kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রিমান্ডে দেওয়া তথ্য

মাঠপর্যায়ে নাশকতার ছক পৌঁছাতেন কামরান

বগুড়ায় কয়েকজনের আত্মসমর্পণ কাল

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মাঠপর্যায়ে নাশকতার ছক পৌঁছাতেন কামরান

পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে সালাউদ্দিন কামরান জানিয়েছেন, কানাডা থেকে ফেরার পর দেশে ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে নব্য জেএমবি গঠন করেন তামিম আহমেদ চৌধুরী। নাশকতার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মাঠ পর্যায়েরে কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে তামিম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কিছু ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৈরি করেন, যাদের মধ্যে কামরানও ছিলেন।

তিনি তামিমের নাশকতার পরিকল্পনাসহ সব ধরনের তথ্য নব্য জেএমবির মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিটের এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।   

কামরানকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে টঙ্গী স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি ইউনিট। পরের দিন তাঁকে আদালতে হাজির করে ছয় দিনের রিমান্ডে (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজত) নেওয়া হয়।

এদিকে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িয়ে পড়া অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন। যশোরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের সদস্য তিন ভাইবোন গতকাল সোমবার সকালে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর পলাতক যে ১১ জঙ্গির ছবি, নামসহ পোস্টার প্রকাশ করেছিল যশোর পুলিশ তাতে ওই তিনজনেরও ছবি ও নাম ছিল। এর আগে আগস্টে দুই দফায় হিযবুত তাহ্রীরের চার সদস্য যশোর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে র‌্যাবও। আগামীকাল ৫ অক্টোবর প্রথম দফায় বগুড়া জেলা সদরে কয়েকজন জঙ্গি সদস্যকে র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করবেন অভিভাবকরা। র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানিয়েছেন। জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ উপলক্ষে বগুড়া পুলিশ লাইনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে র‌্যাব-১২-এর উদ্যোগে। এতে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি ও র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

র‌্যাব মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, আত্মসমর্পণের সুযোগ যারা গ্রহণ করবে তাদের দেখভাল করবে র‌্যাব। আর যারা এই সুযোগ নেবে না তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।  

সিটিটিসি ইউনিট সূত্র মতে, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শিয়ালকোটে জন্ম নেওয়া সালাউদ্দিন কামরান জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের খরচ চালানোসহ সব ধরনের দেখভালের দায়িত্ব তামিম নিয়েছিলেন। অন্যদের চেয়ে তাঁকে তিনি বেশি বিশ্বাস করতেন। গত এপ্রিল মাস থেকে কামরান পরিবার থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন। নব্য জেএমবিতে যোগ দেওয়ার পর মাঝেমধ্যে তিনি টাঙ্গাইলে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করতেন। তামিম ধরা পরার তিন দিন আগে মা নুরুন্নাহারের সঙ্গে দেখা করতেই নারায়ণগঞ্জ ত্যাগ করেন কামরান।   

সিটিটিসি ইউনিটের উপকমিশনার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম জানান, তামিম আহমেদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন কামরান। তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।


মন্তব্য