্রাসা রয়েছে ২৩৫টি। অন্যগুলো সাধারণ কলেজ। যদিও এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমপিওভুক্তির বাইরেও কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, দেশে বর্তমানে ২৬ হাজার ৯০টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার ৫২৭টি সাধারণ কলেজ, কারিগরি কলেজ ও মাদ্রাসা আছে। নিয়ম অনুসারে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে না পারায় দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন এ পরিমাণ শিক্ষার্থী নেই বলে জানা গেছে। এমনকি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষকের সংখ্যাই বেশি। পড়ালেখার চেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির ব্যবস্থা করতেই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


মন্তব্য