kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অবশেষে স্কুলের জমি দখলমুক্ত

লড়াকু সেই ১৫ ছাত্রীর বিজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ও পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লড়াকু সেই ১৫ ছাত্রীর বিজয়

১৫ ছাত্রীর অদম্য লড়াইয়ের পর অবশেষে পটুয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার মেয়র সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করে ৬ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার করে।

এরপর জমির ওপর লাল নিশান উড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার স্কুলের ছাত্রীরা অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।  

গত ১ অক্টোবর কালের কণ্ঠ’র শেষ পাতায় ‘স্কুলের জমি দখল রোধে ১৫ ছাত্রীর লড়াই’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরের দিন এই বিষয়ে সম্পাদকীয় লেখা হয়। এরপর সরকারি পুকুর ও জমি দখলমুক্ত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থানীয় প্রশাসন।

জমি দখলমুক্ত হওয়ার পর লড়াকু ওই ছাত্রীরা প্রতিক্রিয়ায় বলে, ‘জমি উদ্ধার ও স্কুলের ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ বদ্ধ হওয়ায় আমরা আনন্দিত। যেকোনো অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারলেই তা বন্ধ করা সম্ভব। আমরা তার প্রমাণ দেখিয়েছি। জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়রের পাশাপাশি কালের কণ্ঠ আমাদের লড়াইয়ে শামিল হয়েছে। আমরা সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। ’  

পটুয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবাস চন্দ্র শীল বলেন, ‘ছাত্রীদের পাশাপাশি কালের কণ্ঠ’র বিশেষ ভূমিকার জন্য আমরা দখল হওয়া জমি ফিরে পেয়েছি। শুধু তাই নয়, স্কুলের ভেতর দিয়ে নির্মিত হওয়া রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। ’ 

জানা যায়, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক গাজী হাফিজুর রহমান সবিরের ভাইয়ের বাড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে। তাঁর ভাইয়ের নাম সাঈদুর রহমান গাজী। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সেই বাড়িতে যাওয়ার পথ তৈরি করতে সরকারি পুকুরসহ বালিকা বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা শুরু করেন আওয়ামী লীগ নেতা সবির। টিনের সীমানা দিয়ে দখলে নেন সরকারি জমি। এসব নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক সিদ্দিকী ও পৌর মেয়র ডা. শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ৬ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করেন। উদ্ধার করা সরকারি ওই জমিতে খুঁটি পুঁতে লাল নিশান উড়িয়ে দেওয়া হয়। জমি উদ্ধারের পরপরই স্কুলের শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা কালের কণ্ঠ’র ভূমিকার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে।

এ সময় জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক সিদ্দিকী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই লাল নিশানের মধ্যে যদি কেউ কোনো নির্মাণকাজ পরিচালনা করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমিটি উদ্ধার করা হয়েছে। ’

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্ধারকৃত জমিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে সীমানা প্রাচীর করে দেওয়া হবে এবং পুকুরটি খনন করে তা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারোপযোগী করে দেওয়া হবে। ’ এ সময় জেলা প্রশাসক ও মেয়র সরকারি পুকুরটি বিদ্যালয়ের মালিকানার জন্য প্রধান শিক্ষক সুবাস চন্দ্র শীলকে লিখিত আবেদন করতে বলেন।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক সিদ্দিকী মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্কুলের জমি দখল নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তা উদ্ধারে প্রশাসন তৎপর হয়। তারই অংশ হিসেবে স্কুলের জমি উদ্ধার করার পাশাপাশি তা দখল রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জমি দখল রোধে ছাত্রীরা যে ভূমিকা রেখেছিল, তা প্রশংসনীয়। আগামীতে তাদের এই সামাজিক দায়বদ্ধতা অপরদের অনুপ্রাণিত করবে। ’   


মন্তব্য