kalerkantho


সৌদিতে হিজরি সন ধরে বেতন দেওয়ার রীতি বাতিল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সৌদিতে হিজরি সন ধরে বেতন দেওয়ার রীতি বাতিল

হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আর বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না সৌদি আরবের সরকারি চাকরিজীবীরা। এখন থেকে তাঁদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে। সরকারের ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে মাসে কর্মদিবস বাড়ানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার সৌদি আরবের বিভিন্ন গণমাধ্যম এ খবর প্রচার করে।

ইংরেজি দৈনিক সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহেই সৌদি সরকারের মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত নেয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারের জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। চলতি অক্টোবর মাসের ১ তারিখ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস তেল রপ্তানি। কিন্তু দুই বছর ধরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস নামায় সরকার চাচ্ছে ব্যয় কমাতে এবং অর্থনীতিকে নতুন করে সাজাতে।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে চান্দ্র মাসের হিসাবে হিজরি বর্ষ প্রবর্তন করা হয়। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে হিজরি বর্ষের মাস হয় ২৯ অথবা ৩০ দিনে। ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয় চান্দ্র বর্ষ বা হিজরি বর্ষ। এ কারণে গ্রেগরিয়ান বর্ষের চেয়ে হিজরি বর্ষ ছোট।  

খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহের মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রীদের বেতন ২০ শতাংশ হ্রাস এবং নিম্নপদস্থ সরকারি কমচারীদের বেতন আটকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সৌদি আরবে সরকারি চাকরিজীবীরা বেসরকারি খাতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেতন পান। অথচ বেসরকারি খাতের চেয়ে সরকারি চাকুরেদের কর্মঘণ্টা কম এবং ছুটির পরিমাণ বেশি।

গত এপ্রিলে সৌদি বাদশাহর ছেলে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সুদূরপ্রসারী ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সৌদি অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যে তিনি এ পরিকল্পা গ্রহণ করেন। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বিদ্যমান ব্যয় ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা। সূত্র : এএফপি।

 

 


মন্তব্য